নামাজ ভাঙ্গা প্রধান কারণ গুলো এবং সমাধান
নামাজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। এটি শুধু দৈনিন্দ্য ধর্ম কর্ম নয় বরং হৃদয়কে শান্তি এবং আত্মাকে শুদ্ধ করার এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। নিয়মিত নামাজ মানুষকে আল্লাহর সাথে সংযুক্ত রাখে এবং জীবনে শৃঙ্খলা ও মনোযোগ তৈরি করে।
তবে অনেক সময় মানুষ অজান্তে বা বিভিন্ন কারণে নামাজ ভেঙ্গে ফেলে। এটা শুধু দৈনন্দিন জীবনের সমস্যা সৃষ্টি করে না। পরকালে জীবনের জন্য সতর্কবার্তা। তাই আজ আমরা আলোচনা করব নামাজ ভাঙ্গার প্রধান কারণ সমূহ এবং তাদের কার্যকর সমাধান।
শারীরিক কারণে নামাজ ভাঙ্গা
বাস্তব জীবনে আমরা অনেক সময় রোগ, ব্যথা বা অতিরক্ত ক্লান্তির কারণে নামাজ ঠিক
মতন পড়তে পারি না। অফিস বা স্কুলের দীর্ঘদিন ব্যাপী কাজ করার পরে মানুষ ক্লান্ত
হয়ে পড়ে। এটা কেবল অলসতা নয় বরং মানুষের দৈহিক সীমাবদ্ধতা ও স্বাভাবিক
দুর্বলতার ফলাফল। আবারো অনেকে স্কুল অফিস যাত্রা করা মানুষ সকালে ঘুম থেকে ওঠার
পর শারীরিকভাবে ক্লান্ত। সকালে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে কাজ বা পড়াশোনা চাপ থাকে। এ
ক্লান্তির কারণে অনেক সময় নামাজ পড়া অসম্ভব মনে হয়।
দীর্ঘ সময় বসে কাজ করে যেমন কম্পিউটার ব্যবহারকারীরা বা ড্রাইভার তাদের পিঠ,
হাটুর বা কোমরের ব্যথা থাকলে স্থায়ীভাবে সোজা হয়ে নামাজ পড়া কষ্টসাধ্য হয়ে
ওঠে। অসুস্থ ব্যক্তি যেমন জ্বর, ঠান্ডা, গ্যাস্ট্রিক সমস্যা বা পেটব্যথা থাকা
অবস্থায় দাঁড়িয়ে বা সোজা হয়ে নামাজ পড়া শক্তি হয় না। আল্লাহ আমাদের
দুর্বলতা ও শারীরিক সীমাবদ্ধতা জানেন কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, আল্লাহ তোমাদের জন্য
কোন কষ্ট সৃষ্টি করতে চাই না তিনি তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সহজ পথ দেখান।
আরো পড়ুনঃ
আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশন ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কোর্স
হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি অসুস্থ বা যাত্রা পথে আছে সে সহজ ভাবে নামাজ পড় তে
পারে। এটি নির্দেশ করে যে মানুষ শারীরিক সমস্যা ও অসুস্থতার নামাজ ত্যাগ করার নয়
বরং উপযুক্ত সহজ করে নেয়ার সুযোগ দেই। যেমন দাঁড়াতে না পারলে বসে নামাজ
পড়া, বসেও নামাজ রুকু ও সেজদা করা। যদি বসেও কষ্ট হয় তবে শুয়ে নামাজ পড়ার
অনুমতি।
আবার কিছু বাস্তব পরিস্থিতিতে নামাজ ভেঙ্গে যেতে পারে। নামাজের মাঝখানে হঠাৎ মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়ার ফলে নামাজ ভেঙ্গে যেতে পারে।বলতে পারব না তীব্র ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়াটবমি বা শরীরের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে।এ অবস্থায় নামাজ ভেঙ্গে গেলে গুনাহ হয় না কারণ এটা ইচ্ছাকৃত নয় বরং শরীরের অসহায়তা। অনেক মানুষ মনে করে ব্যথা থাকলে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে হবে বা বসে নামাজ পড়লে নামাজ হবে না। এগুলো ভুল ধারণা ইসলামে কখনো মানুষের শরীরকে কষ্ট দিয়ে ইবাদত করতে বলে না।
মানসিক ও মনোযোগজনিত কারণ
মানুষ শুধু শরীর নিয়ে গঠিত নয় মানুষের একটি মন আছে. এমন কখনো শান্ত থাকে আবার
কখনো অস্থির হয়ে যায়. এ বাস্তব জীবনে দেখা যায় মানুষ শারীরিকভাবে নামাজ পড়তে
সক্ষম হল মানসিক অস্থিরতা ও মনোযোগের অভাবে নামাজ ঠিকভাবে আদায় করতে পারে না.
কখনো নামাজ শুরু করে মাঝখানে মন এতটাই বিচলিত হয়ে পড়ে যে নামাজ ভেঙ্গে যায় বা
গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে। নামাজ পড়ার মাঝখানে এমন সব চিন্তা চলে আসে
যে নামাজ ভুল হয়ে যায়।
- আমাদের আশপাশে মানুষের জীবন এমন ঘটনা খুবই সাধারণ। কেউ বড় ঋণের চিন্তায় আছে, নামাজে দাঁড়ালে মন শুধু হিসাব নিকাশে ঘুরে বেড়ায়। কেউ পারিবারিক ঝামেলা বা দাম্পত্য সমস্যায় ভুগছে। নামাজের তাকবির বলার পরে মন সেই কথা দেয় আটকে থাকে। কেউ পরীক্ষার ভয় বা চাকরির অনিশ্চয়তায় এতটাই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত যে নামাজে মন বসে না। মোবাইল, সোশ্যাল মিডিয়া ও কাজের চাপের কারণে মন সারাক্ষণ অস্থির থাকে। নামাজে দাঁড়ালে ফোনের নোটিফিকেশন মনে পড়ে। এ অবস্থায় অনেকে মনে করেন আমার নামাজ ঠিক হচ্ছে না কেউ কেউ এমন ভাবে এই নামাজ আল্লাহ কবুল করবে না।
- কোরআনে আল্লাহ তায়ালা নামাজ মনোযোগ বা খুশির থাকার গুরুত্ব স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করেছেন নিশ্চয়ই সকল সেই মুমিনরা, যারা তাদের নামাজের বিনিময় ও মনোযোগ বজায় রাখে। এখানে আল্লাহ আদর্শ নামাজের কথা বলেছেন। তবে এটা বোঝাই না যে মনোযোগ না থাকলে নামাজ বাতিল হয়ে যায়। এটি একটি লক্ষ্য যেদিকে একজন মুসলিম ধীরে ধীরে পৌছাবে। আরেক জায়গায় আল্লাহু বলেন আল্লাহ মানুষের অন্তরের কথা ও জানেন। অর্থাৎ মানুষের মনের দুর্বলতা আল্লাহর কাছে অজানা নয়।
- রাসূলুল্লাহ (সাঃ) জানতেন, মানুষ নামাজে দাঁড়ালে শয়তান মনকে বিভ্রান্ত করে। হাদিসে এসেছে শয়তান নামাজের সময় মানুষের কাছে এসে বলে এই কথা মনে করো, ওই কথা মনে করো যতক্ষণ না মানুষ ভুলে যায় সে কত রাকাত পড়েছে। এ হাদিসে প্রমাণ করে মনোযোগ নষ্ট হওয়া নতুন কিছু নাই এটা সাহাবীদের যুগে ছিল। এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার হওয়া দরকার ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ ছেড়ে দেওয়া গুনাহ। কিন্তু অনিচ্ছাকৃত মনোযোগ ও নষ্ট হওয়া গুনাহ নয়।
- যদি কেউ মানসিক চাপে নামাজ মনোযোগ হারায় তাতে নামাজ বাতিল হয় না তবে নামাজের পূর্ণ সওয়াব কমে যেতে পারে।মানসিক অস্থিরতা থেকে নামাজ ভেঙ্গে যাওয়ার কারণ হলো অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা ও উদ্বিগ্ন, পারিবারিক ও আর্থিক চাপ, মোবাইল ও দুনিয়ায় আসক্ত, নামাজের অর্থ না বোঝা বা তাড়াহুড়া করে নামাজ পড়া। তাই নামাজ ভেঙ্গে যায় এমন সব কাজ করা থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকা। এবং ভুল হয়ে গেলে তার সাথে সাথে সংশোধন করা।
দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা
আজকের জীবনে মানুষ আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যস্ত। কাজ, পড়াশোনা, পরিবার, দায়িত্ব
সব মিলে মানুষের দিন প্রায় শেষ হয়ে যায়। এই ব্যস্ততার মাঝে অনেক সময় নামাজ
শুরু করা যায় না আবার শুরু করল মাঝপথে ছুটে যেতে হয়। বাস্তব জীবনে এই দৃশ্য
খুবই পরিচিত। একজন অফিস কর্মী জোহরের নামাজ পড়তে দাঁড়ালে হঠাৎ বস ফোন
করলেন বা জরুরী মিটিং ডেকে পাঠালেন। একজন দোকানদার নামাজ শুরু করলেন কিন্তু
ক্রেতা আশায় মাঝপথে নামাজ ভেঙ্গে দোকানে ফিরতো হলো।
- একজন গৃহিনী নামাজে দাঁড়াতে হঠাৎ ছোট শিশুর কান্না শুরু হলো তাকে সামলাতে গিয়ে নামাজ ভেঙ্গে গেল। একজন শিক্ষার্থী পড়ার চাপ ও ক্লাসের সময়ের কারণে নামাজ শেষ করার আগে তাড়াহুড়া করতে বাধ্য হলো। এই অবস্থাগুলো ইচ্ছাকৃত অবহেলা নয় বরং দায়িত্ব ও বাস্তবতার চাপ। আল্লাহ তাআলা জানেন যে মানুষ দুনিয়ার কাজে ব্যস্ত থাকবে তাই কোরআনে তিনি বলেন, হে মুমিনগণ তোমাদের সম্পদ ও সন্তান যেন তোমাদের আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফিল না করে। এ আয়াতে প্রমাণ করে, ব্যস্ততা থাকবে কিন্তু সেই ব্যস্ততা যেন নামাজ ও আল্লাহর স্মরণ থেকে পুরোপুরি দূরে না সরিয়ে দেয়।
- আর এক জায়গায় আল্লাহু বলেন, নামাজ নির্ধারিত সময়ে মুমিনদের ওপর ফরজ করা হয়েছে। ব্যস্ততার মাঝেও নামাজের একটি নির্দিষ্ট সময় আছে যা গুরুত্বের সাথে দেখা দরকার। রাসুল (সাঃ) ছিলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যস্ত মানুষ, রাষ্ট্র পরিচালনা, যুদ্ধ, পরিবার, সাহাবীদের শিক্ষা সব ছিল তার দায়িত্ব। তবুও তিনি নামাজ কখনো গাফলাতে করেনি। হাদিসে এসেছে, কিয়ামতের দিন বান্দা সর্বপ্রথম হিসাব নেওয়া হবে নামাজের। ব্যস্ততা কোন অজুহাত নাই বরং নামাজে ব্যস্ত জীবনে কেন্দ্র হওয়া উচিত।
- কিছু বাস্তব পরিস্থিতিতে নামাজ ভেঙ্গে যাওয়ার শরীয়ত সম্মত হতে পারে। আগুন লাগা বা দুর্ঘটনার আশঙ্কা। শিশু জীবন বা নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়া বা কারো গুরুতর বিপদ দেখা দিলে। এ অবস্থায় নামাজ ভেঙ্গে গেলে গুনাহ হয় না. কারণ জীবন রক্ষা শরীয়তের অন্যতম লক্ষ্য। তবে কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ না পড়ে তাহলে গুনাহ হবে।
- ইসলাম বাস্তবতাকে গুরুত্ব দেই কিন্তু অভ্যাসগত অবহেলা গ্রহণ করে না। দৈনন্দিন জীবনে ব্যস্ততা বাস্তব এবং অস্বীকার করার মত নয়। কিন্তু ইসলাম চায় ব্যস্ততার মাঝেও নামাজ যেন ভেঙে না যায় বরং নামাজি জীবনের ছন্দে ঠিক করে দেয়। নামাজ ব্যস্ত জীবনের বোঝা নয় বরং দিক নির্দেশনা। যে ব্যক্তি নামাজকে সময় দেয় আল্লাহ তার সময়ে বরকত দেন।
জ্ঞান ও অজ্ঞানতার কারণে নামাজ ভাঙ্গা
অনেক সময় মানুষ ইচ্ছা করে নয় বরং নামাজের সঠিক নিয়ম না জানার কারণে নিজের
নামাজ নষ্ট করে ফেলে। এটি আমাদের সমাজে খুব সাধারণ একটি চিত্র। গ্রামে সাধারণ
মানুষ থেকে শুরু করে শহরের ব্যস্ত মানুষ অনেকেই মনে করেন মন থেকে পড়লে নামাজ
হয়ে যায়। অথচ নামাজ শুধু মন থেকে পড়া নাই বরং নির্দিষ্ট নিয়ম
ও শর্ত মেনে আদায় করা একটি ইবাদত। অনেকে জানেন না নামাজে কোন কাজ ফরজ,
কোনটা ওয়াজিব আর কোনটা সুন্নত। হলে তারা অজান্তে এমন কাজ করে বসে যা নামাজ
ভেঙ্গে দেই। যেমন রুকু বা সেজদায় ঠিক মত স্থির না থাকা। তাড়াহুড়া করে নামাজ
পড়া এবং তাশাহহুদ না পড়ে উঠে যাওয়া।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এক ব্যক্তিকে নামাজ পড়তে দেখে বলেছিলেন, ফিরে যাও তুমি নামাজ
পড়নি। এ হাদিস থেকে বোঝা যায় শুধু দাঁড়ানো বা বসা করলে নামাজ সহি হয় না
সঠিক পদ্ধতি জানা জরুরী। অনেকে ঠিক মতন জানে না কোন কোন কারণে ওযু ভেঙ্গে যায়।
ফলে নামাজের মাঝখানে বা নামাজ শুরু করার আগে ওযু নষ্ট থাকা অবস্থায় নামাজ
পড়ে ফেলে। বাস্তবে এমন অনেক মানুষ আছে যারা ভাবে অজু তো আছে কিন্তু শরীয়তে
অনুযায়ী তা আর থাকে না।
আরো পড়ুনঃ
মেয়েদের ইসলামিক নাম
আর কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে মুমিনগণ তোমরা যখন নামাজে দাঁড়াতে চাও তখন
তোমাদের মুখমন্ডল ও হাত ধুয়ে নাও। নামাজ গ্রহণযোগ্য নয় পবিত্রতা ছাড়া। অনেক
লোক আছে যারা একটা ভুল ধারণা নিয়ে আছে নামাজ সম্পর্কে। আবার কেউ কেউ লোকের মুখের
কথা অনুসরণ করে থাকে। আমাদের সমাজে অনেকেই নামাজের নিয়ম শেখে লোকের মুখে কথা
শোনা থেকে। অথচ সেগুলো অনেকটা ভুল বা অসম্পূর্ণ। যেমন একবার ভুল হলে নামাজ হয়ে
গেছে বা মন পরিষ্কার থাকলেই চলবে। এসব ভুল ধারণা মানুষকে ধীরে ধীরে নামাজ থেকে
গাফেল করে তোলে।
অনেকে নামাজ শেখার আগ্রহের অভাব রয়েছে। বর্তমানে বাস্তব জীবনে অনেক মানুষ আছে
যারা ছোটবেলা থেকে নামাজ পড়ছে কিন্তু কখনো ভাবি নি আমি কি ঠিকভাবে নামাজ পড়ছি।
এই শেখার আগ্রহের অভাবে নামাজ ভাঙ্গার বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। রাসূলুল্লাহ (সাঃ)
বলেছেন, তোমরা নামাজ পড়ো যেমন ভাবে আমাকে নামাজ পড়তে দেখো। এই হাদিসে আমাদের
শেখায় নামাজ শিখো, বুঝো ও সঠিক নিয়মে আদায় করা অপরিহার্য।
প্রলোভন ও তাড়াহুড়া কারণে নামাজ ভাঙ্গা
বর্তমান সময়ে নামাজ ভাঙ্গার একটি খুবই বাস্তব ও সাধারণ কারণ হলো প্রলোভন ও তাড়াহুড়া করা। মানুষ জানে নামাজ পড়া ফরজ তবুও দুনিয়ার কাজ, মোবাইল, ব্যবসা খাবার কিংবা মানুষের ডাক এসবের টানে নামাজকে হালকা করে ফেলে। ফলে নামাজের মধ্যে এমন কাজ করে বসে যা নামাজের খুশু খুজু নষ্ট করে দেয়। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে নামাজ ভেঙ্গে যায়। অনেক মানুষ আযানের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাবে এ কাজটা শেষ করে তারপর নামাজ পড়বো। কিন্তু কাজ শেষ হতে হতে নামাজের সময় প্রায় শেষ হয়ে যায়। তখন তাড়াহুড়া করে নামাজ পড়ে। রুকু সিজদা ঠিক মত আদায় হয় না দাঁড়ানো ঠিকভাবে স্থির থাকে না।
এভাবে নামাজ পড়া বাহ্যিকভাবে নামাজ মনে হল প্রকৃতি অর্থে তা পরিপূর্ণ নামাজ হয় না। রাসুল (সাঃ) বলেছেন, সবচেয়ে নিকৃষ্ট চোর হলো সে যে নিজের নামাজ থেকে চুরি করে। সাহাবিরা জিজ্ঞাসা করলেন কিভাবে নামাজ থেকে চুরি করে তিনি বললেন, রুকু ও সেজদা ঠিকমতো আদায় না করা।আজকের বাস্তব জীবনে মোবাইল ফোন একটা বড় প্রলোভন। নামাজ শুরু করার আগে ফোন হাতে রাখা, নোটিফিকেশন বন্ধ না করা এসব কারণে নামাজের মধ্যে মন ছুটে যায়।
অনেক সময় ফোন বেজে উঠলে নামাজ ভেঙ্গে ফোন ধরার মতো কাজও করে ফেলে মানুষ যা নামাজ নষ্ট করে দেয়। কোরআনে আল্লাহ তা'আলা বলেন, নিশ্চয়ই মুমিনরা সফল যারা তাদের নামাজের বিনয়ী। অনেক মানুষ আছে যারা প্রচন্ড ক্ষুধা অবস্থায় নামাজে দাঁড়ায়। এতে করে সামনে খাবার প্রস্তুতি মন পড়ে থাকে খাবারের দিকে।
ফলে নামাজ শেষ করার প্রবণতা বেশি আছে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, খাবার উপস্থিত থাকলে এবং প্রসাব পায়খানার চাপ থাকলে নামাজ পড়া যাবে না। আবার নামাজের মধ্যে কেউ ডাক দিলে অনেকে সঙ্গে সঙ্গে সাড়া দেয় বা নামাজ ভেঙ্গে ফেলে যদিও জরুরি প্রয়োজন ছাড়া নামাজ ভাঙ্গা উচিত নয়। সামাজিক লজ্জা ও মানুষের কথা ভেবে নামাজকে হালকা করা আমাদের সমাজে খুব পরিচিতি দৃশ্য।
নামাজ ভাঙ্গার প্রভাব ও শাস্তি
নামাজ ভাঙ্গা শুধু একটি ইবাদত নষ্ট হয় না বরং এর প্রভাব ধীরে ধীরে মানুষের ঈমান, চরিত্র ও জীবনে শান্তির ওপর গভীর ছাপ ফেলে। অনেক মানুষ এটাকে হালকা বিষয় মনে করে আজ না হয় ঠিক মতন হলো না কিন্তু ইসলামে নামাজ ভাঙ্গা বা অবহেলা করা মোটেও হালকা কোন বিষয় নয়। নামাজ হলো বান্দা ও আল্লাহর মধ্যে সরাসরি সম্পর্কের মাধ্যম। যখন কেউ বারবার নামাজ ভেঙ্গে ফেলে বা গুরুত্বহীনতা ভাবে আদায় করে তখন তার অন্তর ধীরে ধীরে কঠিন হয়ে যায়।
- আল্লাহ স্মরণ কমে যায় গুনা সহজ মনে হয়। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, অতঃপর তাদের পরে এমন এক সম্প্রদায়ের এলো যা নামাজ নষ্ট করল এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করল অচিরে তার শাস্তির সম্মুখীন হবে।
- জীবনের বরকত ও শান্তি উঠে যায়।
- গুনাহর পথে সহজে ঝুঁকে পড়ে।
- আখিরাতে কঠিন জবাবদিহিতা করতে হবে।
- দুনিয়া ও পরকালের লাঞ্ছনা।
নামাজ ভাঙার সমাধান ও উপদেশ
নামাজ ভাঙ্গা বা নামাজে বারবার ভুল হওয়া মানে এই নয় যে মানুষ খারাপ।
বরং এটি ইঙ্গিত দেই আমাদের শেখা, মনোযোগ ও প্রস্তুতির ঘাটতি আছে। ইসলাম
কখনো মানুষকে হতাশ করে না প্রতিটি ভুলের জন্য সমাধান ও সংশোধনের পথ দেখায়।
আমাদের জীবনে বাস্তব চিত্র হল সব কাজের জন্য সময় আছে কিন্তু নামাজের জন্য সময়
পাওয়া যায় না। অথচ সত্যি হলো নামাজের সময় আসলে আল্লাহ আমাদের ডাকেন। কুরআনে
আল্লাহ বলেন, নামাজ কায়েম কর নির্ধারিত সময়।
আযান শুনে কাজ থামানো এবং নামাজকে কাজের তালিকায় শীর্ষে রাখা। নামাজ ভাঙ্গা
সবচেয়ে বড় সমাধান হলো নামাজ কিভাবে সহি হয় তা জানা। ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত
ও নামাজের ভঙ্গের কারণ জানা না থাকলে ভুল হবে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ইলম
অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ। তাই নির্ভরযোগ্য আলেম এর কাছ থেকে
শেখা, সহজ ফিকই বই পড়া এবং নিজের নামাজ নিজেই যাচাই করা। হাদিসে এসেছে,
খাবার উপস্থিত থাকলে নামাজ নেই।
তাড়াহুড়ার নামাজ মানুষকে নামাজ থেকে বঞ্চিত করে। নামাজে স্থিরতা না
থাকলে নামাজ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। রাসুল (সাঃ) বলেছেন, তুমি নামাজ পড়ো ধীরে
ধীরে। কুরআনে আল্লাহ বলেন, নিশ্চয়ই সফল তারা যারা তাদের নামাজে খুশু অবলম্বন
করে। যেমন যা পড়েছ তার অর্থ জানা ও মৃত্যু ও আখেরাতকে স্মরণ করা। মানুষ মাত্রই
ভুল করে। নামাজে ভুল হলে লজ্জা নয় বরং সংশোধন করা ঈমানের পরিচয়। আল্লাহ বলেন,
যে আমার বান্দারা যারা নিজেদের উপর জুলুম করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ
হইয়ো না। যারা নামাজের গুরুত্ব দেয় তাদের সঙ্গে থাকলে নিজের নামাজ ও সুন্দর
হয়।
উপসংহার নামাজ ভাঙ্গার প্রধান কারণ গুলো এবং সমাধান
বাস্তব জীবনের ব্যস্ততা, ক্লান্তি বা অজ্ঞনতা যেকোনো কারণে নামাজ ভাঙ্গা যায়।
তবে সচেতনতা, পরিকল্পনা এবং ছোট্ট প্রস্তুতি দ্বারা এটি এড়ানো সম্ভব। নামাজ কেবল
ধর্মীয় দায়িত্ব নয় এটি মন শরীর এবং আত্মা শান্তি নিশ্চিত করে। নিশ্চয়ই নামাজ
রিদাকে প্রশান্ত করে এবং আত্মাকে আলোকিত করে। গ্রহণ করুন নামাজকে জীবনের
অগ্রাধিকার হিসেবে গ্রহণ করুন, অভ্যাস তৈরি করুন এবং আল্লাহর সন্তুষ্ট অর্জনের
জন্য প্রতিদিন নিয়মিত পালন করুন। প্রতিদিন নামাজ পড়লে আপনার জীবন সুন্দর করে
দেবে আল্লাহ। ধন্যবাদ

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url