গর্ভাবস্থায় মহিলাদের রক্ত বৃদ্ধির সহজ উপায়
গর্ভাবস্থায় মহিলাদের রক্ত বৃদ্ধির সহজ উপায় সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা কি প্রতিটি হবু মায়ের জন্য জরুরি নয়? সুষম খাদ্য, আয়রনসমৃদ্ধ খাবার এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে রক্তশূন্যতার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
মনে রাখবেন, সুস্থ মা মানেই সুস্থ শিশুর ভিত্তি। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড সেবন করে নিরাপদ ও সুস্থ গর্ভাবস্থা নিশ্চিত করুন।
পেজ সূচিপত্রঃ গর্ভাবস্থায় মহিলাদের রক্ত বৃদ্ধির সহজ উপায়
- গর্ভাবস্থায় মহিলাদের রক্ত বৃদ্ধির সহজ উপায়
- গর্ভাবস্থায় মহিলাদের রক্তশূন্যতা মানে কী? জেনে নিন
- গর্ভবতী মহিলাদের রক্তস্বল্পতা বোঝার উপায়
- গর্ভাবস্থায় মহিলাদের রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া হলে কী ক্ষতি হয়
- গর্ভাবস্থায় হিমোগ্লোবিন কত হলে রক্ত দিতে হয়?
- গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা দূর করার ঘরোয়া উপায় জেনে নিন
- গর্ভাবস্থায় মহিলাদের রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া দূর হবে যেসমস্ত পুষ্টিকর খাবারে
- গর্ভাবস্থায় আয়রন ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম
- প্রশ্ন ও উত্তরঃ গর্ভাবস্থায় মহিলাদের রক্ত বৃদ্ধির সহজ উপায়
- শেষ-কথাঃ গর্ভাবস্থায় মহিলাদের রক্ত বৃদ্ধির সহজ উপায়
গর্ভাবস্থায় মহিলাদের রক্ত বৃদ্ধির সহজ উপায়
গর্ভাবস্থায় শরীরের রক্তের চাহিদা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেড়ে যায়। তাই অনেক গর্ভবতী নারীর শরীরে রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে, যা মা ও গর্ভের শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
আরো পড়ুনঃ গরমে স্বাস্থ্য ভালো রাখার উপায়
তাহলে কীভাবে গর্ভাবস্থায় নিরাপদভাবে রক্ত বাড়ানো যায়? সঠিক খাদ্যাভ্যাস, প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে সহজেই রক্তের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব এবং সুস্থ গর্ভাবস্থা বজায় রাখা যায়।
গর্ভাবস্থায় মহিলাদের রক্ত বৃদ্ধির সহজ উপায়
-
আয়রনসমৃদ্ধ খাবার বেশি খানপ্রতিদিন কলিজা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সীমিত, লাল মাংস, মাছ, ডিমের কুসুম, পালং শাক, লাল শাক, ডাল ও ছোলা খাওয়ার চেষ্টা করুন। এসব খাবার হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সাহায্য করে।
-
ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করুনকমলা, মাল্টা, লেবু, আমলকি, পেয়ারা ও টমেটো আয়রন শোষণ বাড়ায়। তাই আয়রনযুক্ত খাবারের সঙ্গে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল খাওয়া উপকারী।
-
ফলিক অ্যাসিডযুক্ত খাবার খানসবুজ শাকসবজি, ব্রকলি, মটরশুঁটি, ডাল ও অ্যাভোকাডো ফলিক অ্যাসিডের ভালো উৎস। এটি নতুন রক্তকণিকা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
-
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আয়রন ট্যাবলেট গ্রহণ করুনঅনেক গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে শুধু খাবার যথেষ্ট হয় না। তাই চিকিৎসক প্রয়োজনে আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট খেতে বলেন।
-
ভিটামিন বি১২ সমৃদ্ধ খাবার খানদুধ, দই, ডিম, মাছ ও মাংসে ভিটামিন বি১২ থাকে, যা সুস্থ লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সহায়ক।
-
পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ করুনমাছ, মুরগির মাংস, ডিম, ডাল, দুধ ও বাদাম শরীরে রক্ত তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে।
-
চা ও কফি খাবারের সঙ্গে না খাওয়াই ভালোখাবারের সঙ্গে বা খাওয়ার পরপরই চা-কফি পান করলে আয়রন শোষণ কমে যেতে পারে। অন্তত ১–২ ঘণ্টা বিরতি রাখুন।
-
পর্যাপ্ত পানি পান করুনপ্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীরের রক্তসঞ্চালন ও সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে।
-
নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করুনচিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা করলে রক্তের ঘাটতি দ্রুত শনাক্ত করা যায় এবং সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব।
-
সুষম খাদ্য ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করুননিয়মিত পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ কম রাখা মা ও শিশুর সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গর্ভাবস্থায় মহিলাদের রক্তশূন্যতা মানে কী? জেনে নিন
গর্ভাবস্থা এমন একটি সময়, যখন একজন নারীর শরীরে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি রক্তের প্রয়োজন হয়। কারণ মায়ের শরীরকে শুধু নিজের জন্য নয়, গর্ভের শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্যও পর্যাপ্ত অক্সিজেন এবং পুষ্টি সরবরাহ করতে হয়।
এই সময় শরীরে পর্যাপ্ত হিমোগ্লোবিন বা লোহিত রক্তকণিকা না থাকলে তাকে গর্ভকালীন রক্তশূন্যতা বলা হয়। সাধারণত আয়রনের ঘাটতি এর প্রধান কারণ হলেও ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন বি১২-এর অভাব বা অন্যান্য স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণেও এটি হতে পারে।
রক্তশূন্যতা শুরুতে অনেক সময় তেমন কোনো লক্ষণ প্রকাশ করে না। তবে ধীরে ধীরে অতিরিক্ত ক্লান্তি, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, ত্বক ও ঠোঁট ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, এমনকি সামান্য কাজেও হাঁপিয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে এটি মা ও গর্ভের শিশুর উভয়ের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
তাই গর্ভাবস্থায় নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা, আয়রন ও ফলিক অ্যাসিডসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট খাওয়া এবং নির্ধারিত সময়ে প্রসূতি পরীক্ষা করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে রক্তশূন্যতা প্রতিরোধের পাশাপাশি সুস্থ মা ও সুস্থ শিশুর সম্ভাবনাও অনেক বেড়ে যায়।
গর্ভবতী মহিলাদের রক্তস্বল্পতা বোঝার উপায়
গর্ভাবস্থায় মহিলাদের রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া হলে কী ক্ষতি হয়
গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া একটি সাধারণ হলেও অবহেলা করার মতো সমস্যা নয়। শরীরে পর্যাপ্ত হিমোগ্লোবিন না থাকলে মা ও গর্ভের শিশুর কাছে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ঠিকমতো পৌঁছাতে পারে না, ফলে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তাই গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
গর্ভাবস্থায় রক্তগর্ভাবস্থায় হিমোগ্লোবিন কত হলে রক্ত দিতে
গর্ভাবস্থায় হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা করে রক্তশূন্যতার মাত্রা নির্ণয় করা হয়। তবে শুধু একটি নির্দিষ্ট হিমোগ্লোবিনের সংখ্যা দেখেই রক্ত দেওয়া হয় না। চিকিৎসক মায়ের শারীরিক অবস্থা, গর্ভের বয়স, রক্তশূন্যতার কারণ, রক্তক্ষরণ হয়েছে কি না এবং অন্যান্য পরীক্ষার ফল বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেন।
- ১১ গ্রাম/ডেসিলিটার (g/dL) বা তার বেশি – সাধারণত স্বাভাবিক।
- ১০–১০.৯ g/dL – হালকা রক্তশূন্যতা।
- ৭–৯.৯ g/dL – মাঝারি রক্তশূন্যতা।
- ৭ g/dL-এর কম – গুরুতর রক্তশূন্যতা।
- হিমোগ্লোবিন ৭ g/dL-এর নিচে হলে, বিশেষ করে যদি দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা বা হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো গুরুতর লক্ষণ থাকে, তখন চিকিৎসক রক্ত দেওয়ার কথা বিবেচনা করতে পারেন।
- প্রসবের সময় বা দুর্ঘটনাজনিত অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে, হিমোগ্লোবিন কিছুটা বেশি থাকলেও রক্ত দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
- অস্ত্রোপচারের যেমন সিজারিয়ান আগে গুরুতর রক্তস্বল্পতা থাকলে চিকিৎসক পরিস্থিতি অনুযায়ী রক্ত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
- যদি আয়রন ট্যাবলেট বা শিরায় আয়রন দিয়েও দ্রুত উন্নতি না হয় এবং মা বা শিশুর ঝুঁকি থাকে, তখনও রক্ত সঞ্চালনের কথা ভাবা হতে পারে।
রক্ত দেওয়ার আগে কী কী করা হয়?
- হিমোগ্লোবিন ও অন্যান্য রক্ত পরীক্ষা করা হয়।
- রক্তশূন্যতার কারণ (আয়রনের ঘাটতি, ভিটামিনের অভাব বা অন্য রোগ) খুঁজে বের করা হয়।
- মায়ের রক্তের গ্রুপ ও উপযুক্ত রক্ত মিলিয়ে নিরাপদভাবে রক্ত দেওয়া হয়।
- রক্ত দেওয়ার সময় মা ও শিশুর অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
গর্ভাবস্থায় শূন্যতা দূর করার ঘরোয়া উপায় জেনে নিন
গর্ভাবস্থায় অনেক নারীর শরীরে রক্তের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া দেখা দিতে পারে। সময়মতো পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস অনুসরণ করলে অনেক ক্ষেত্রেই এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
প্রতিদিন খাদ্যতালিকায় কলিজা (চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী), চর্বিহীন লাল মাংস, ডাল, পালং শাক, লাল শাক, ছোলা ও বিভিন্ন ধরনের শুঁটকি ছাড়া মাছ রাখার চেষ্টা করুন। এসব খাবার শরীরে হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সাহায্য করে।
কমলা, মাল্টা, আমলকি, পেয়ারা, লেবু ও টমেটো আয়রন শোষণ বাড়াতে সাহায্য করে। তাই আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে ভিটামিন সি-যুক্ত ফল বা সবজি খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়।
খেজুর, কিশমিশ এবং পরিমিত পরিমাণে গুড় শরীরে কিছুটা আয়রন ও শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। তবে ডায়াবেটিস থাকলে এগুলো খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চা বা কফি পান করলে আয়রন শোষণ কমে যেতে পারে। তাই খাবারের অন্তত ১–২ ঘণ্টা পরে চা বা কফি পান করা ভালো।
শুধু ঘরোয়া খাবারের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট নিয়মিত গ্রহণ করুন। কারণ গর্ভাবস্থার রক্তশূন্যতা অনেক সময় ওষুধ ছাড়া পুরোপুরি ঠিক হয় না।
গর্ভাবস্থায় মহিলাদের রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া দূর হবে যেসমস্ত পুষ্টিকর খাবারে
গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে রক্তের চাহিদা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেড়ে যায়। এই সময় পর্যাপ্ত আয়রন, ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন বি১২ ও অন্যান্য পুষ্টি না পেলে রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া দেখা দিতে পারে, যা মা ও গর্ভের শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে চিন্তার কিছু নেই। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কিছু পুষ্টিকর খাবার যোগ করলে শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে সাহায্য করে এবং রক্তশূন্যতার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। নিচে এমন কিছু উপকারী খাবারের কথা তুলে ধরা হলো।
পালং শাক, লাল শাক, কলমি শাক ও অন্যান্য গাঢ় সবুজ শাকসবজিতে প্রচুর আয়রন, ফলেট ও আঁশ থাকে। এগুলো নিয়মিত খেলে শরীরে নতুন রক্তকণিকা তৈরিতে সহায়তা করে এবং হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে।
শাকসবজি ভালোভাবে ধুয়ে কম তেলে রান্না করলে এর পুষ্টিগুণ অনেকটাই বজায় থাকে। সপ্তাহে কয়েকদিন বিভিন্ন ধরনের শাক খাদ্যতালিকায় রাখার চেষ্টা করুন।
চর্বিহীন গরুর মাংস, মুরগির মাংস, বিভিন্ন ধরনের মাছ এবং ডিমে উচ্চমানের প্রোটিনের পাশাপাশি সহজে শোষিত হওয়া আয়রন ও ভিটামিন বি১২ থাকে। এগুলো রক্তশূন্যতা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তবে সব সময় ভালোভাবে রান্না করা খাবার খেতে হবে। কাঁচা বা আধাসেদ্ধ মাংস, মাছ কিংবা ডিম গর্ভাবস্থায় এড়িয়ে চলাই নিরাপদ।
মসুর ডাল, মুগ ডাল, ছোলা, মটরশুঁটি ও সয়াবিন উদ্ভিজ্জ আয়রনের ভালো উৎস। পাশাপাশি এগুলোতে পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ফলেট থাকায় মা ও শিশুর সুস্থ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
প্রতিদিনের খাবারে অন্তত একবেলা ডাল বা ডালজাতীয় খাবার রাখলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেতে পারে। ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে এগুলো খেলে আয়রন আরও ভালোভাবে শোষিত হয়।
খেজুর, কিশমিশ, শুকনো এপ্রিকটসহ বিভিন্ন শুকনো ফলে আয়রন, পটাশিয়াম ও প্রাকৃতিক শর্করা থাকে। এগুলো শরীরকে শক্তি জোগানোর পাশাপাশি রক্তশূন্যতা কমাতে সহায়ক হতে পারে।
তবে অতিরিক্ত নয়, পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো। যাদের গর্ভকালীন ডায়াবেটিস রয়েছে, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এসব খাবার গ্রহণ করবেন।
কমলা, মাল্টা, লেবু, পেয়ারা, আমলকি ও টমেটোতে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে। এই ভিটামিন শরীরে আয়রন শোষণের ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়, ফলে রক্ত তৈরির প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হয়।
তাই আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে বা খাবারের পরে এসব ফল খাওয়ার অভ্যাস করলে বেশি উপকার পাওয়া যায়।
কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, তিল, কুমড়ার বীজ ও সূর্যমুখীর বীজে আয়রন, স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান থাকে। এগুলো গর্ভবতী নারীর শরীরের পুষ্টির ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে।
তবে বাদাম ও বীজ পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। অতিরিক্ত গ্রহণ করলে অপ্রয়োজনীয় ক্যালোরি বেড়ে যেতে পারে।
দুধ, দই ও পনিরে ক্যালসিয়াম, প্রোটিন এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান থাকে। এগুলো হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং গর্ভাবস্থায় সামগ্রিক পুষ্টি নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।
গর্ভাবস্থায় আয়রন ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম
গর্ভাবস্থায় শরীরে রক্তের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসক সাধারণত আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট খাওয়ার পরামর্শ দেন। এটি মায়ের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ঠিক রাখতে এবং গর্ভের শিশুর সুস্থ বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আয়রন ট্যাবলেট চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় থেকে শুরু করা উচিত। নিজের ইচ্ছামতো ওষুধ শুরু করা, বন্ধ করা বা মাত্রা পরিবর্তন করা ঠিক নয়, কারণ প্রত্যেক গর্ভবতীর শারীরিক অবস্থা একরকম থাকে না।
নিয়মিত আয়রন ট্যাবলেট গ্রহণের পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত গর্ভকালীন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলে রক্তশূন্যতার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। কোনো ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url