মোবাইলে আসক্তি মানুষের জীবনে যে অসুবিধা সৃষ্টি করেছে
মোবাইলে আসক্তি মানুষের জীবনে যে অসুবিধা সৃষ্টি করছে তা আমাদের জানা খুব প্রয়োজন।মোবাইল আমাদের জন্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।বর্তমানে সব কাজ মানুষ এখন মোবাইলের মাধ্যমে করে থাকে।কারণ মোবাইল ছাড়া এখন কোন কাজ করা সম্ভব নয়।কাজ করতে হলে মানুষের সাথে যোগাযোগের দরকার আর সে রাস্তা সহজ করেছে মোবাইল।মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে দূরবর্তী মানুষের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব।
তাই এখন আর কোন কাজ কঠিন মনে হয় না বিশেষ করে যোগাযোগের ক্ষেত্রে। কিন্তু প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যবহার ধীরে ধীরে অনেকের মধ্যে আসক্তি রূপ নিচ্ছে। এ আসক্তি শুধু সময় নষ্ট করে না বরং ব্যক্তিগত পারিবারিক সামাজিক ও শারীরিক জীবনের নানা ধরনের ক্ষতির প্রভাব ফেলছে মোবাইল ফোন। আর কি কি সমস্যা হচ্ছে অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে তা জানি।
সময় নষ্ট ও কাজের প্রতি উদাসীনতা
মোবাইল ব্যবহার করার সবচেয়ে ক্ষতির দিক হচ্ছে সময় নষ্ট। কারণ প্রয়োজনে মোবাইল
ব্যবহার করলে সমস্যা নাই কারণ মোবাইল ছাড়া তো কাজ করা সম্ভব না। কিন্তু আমরা
মোবাইলের প্রতি এতটাই আসক্তি হয়ে পড়েছে যে আমরা ভুলে যাই আমাদের জীবনের লক্ষ্য
কি। অনেকে আছে কাজ বাদ দিয়ে সারাদিন মোবাইলে সময় কাটায়। এতে তারা বুঝতেই
পারেনা তাদের সময় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এমনকি তার জীবনে এটা একটা বিরাট ক্ষতি বিষয়।
যার কারণে সে সময়ের মূল্য বোঝনা এমনকি তার কাজের প্রতি কোন আগ্রহী থাকবে না। যার
কারণে কোন জায়গাতে সাকসেস হতে পারে না। তাই অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার থেকে
নিজেকে বিরত রাখা উচিত।
পড়াশোনায় মনোযোগের ঘাটতি
বর্তমানে সবার কাছে মোবাইল ফোন আছে। কারণ বর্তমানে এখন মানুষ ভালো কাজ বা
খারাপ কাজ করুক না কেন মোবাইল ফোন থাকাই লাগবে। মানুষের সাথে মোবাইল ফোন
যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। তাই মোবাইল ফোন মানুষের জীবনে একটি অংশ। কিন্তু
বর্তমানে শিক্ষার্থীদের এই মোবাইল ফোনের কারণে লেখাপড়া ঠিকভাবে হয় না। অনেক
স্টুডেন্ট আছে যারা পড়াশোনা বাদ দিয়ে সারাদিন ঘন্টার পর ঘন্টা
মোবাইলে আসক্তি হয়ে পড়েছে। যার কারণে শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে মোবাইল
আসক্তি সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে. পড়তে অবশ্য বারবার নোটিফিকেশন দেখার অভ্যাস
মনোযোগ ভেঙ্গে দেয়। এতে বিষয় বুঝতে সময় বেশি লাগে এমন মনে রাখার ক্ষমতাও
কমে যায়। পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হতে থাকে যা ভবিষ্যতে জীবনের ক্ষতির প্রভাব
ফেলে।
শারীরিক স্বাস্থ্যের সমস্যার সৃষ্টি
বর্তমান সময়ে অনেক মানুষ দিনের বড় একটি অংশ মোবাইলের স্কিনের দিকে
তাকিয়ে কাটানো। কারণ বর্তমানে সব কাজ মোবাইলের মাধ্যমে করা হয়। যার কারণে
মানুষকে দীর্ঘক্ষন এই ছোট ডিভাইসটার ওপর চোখ রাখতে হয়। এটা প্রথমে বড় কোন
সাধারণ সমস্যা হয় না। কিন্তু ধীরে ধীরে এটা একটা বিরাট আকার ধারণ করে
শারীরিক স্বাস্থ্যের উপরে। যার কারণে বিভিন্ন রকম সমস্যায় ভুগতে হয়।
দীর্ঘ সময় বসে থাকার অভ্যাসে শরীরচর্চা কমিয়ে দেয় যা ওজন বৃদ্ধি ও অন্যান্য
শারীরিক জটিলতা ঝুঁকি বাড়ায়। সুস্থ থাকতে হলে মোবাইলের ব্যবহার সংযোগ ও
সচেতনা প্রয়োজন। চলুন অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার করলে আর কি কি সমস্যা হয় তা নিজে
জেনে নিন।
আরো পড়ুনঃ
স্টুডেন্টদের জন্য সেরা ৮টি এআই টুল
- চোখের দৃষ্টি শক্তির ক্ষতি হয়।
- ঘুমের ব্যাঘাত ও শারীরিক ক্লান্তি দেখা দেয়।
- শরীরের ওজন বৃদ্ধি করে।
- অলসতা ঘিরে ধরে কাজে মন বসে না।
- অনেকক্ষণ শুয়ে থেকে মোবাইল দেখলে ঘার ও মেরুদন্ড ব্যথা করে।
- যখন অতিরিক্ত মোবাইল স্কিন ব্যবহার করা হয় হাত ও আঙ্গুলের জড়তা সৃষ্টি হয়।
- অতিরিক্ত মোবাইলের ব্যবহারের কারণে কব্জিতে স্নায়ুতে ব্যথা করে।
- সব থেকে বড় সমস্যা হচ্ছে মাথা ব্যথা করে। সঠিক সময় কাজ না করার কারণে তখন মন মেজাজের ঘাটতি হয়।
- শারীরিক নড়াচড়া একদম কম হয় যার কারণে স্বাস্থ্যের ক্ষতি বেশি হয়। এর ফলে ধীরে ধীরে শরীরের কর্মক্ষমতা কমে যায়।
মানসিক চাপ ও অস্থিরতা বৃদ্ধি
মোবাইল মানুষকে এমন ভাবে আসক্তি করে রেখেছে যে সব কাজ ফেলে দিয়ে সারাদিন মোবাইলের প্রতি মনোযোগ ধরে রাখা। ওই যে বাস্তবে কোন কাজ করছে সেটা ওই ভুলে যায়। কারণ ওর পুরো মনোযোগ থাকে মোবাইলের উপরে। যার কারণে মানুষের ভিতরে এমন একটা মানসিক চাপ ও অস্থিরতা বৃদ্ধি হয় সেটাকে নিজে বুঝতে পারেনা। যার ফলে অনেক সময় মানুষকে বিভিন্ন ক্ষতির সম্মুখীন করতে হয়। অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার মানুষের মানসিক চাপ ও অস্থিরতা ধীরে ধীরে বাড়িয়ে দেয়। সারাদিন নোটিফিকেশন মেসেজ খবর বা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম আপডেট দেখতে দেখতে মস্তিষ্ক কখনো পুরোপুরি বিশ্রাম পায়না।
অনেকে অন্যের জীবন দেখে নিজের জীবনের সঙ্গে তুলনা করতে শুরু করে যা অজান্তে
হতাশা ও অস্থিরতা তৈরি করে। এর প্রভাব বাস্তব জীবনে পরে। যেমন লাইক বা
কমেন্ট অন্যের দেখলে নিজের মন খারাপ হয়ে যায়। যার কারণে মানুষ বারবার মোবাইল
চেক করার অভ্যাস অকারণে দুশ্চিন্তা করা এসব আচরণ বাস্তব জীবনে মনোযোগ
ও ধৈর্যকে কমিয়ে দিচ্ছে। যার ফলে মানুষ ধীরে ধীরে মানুষ ছোট বিষয়ের
রেগে যায় মনোযোগ হারায় এবং ভিতরে ভেতরে চাপ অনুভব করে। তাই মানসিক শান্তি বজায়
রাখতে মোবাইল ব্যবহার সীমা নির্ধারণ করা অত্যন্ত জরুরী।
পারিবারিক সম্পর্কে দূরত্ব
পারিবারিক বন্ধন হচ্ছে আসল বন্ধ। পরিবারের একে অপরের সাথে সম্পর্ক রেখে চলা হচ্ছে জীবনের একটা অংশ। পরিবারের সাথে একসাথে বসে গল্প করা মজা করা একা করে সুখ দুঃখের কথা বলা কে কি করবে সে বিষয়ে আলোচনা করা এগুলো হচ্ছে জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পরিবারে একসাথে থাকলে মনে হয় সবকিছু পাওয়া যায় পৃথিবীর। পরিবারগুলোর সাথে হাসিখুশি থাকা এবং দুঃখের সময় দুঃখ ভাগ করে দেওয়া এটা একটা জীবনের মাধ্যম।
কিন্তু বর্তমানে আমরা তা ভুলে গেছি। আমরা মোবাইলের প্রতি এতটাই আসক্ত হয়ে পড়েছি যে আমাদের নিজেদের সন্তানের কথায় আমরা ভুলে যাই। সন্তান বা পরিবারের কথা চিন্তা করার সময় নেই। যতক্ষণ কাজ করে কাজ তার বাদ বাকি সময় মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকা। যার কারণে বর্তমানে প্রায় ফ্যামিলিতে পারিবারিক সম্পর্ক দূরত্ব তৈরি হয়েছে।
কারণ পরিবারকে সময় দেওয়ার মতন বামন মানুষিকতা এখন মানুষের ভিতরে নাই। যেটুকুন
সময় পাই মোবাইলে আসক্তি হয়ে পড়ে থাকে মানুষ। যার কারণে একে অপরের সাথে এতটাই
দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে যে কেউ কারো দিকে তাকানোর সময় পায় না। মোবাইল যখন সময় ও
মনোযোগ কেড়ে নেই তখন পরিবারের আবেগের সংযোগ দুর্বল হয়ে পড়ে। তা সুস্থ কারিবেক
সম্পর্ক বজায় রাখতে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ হওয়া প্রয়োজন।
সামাজিক যোগাযোগ কমে যাওয়া
প্রথমে মানুষের জীবন ছিল একদম সুন্দর। একে অপরের একসাথে বসে গল্প করা এবং সুন্দর সময় চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দেওয়া। এবং বন্ধুদেরকে সাথে নিয়ে ঘুরতে যাওয়া। কারো সাথে দেখা করতে হলে তার বাড়িতে যাওয়া। কাউকে দরকার হলে তার কাছে নিয়ে যাওয়া এটা ছিল একটা সুন্দর মুহূর্ত। কিন্তু এখন বর্তমানে আর সেরকম কিছু হয় না। কারণ মানুষের ভেতরে যোগাযোগ উন্নতি হলেও বাস্তবে যেই একটার অনুমতি সেটা থেকে মানুষ অনেক দূরে সরে গেছে। মোবাইলে কথা বললে সম্পর্ক থাকে কিন্তু নিজের ভেতরে যে একটা অনুভূতি সেটা দিন দিন মরে যাচ্ছে।
আগের মানুষ প্রতিবেশীদের সঙ্গে সময় কাটানো ছিল দৈনন্দিন জীবনের অংশ কিন্তু
এখন অনেকেই অনলাইনে সীমাবদ্ধ থাকছে। ভার্চুয়াল বাড়লো মুখোমুখি কথা বলার অভ্যাস
কমে যাচ্ছে ফলে আন্তরিকতা ও আবেগের প্রকাশ কম হয়ে যাচ্ছে। বাস্তব জীবনের
সম্পর্ক গুলো ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে কারণ অনলাইনে সংযোগ কখনো সরাসরি
উপস্থিতি উষ্ণতা দিতে পারেনা। যার ফলে মানুষ একা থাকে এবং সামাজিক দক্ষতা কমে
যেতে পারে। তাই সামাজিক সম্পর্ক দৃঢ় রাখতে বাস্তব যোগাযোগের গুরুত্ব বোঝা
জরুরী সকলেরই।
কর্মজীবনের দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়া
মোবাইলে আসক্তি মানুষের জীবনে যে অসুবিধা সৃষ্টি করেছে তার মধ্যে একটি হচ্ছে কর্মজীবনের দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়া। অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের কর্মজীবনের দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়। অফিসে কাজ করার সময় মোবাইলে বারবার মেসেজ চেক করা বা নোটিফিকেশন দেখা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বা অপ্রয়োজনীয় ভিডিও দেখে মনোযোগ নষ্ট করা। এগুলো আপনার কর্মজীবনের প্রভাব ফেলবে।
এতে আপনি যে কাজটা তাড়াতাড়ি শেষ করতে পারেন সেটা আপনার সময় থেকে বেশি সময় লাগবে।অমনোযোগের কারণে আপনার কাজটি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আবার দেখা যায় অনেক সময় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউ আছে না হওয়াতে উপরের কৃতপক্ষে নারাজ হয়ে যেতে পারে যা মানুষের কর্মজীবনে চাপ করে। ধীরে ধীরে কর্ম ক্ষমতা কমে গেলে পদ উন্নতি বা ভালো কাজের সুযোগ থেকে পিছিয়ে পড়া ঝুঁকি থাকে। তাই পেশাগত সফলতার জন্য কাজের সময় মোবাইল ব্যবহার সংযম রাখা অত্যন্ত জরুরী।
আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা
অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের অনেক সময় অজান্তে আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সারাদিন অনলাইনে থাকায় অনেকে হঠাৎ করে অপ্রয়োজন জিনিস কেনাকাটা করে ফেলে। বিশেষ করে বিভিন্ন অফার বা বিজ্ঞাপনের লোভে পড়ে। ছোট ছোট খরচ জমে মাসে শেষে বড় অংকের টাকায় দাঁড়ায় যারা সংসারের বাজেটে চাপ সৃষ্টি করে। আবার অনলাইন গেম অ্যাপ সাবস্ক্রিপশন বা অতিরিক্ত ডাটা প্যাক কিনতে গিয়ে নিয়মিত অর্থ ব্যয় হয়। যার কারণে মানুষের অনেক সময় মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমনকি অর্থ দিক দিয়েও ক্ষতি হয়।
খরচ করতে করতে তার বাজেটের বাইরে চলে যায় যা পূরণ করতে তার বিপদে পড়তে হয়। আবার অনেকে আছে এর পাশাপাশি অসচেতনতা ভাবে ফেক কলেজ ক্লিক করা এবং অজানা কলের ফাঁদে পড়ে প্রতারণা শিকার হওয়ার ঘটনাও বাড়ছে। অনেক মানুষ ওটিপি বা ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করে বড় অংকের টাকা হারাচ্ছে।মোবাইলে আসক্তির কারণে অর্থের সঠিক হিসাব রাখা কঠিন হয়ে যায় এবং সঞ্চয় এর অভ্যাস ও দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই আর্থিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে মোবাইল এর ব্যবহার সতর্কতা ও আত্ম নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নৈতিকতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অবনতি
মোবাইলে আসক্তি মানুষের জীবনে যে অসুবিধা সৃষ্টি করেছে তার মধ্যে আরেকটি হচ্ছে নৈতিকতা আত্ম নিয়ন্ত্রণের অবনতি। মোবাইলের কারণে মানুষ নিজেদের ভিতরে আত্মনিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। কারণ মোবাইল কে মানুষ এমন ভাবে আঁকড়ে ধরে রেখেছে যে ছাড়তে চায় না। মানুষের জীবনে মোবাইল এমন ভাবে জড়িয়ে গেছে যে ঘুমানোর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত মোবাইলের স্ক্রিনে চোখ আটকে থাকে। যার ফলে মোবাইল ব্যবহারে অনেকের নৈতিকতা ও আর্তন নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে।
আরো পড়ুনঃ
কোন বিষয় দেখলে গুগল ওয়েবসাইট অ্যাপ্রুবল দেয়
সারাক্ষণ অনলাইনে জগতে ডুবে থাকার কারণে বাস্তব জীবনের দায়িত্ব ও মূল্যবোধ থেকে মন সরে যায়। অনেক সময় গুরুতর ভুলে যায় প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয় এবং নিজের কাজের প্রতি আন্তরিকতা কমিয়ে ফেলে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মন্তব্য করা ভুল তথ্য ছাড়ানো বা অন্যকে আঘাত করা এমন আচরণ করা নৈতিক অবক্ষয়ের লক্ষণ। একই সঙ্গে মোবাইলের প্রতি অতিরক্ত নির্ভরতা মানুষের ধৈর্য কমিয়ে দেয়।
সামান্য অপেক্ষা করতে অস্থির লাগে মানুষকে। ধীরে ধীরে আত্মনিয়ন্ত্রণের শক্তি
ক্ষয় হতে থাকে এবং মানুষ বাস্তব সমস্যার মুখোমুখি না হয়ে ভার্চুয়াল জগতে
আশ্রয় নিতে চাই। ফলে চরিত্র শৃঙ্খলা ও ব্যক্তিত্ব ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। তাই
নিজের নৈতিক মন ও আত্মনিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে মোবাইলের ব্যবহার সচেতন সীমা
নির্ধারণ করা অত্যন্ত জরুরি।
উপসংহার মোবাইলে আসক্তি মানুষের জীবনে যে অসুবিধা সৃষ্টি করছে
মোবাইল ফোন আমাদের জীবনে তেমন গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে এসেছে তেমনি অসচেতন ব্যবহারে এটিও অনেক সমস্যার কারণও হতে হচ্ছে। অতিরিক্ত ব্যবহারে মানুষের শারীরিক সুস্থতা নষ্ট করে মানসিক চাপ বাড়ে পারিবারিক সম্পর্ক দুর্বল করে এবং কর্মজীবনের দক্ষতা কমিয়ে দেয়। ধীরে ধীরে মানুষের জীবনে মোবাইলের কারণে আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মূল্যবোধের প্রভাব পড়ছে। তবে প্রযুক্তি নিজে খারাপ নয় সমস্যা তৈরি হয় তখনই যখন আমরা এর ওপর অতিরক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ি।
তাই প্রয়োজনীয় সচেতনতা সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায়
রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। পরিবারকে সময় দেওয়া নির্দিষ্ট সময়ের বেশি
স্কিন ব্যবহার না করা এবং প্রয়োজন এর কাজে মোবাইল ব্যবহার করা আমাদের জীবনে
ভারসাম্য ফিরে আনতে পারে। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে মোবাইল আমাদের অগ্রগতির সঙ্গী
হতে পারে আর ভুল ব্যবহারে সেটি হয়ে উঠতে পারে জীবনের বড় ভুল। ধন্যবাদ

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url