মোবাইলে ফেক কল বন্ধ করার উপায়
মোবাইল আমাদের জীবনের একটি অংশ হয়ে গেছে। আমাদের প্রত্যেকটা কাজে এখন মোবাইলে মাধ্যমে করি।বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির সাথে মোবাইলের সাথে এমন ভাবে জড়িয়ে গেছে যে আমাদের কোন কাজ মোবাইল ছাড়া হয় না।প্রত্যেকটা কাজ মোবাইলের মাধ্যমে করে থাকে।
আর এই সুযোগটা নিচ্ছে কিছু প্রতারণা চক্রের মানুষ। যারা মোবাইলের মানুষকে ফেক কল দিয়ে বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তি করার চেষ্টা করছে এমনকি লোভ দেখিয়ে পরিচয় নিয়ে বিপদের মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। আর্টিকেলে আমরা জানবো মোবাইলে ফেক কল বন্ধ করার উপায় গুলো। কারণ এই মোবাইলে ফেক কল বন্ধ যদি না করা যায় তাহলে একদিন ভয়ঙ্কর কোন সমস্যার মধ্যে করতে হবে।
কিভাবে বুঝবেন কোনটি ফেক কল
সারাদিনে মোবাইলে বিভিন্ন মানুষের কল আসে। কখনো প্রয়োজনীয় কল আবার কখনো
পরিবারের এমনকি ব্যবসা করলে তার কল। এজন্য বিভিন্ন মানুষের সাথে মানুষকে কথা
বলতে হয়। এজন্য সারা দিনে মানুষের মোবাইলে বিভিন্ন নাম্বার থেকে কল আসবে। কিন্তু
এখন আসল বিষয় হচ্ছে কিভাবে বুঝব কোনটি ফেক কল। কারণ ফেক কল না ধরতে পারলে এটা
বন্ধ করা যাবে না। মোবাইলে কখনো চেনা নাম্বার থেকে কল আসে আবার কখনো অচেনা
নাম্বার থেকে কল আসে। কিন্তু সব অচেনা কল ফেক কল নাও হতে পারে। তবে কিছু
নির্দিষ্ট লক্ষণ দেখে সন্দেহ করা যায়। চলুন লক্ষ্যগুলো জেনে নিন।
- কল রিসিভ করতে অপরপ্রান্ত থেকে ব্যক্তিগত তথ্য চাই।
- তাড়াহুড়া করে সিদ্ধান্ত নিতে বলবে যে আপনি কি বলছেন এ ধরনের কথাবার্তা।
- আবার অনেক সময় মানুষকে লোভ দেখায় যেমন বিভিন্ন পুরস্কারের কথা টাকার কথা ইত্যাদি।
- আবার অনেক সময় নম্বরটি আন্তর্জাতিক কোড সহ আসে। যা আপনার পরিচিত না হতে পারে।
- সব থেকে ফেক কল বোঝার উপায় হচ্ছে একই নাম্বার থেকে বারবার মিসকল আসবে।
- এ ধরনের লক্ষণ দেখলে সতর্ক থাকা উচিত। এবং তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য শেয়ার না করায় নিরাপদ।
ফেক কল শনাক্ত করার উপায়
ফেক কল ব্লক করার প্রথম ধাপ হল এগুলো শনাক্ত করা। অনেক সময় কল আসার সময় বোঝা
যায় কলটি সন্দেহজনক। সাধারণ লক্ষ্য গুলো হল অজানা নাম বা নাম্বার
বারবার কল আসা। কলার আইডি না দেখানো অপ্রয়োজন ও হুমকি স্বরূপ বার্তা। আপনি
অনলাইনে নাম্বার যাচাই করার জন্য টুল ব্যবহার করতে পারেন যেমন ট্রুকলার
বা ফেসবুকের কলার তথ্য। এছাড়াও যদি একই নাম্বার থেকে একাধিকবার অনাকাঙ্ক্ষিত কল
আছে সেটিও ফেক কলার ইঙ্গিত। ফেক কল শনাক্ত করার সময় সচেতন থাকাটা সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি ফেক কল শনাক্ত করতে পারেন তাহলে অবশ্যই আপনি বিপদের হাত
থেকে রক্ষা পাবে। কারণ ফেক কলের কারণে অনেক মানুষ বিপদগ্রস্ত হয়েছে।
ফোনের বিল্ট-ইন ফিচার ব্যবহার করে ফেক কল ব্লক করা
আজকাল প্রায় সব স্মার্টফোনে বিল্ট-ইন কল ব্লক ফিচার থাকে। এন্ড্রয়েড ফোনে কল লগ অজানা বা অনাকাঙ্খিত নাম্বার নির্বাচন করে ব্লক রিপোর্ট অপশন ব্যবহার করতে পারেন। আবার আইফোন রিসেন্ট কল তালিকা থেকে নম্বর নির্বাচন করে ব্লক দিস কলার বাটন চাপলে সেই নাম্বার ব্লক হয়ে যায়। এছাড়াও ডু নট ডিস্টাব মোড ব্যবহার করে নির্দিষ্ট সমে শুধুমাত্র পরিচিত নাম্বারে কল গ্রহণ করতে পারেন। এ ফিচারগুলোর ব্যবহার করলে ফেক কলের সিম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। মোবাইলে ফেক কল বন্ধ করতে হলে এ নিয়মগুলো জানা আপনার জন্য প্রয়োজন।
আরো পড়ুনঃ
বিদেশি স্কলারশিপ
কারণ এই ফেক কলের মাধ্যমে অনেক মানুষ সর্ব সান্ত হয়ে সবকিছু হারিয়ে ফেলেছে। যদি এ অপশনটি যথেষ্ট না হয় তাহলে কলার সনাক্তকারী অ্যাপ ব্যবহার করা যেতে পারে। এসব সাধারণত বিশাল ডাটাবেসের মাধ্যমে স্প্যাম নম্বর শনাক্ত করে। কোন নম্বর যদি অনেক ব্যবহারকারী স্প্যাম হিসেবে রিপোর্ট করে থাকে তাহলে সেটি সক্রিয়ভাবে সতর্কবার্তা দেখায়। ফলে কল রিসিভ করার আগে আপনি বুঝতে পারবেন এটি নিরাপদ কিনা তবে অ্যাপ ব্যবহারের আগে প্রাইভেসি নীতিমালা ভালোভাবে পড়ে নেওয়া উচিত।
মোবাইল অপারেটর সাহায্য নেওয়া
মোবাইল আমরা কাজের জন্য ব্যবহার করি। অনেক সময় দেখা গেল আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছে এমন সময় কল দিয়ে বিরক্ত করছে। কল কেটে দেওয়ার পরও বারবার কল দিচ্ছি এতে মানুষ অনেক সময় বিরক্ত হয়ে যায়। বা এমন কোন সিচুয়েশনের মধ্যে আছে যে তার কাছে কল ধরার মতন পরিস্থিতি নাই। এ পরিস্থিতিতে তো বারবার কল আসছে তখন মানুষের বড় কোন বিপদে হয়ে যেতে পারে। এসব থেকে বাঁচতে মোবাইল অপারেটর এর সাহায্য নেওয়া উচিত।
একই নাম্বার থেকে ধারাবাহিকভাবে বিরক্ত কর কল এলে মোবাইল অপারেটর সাহায্য নিয়ে
কার্যকর হতে পারে। কাস্টমার কেয়ার যোগাযোগ করে নম্বরটি রিপোর্ট করলে তারা
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে। কিছু অপারেটর নির্দিষ্ট কোড ডায়াল করলে কল
ব্লক করার সুবিধা দেয়। যদি সব ক্ষেত্রে শতভাগ সমাধান পাওয়া যায় না তবুও
এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
বাংলাদেশে অনেক অপারেটর স্প্যাম বা ফেক কলের জন্য নিজস্ব হেল্পলাইন সার্ভিস অফার
করে। আপনি নির্দিষ্ট নম্বর রিপোর্ট করলে অপারেটর সে নম্বর ব্লক বা মনিটর করতে
পারে। তবে মনে রাখতে হবে অপারেটর সার্ভিস কিছু সীমাবদ্ধ থাকতে পারে যেমন বিদেশি
বা অজানা রিজিওনের নাম্বার ব্লক করা কঠিন।
নিজের সচেতনতা বাড়ানোর সবচেয়ে বড় সুরক্ষা
প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে প্রতারণার কৌশল ও ততো সূক্ষ্ম হয়ে উঠছে। তাই শুধুমাত্র অ্যাপ বা ফোনের সেটিং এর উপর নির্ভর না করে নিজের সচেতনতা বাড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা। অনেক সময় মানুষ অজান্তে অচেনা নাম্বার থেকে আশা কল রিসিভ করে ব্যক্তিগত তথ্য ওটিপি ব্যাংক একাউন্ট নম্বর কিংবা বিকাশ নগদ সংক্রান্ত তথ্য শেয়ার করে বসে। এখান থেকে শুরু হয় বড় ধরনের ক্ষতি। মনে রাখতে হবে কোন প্রতিষ্ঠিত ব্যাংক বা মোবাইল অপারেটর কখনো ফোন করে গোপন পাসওয়ার্ড বা কেউ জানতে চায় না।
- তাই যে কোন সন্দেহজনক কথা তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত না নিয়ে ধৈর্য ধরে যাচাই করা জরুরী। সচেতন মানসিকতা গড়ে তুলতে পারলেও ফেক কলের ফাঁদ থেকে নিজেকে অনেকটা দূরে রাখা সম্ভব।অনেকে বারবার এফ এফ কল বা অজানা ফ্রি অফার নামে আসা প্রতারণামূলক কল রিসিভ করতে করতে আর্থিক বা মানসিক ক্ষতির শিকার হন। যদি ইতিমধ্যে এমন ক্ষতি হয়ে থাকে এবং আপনি এটি বন্ধ করতে চান তাহলে
- প্রথমে অপরিচিত নাম্বার থেকে আশা কল রিসিভ করা কমিয়ে দিন। ফোনের সেটিং এ গিয়ে অজানা নাম্বার সাইলেন্ট ব্লক ব্লক করার অপশন চালু রাখুন।
- দ্বিতীয়ত কখনো কোন প্রলোভন এ পড়ে তাৎক্ষণিক তথ্য বা টাকা পাঠাবেন না।
- তৃতীয়ত নিজের নম্বর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বা নিরাপদ ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকুন।
- প্রয়োজনীয় মোবাইল অপারেটর কাস্টমার কেয়ারের যোগাযোগ করে বিরক্ত কর নম্বর রিপোর্ট করুন।
- সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখা যে সহজে বড় লাভ বা জরুরি পুরস্কার ধরনের কথা অধিকাংশ সময় প্রতারণার অংশ।
- সচেতন ধৈর্যশীল এবং তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস আপনাকে ভবিষ্যতে ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারবে।
আইনের পদক্ষেপ ও অভিযোগ করার উপায়
ফেক কল বা তুলনামূলক কোন ফল শুধু বিরক্ত কর বিষয় নয় অনেক ক্ষেত্রে এটি
শাস্তিযোগ্য অপরাধ। যদি কেউ ফোনের মাধ্যমে আপনার কাছ থেকে তথ্য ওটিপি ব্যাংকের
তথ্য বা ব্যক্তিগত তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করে তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেয়া
উচিত। যে নাম্বার থেকে কল এসেছে সেটির সংরক্ষণ করুন এবং কলের তারিখ সময় লিখে
রাখুন। সম্ভব হলে কল লগ বা স্ক্রিনশট রেখে দিন। এই প্রাথমিক প্রমাণগুলো আপনার
ভবিষ্যতে অভিযোগ করার সময় কাজে লাগবে।
বাংলাদেশে এ ধরনের সাইবার প্রতারণার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইনগত কাঠামো
রয়েছে। আপনি নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি জিডি করতে পারেন অথবা সরাসরি সাইবার
ক্রাইম ইউনিটে অভিযোগ জানাতে পারেন। বর্তমানে অনলাইনে অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ জমা
দেওয়ার সুযোগ আছে। অভিযোগ করার সময় আপনার ক্ষতির বিবরণ প্রতারকের ব্যবহৃত
নাম্বার লেনদেনের তথ্য যদি অর্থ লেনদেন হয়ে থাকে স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ্য করতে হবে।
এতে তদন্ত প্রক্রিয়া সহজ হয়।
আরো পড়ুনঃ
রাজশাহী থেকে ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী
যদি মোবাইলে ব্যাংকিং যেমন বিকাশ নগদ ইত্যাদি ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে
প্রতারণা ঘটে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংক বা সেবাদতা প্রতিষ্ঠানের হেল্পলাইনে
যোগাযোগ করে লেনদেন স্থগিত করার চেষ্টা করুন। অনেক সময় দুটো পদক্ষেপ নিলে ক্ষতির
পরিমাণ কমানো যায়। পাশাপাশি মোবাইল অপারেটরকে নম্বরটি রিপোর্ট করলে তারা
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভয় বা লজ্জার কারণে বিষয়টি চেপে না রাখা।
অনেকেই ভাবেন ছোটখাটো ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করার দরকার নেই কিন্তু এই নীরবতাই
প্রতারকদের সাহস বাড়ায়। আপনি অভিযোগ করলে শুধু নিজের সুরক্ষা নয় অন্যদেরে
ফাঁদে পড়া থেকে রক্ষা করা সম্ভব। আইনগত সচেতনতা ও দ্রুত পদক্ষেপে ফেক কলের
বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী।
উপসংহার মোবাইলের ফেক কল বন্ধ করার উপায়
মোবাইলে ফেক বলা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হয়তো কঠিন কিন্তু সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে এর পরিমাণ অনেক কমানো সম্ভব। ফোনের নিজস্ব ফিচার ব্যবহার নির্ভরযোগ্য অ্যাপ ইন্সটল অপারেটরকে জানানো এবং সর্বোপরি সচেতন থাকা এ চারটে ধাপ অনুসরণ করলে আপনি অনেকটাই নিরাপদ থাকতে পারবেন। আপনার ব্যক্তিগত তথ্য ও সময়ের মূল্য রয়েছে তাই অজানা কলকে হালকা ভাবে না নিয়ে সঠিক পদক্ষেপ নিন। তাহলে বড় কোন বিপদ থেকে বাঁচার সম্ভাবনা রয়েছে। ধন্যবাদ

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url