যে ১৫টি কারণে আলা জিহ্বা ফুলে যেতে পারে
আলা জিহ্বা হলো মুখের ভেতরে গলার একদম পেছনে থাকা ছোট একটি মাংসল অংশ, যা গিলতে, কথা বলতে এবং গলার সুরক্ষা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিভিন্ন কারণে এই আলা জিহ্বায় প্রদাহ বা ফোলা দেখা দিতে পারে। কখনো এটি সাময়িক সমস্যা হলেও, অনেক সময় এটি শরীরের অন্য কোনো সমস্যার সংকেত হতে পারে।
অ্যালার্জি, ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ, গরম খাবারের আঘাত, পেটের অ্যাসিডের সমস্যা, মুখের শুষ্কতা, ধূমপানসহ বিভিন্ন কারণে আলা জিহ্বা ফুলে যেতে পারে। এই সমস্যার কারণে গলায় কিছু আটকে থাকার অনুভূতি, ব্যথা, জ্বালাপোড়া, গিলতে কষ্ট বা অস্বস্তি হতে পারে। তাই আলা জিহ্বা ফুলে যাওয়ার কারণগুলো জানা এবং সঠিক সময়ে যত্ন নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সূচিপত্রঃ যে ১৫টি কারণে আলা জিহ্বা ফুলে যেতে পারে
- যে ১৫টি কারণে আলা জিহ্বা ফুলে যেতে পারে
- আপনার যদি অ্যালার্জি থাকে
- কিছু ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
- আলা জিহ্বাতে সংক্রমণ
- ত্বক এর সমস্যা
- আলা জিহ্বাতে আঘাত
- পেটের অ্যাসিডের জন্য জ্বালা
- আপনার মুখ সব সময় শুষ্ক থাকলে
- ঘুমানোর সময় জোরে নাক ডাকা
- অ্যালকোহল এবং ধূমপান করলে
- ভিটামিনের অভাব
- জিহ্বা ক্যান্সার
- শেষ কথাঃ যে ১৫টি কারণে আলা জিহ্বা ফুলে যেতে পারে
যে ১৫টি কারণে আলা জিহ্বা ফুলে যেতে পারে
আলাদা জিহ্বা ফুলে যাওয়া একটি সাধারণ সমস্যা হলেও অনেক সময় এটি শরীরের ভেতরে থাকা গুরুতর কোনো রোগ বা অ্যালার্জির ইঙ্গিত হতে পারে। খাবার, ওষুধ, সংক্রমণ, আঘাত কিংবা পুষ্টির ঘাটতিসহ বিভিন্ন কারণে জিহ্বা ফুলে যেতে পারে। তাই সমস্যাটিকে অবহেলা না করে এর প্রকৃত কারণ জানা এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
আরো পড়ুনঃরক্তনালি পরিষ্কার রাখার উপায়
আপনার যদি অ্যালার্জি থাকে
যে ১৫টি কারণে আলা জিহ্বা ফুলে যেতে পারে তার প্রধান কারণ হতে পারে যদি আপনার এলার্জি থেকে থাকে।আপনার যদি অ্যালার্জি থাকে, তাহলে নির্দিষ্ট কিছু খাবার, ওষুধ, পোকামাকড়ের কামড় বা পরিবেশগত উপাদানের সংস্পর্শে আসার পর জিহ্বা ফুলে যেতে পারে। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়ার কারণে ঘটে, যার ফলে জিহ্বা, ঠোঁট বা গলার অংশেও ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। অনেক সময় এর সঙ্গে চুলকানি, ত্বকে র্যাশ, শ্বাস নিতে কষ্ট বা গিলতে সমস্যা হতে পারে।
অ্যালার্জির কারণে জিহ্বা ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে যদি শ্বাসকষ্ট, গলা শক্ত হয়ে যাওয়া বা দ্রুত ফোলাভাব বাড়তে থাকে, তাহলে এটি জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। তাই অ্যালার্জির কারণ শনাক্ত করে তা এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করা সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
কিছু ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেও জিহ্বা ফুলে যেতে পারে। বিশেষ করে কিছু অ্যান্টিবায়োটিক, ব্যথানাশক, উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ বা অন্যান্য ওষুধে কারও কারও শরীরে অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এর ফলে জিহ্বা হঠাৎ ফুলে যাওয়া, ঠোঁট বা মুখের ভেতরে ফোলাভাব, চুলকানি কিংবা গিলতে অসুবিধা হতে পারে।
যদি কোনো নতুন ওষুধ খাওয়ার পর জিহ্বা ফুলে যায় বা শ্বাস নিতে কষ্ট, গলা ফুলে যাওয়া কিংবা তীব্র অস্বস্তি অনুভূত হয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ বা পরিবর্তন করা ঠিক নয়। ভবিষ্যতে একই ওষুধ ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসককে পূর্বের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিষয়টি জানিয়ে রাখুন।
আলা জিহ্বাতে সংক্রমণ
ত্বক এর সমস্যা
ত্বকের সমস্যা বর্তমানে অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। বিভিন্ন কারণে যেমন ধুলাবালি, জীবাণুর সংক্রমণ, অ্যালার্জি, হরমোনের পরিবর্তন, অতিরিক্ত রোদ ও ত্বকের সঠিক যত্ন না নেওয়ার কারণে ত্বকে নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে। ব্রণ, চুলকানি, ফুসকুড়ি, দাদ, শুষ্ক ত্বক ও লালচে দাগ ত্বকের সাধারণ সমস্যার মধ্যে পড়ে।
ত্বকের সমস্যার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাকের সংক্রমণ। এছাড়া ভুল প্রসাধনী ব্যবহার, অপরিষ্কার ত্বক, অতিরিক্ত ঘাম এবং শরীরের ভেতরের কিছু পরিবর্তনের কারণেও ত্বকে সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় অ্যালার্জির কারণে ত্বকে চুলকানি, ফোলা ও ছোট ছোট দানা হতে পারে।
ত্বক ভালো রাখতে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, পর্যাপ্ত পানি পান করা, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং ত্বকের ধরন অনুযায়ী যত্ন নেওয়া জরুরি। ত্বকে দীর্ঘদিন কোনো সমস্যা থাকলে বা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক যত্ন ও সচেতনতার মাধ্যমে ত্বককে সুস্থ ও সুন্দর রাখা সম্ভব।
আলা জিহ্বাতে আঘাত
আলা জিহ্বা মুখের ভেতরে গলার পিছনে ঝুলে থাকা ছোট মাংসল অংশ। বিভিন্ন কারণে আলা জিহ্বাতে আঘাত বা ক্ষতি হতে পারে। গরম খাবার বা পানীয় খাওয়া, শক্ত খাবারের আঘাত, অসাবধানতাবশত ধারালো খাবার দিয়ে ঘষা লাগা কিংবা কোনো চিকিৎসাজনিত কারণে আলা জিহ্বাতে ব্যথা বা অস্বস্তি হতে পারে।
আলা জিহ্বাতে আঘাত লাগলে সাধারণত ফুলে যাওয়া, ব্যথা, গিলতে কষ্ট, গলায় কিছু আটকে থাকার অনুভূতি এবং জ্বালাপোড়া হতে পারে। অনেক সময় আঘাতের কারণে সেখানে ছোট ক্ষত তৈরি হতে পারে, যা কথা বলা বা খাবার খাওয়ার সময় বেশি অনুভূত হয়।
আলা জিহ্বাতে আঘাত হলে অতিরিক্ত গরম ও ঝাল খাবার এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং মুখ পরিষ্কার রাখা জরুরি। সাধারণ ছোট আঘাত কয়েক দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। তবে যদি অতিরিক্ত ফোলা, শ্বাস নিতে সমস্যা, তীব্র ব্যথা বা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
পেটের অ্যাসিডের জন্য জ্বালা
পেটের অ্যাসিডের কারণে অনেক সময় গলা, বুক ও মুখের ভেতরে জ্বালাপোড়া অনুভূত হতে পারে। পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি হলে তা উপরের দিকে উঠে এসে গলা বা আলা জিহ্বাতে (Uvula) অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। এই সমস্যাকে সাধারণত অ্যাসিডিটি বা অ্যাসিড রিফ্লাক্স বলা হয়।
অতিরিক্ত ঝাল, তেলযুক্ত খাবার, বেশি সময় না খেয়ে থাকা, অতিরিক্ত চা-কফি পান করা, দুশ্চিন্তা এবং অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণে পেটে অ্যাসিড বাড়তে পারে। এর ফলে বুক জ্বালা, গলা জ্বালা, টক ঢেঁকুর, পেটে অস্বস্তি এবং গিলতে সমস্যা হতে পারে।
অ্যাসিডের জ্বালা কমাতে নিয়মিত সময়ে খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত ঝাল ও তেলযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং খাওয়ার পরপরই শুয়ে না পড়া উচিত। দীর্ঘদিন ধরে বুক জ্বালা, গলা জ্বালা বা খাবার গিলতে সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
আপনার মুখ সব সময় শুষ্ক থাকলে
মুখ সব সময় শুষ্ক থাকা বা মুখে লালা কম তৈরি হওয়াকে শুষ্ক মুখ বলা হয়। মুখের ভেতরে পর্যাপ্ত লালা না থাকলে আলা জিহ্বা, জিহ্বা ও গলার অংশে অস্বস্তি, জ্বালাপোড়া এবং শুষ্ক অনুভূতি হতে পারে। দীর্ঘ সময় মুখ শুষ্ক থাকলে কথা বলা, খাবার গেলা এবং মুখের স্বাভাবিক স্বাদ অনুভব করতেও সমস্যা হতে পারে।
মুখ শুষ্ক হওয়ার বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। যেমন শরীরে পানির ঘাটতি, অতিরিক্ত মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, মানসিক চাপ, ধূমপান এবং কিছু শারীরিক সমস্যার কারণে মুখ শুকিয়ে যেতে পারে। এছাড়া পর্যাপ্ত পানি না পান করলেও মুখে লালা কমে যেতে পারে।
মুখের শুষ্কতা কমাতে পর্যাপ্ত পানি পান করা, মুখ পরিষ্কার রাখা, অতিরিক্ত চা-কফি ও ধূমপান এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া উচিত। যদি দীর্ঘদিন ধরে মুখ শুষ্ক থাকে, মুখে ঘা হয় বা গিলতে সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
ঘুমানোর সময় জোরে নাক ডাকা
ঘুমানোর সময় জোরে নাক ডাকা একটি সাধারণ সমস্যা, যা অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। ঘুমের সময় নাক ও গলার ভেতরের বাতাস চলাচলের পথে বাধা সৃষ্টি হলে আশপাশের টিস্যু কাঁপতে থাকে এবং এর ফলে নাক ডাকার শব্দ হয়। অনেক সময় এটি সাধারণ সমস্যা হলেও, কিছু ক্ষেত্রে এটি শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
নাক ডাকার বিভিন্ন কারণ রয়েছে। যেমন নাক বন্ধ থাকা, সর্দি বা অ্যালার্জি, অতিরিক্ত ওজন, গলার পেশি ঢিলে হয়ে যাওয়া, ঘুমের ভুল ভঙ্গি এবং ধূমপান। এছাড়া কিছু মানুষের ক্ষেত্রে Sleep Apnea নামের সমস্যার কারণে ঘুমের মধ্যে শ্বাস আটকে যাওয়া, বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া এবং অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে।
নাক ডাকা কমাতে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিয়মিত ব্যায়াম করা, পাশ ফিরে ঘুমানো, ধূমপান এড়িয়ে চলা এবং নাক পরিষ্কার রাখা উপকারী হতে পারে। যদি খুব জোরে নাক ডাকা, ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া বা দিনে অতিরিক্ত ঘুম পাওয়ার মতো সমস্যা থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
অ্যালকোহল এবং ধূমপান করলে
অ্যালকোহল ও ধূমপান শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে মুখ, গলা ও আলা জিহ্বার স্বাভাবিক কার্যক্রমে সমস্যা তৈরি করতে পারে। অ্যালকোহল শরীরের পানির ঘাটতি বাড়িয়ে মুখ ও গলা শুষ্ক করে দিতে পারে। অন্যদিকে, ধূমপানের ধোঁয়ার ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ মুখ ও গলার ভেতরের অংশে জ্বালা, প্রদাহ এবং অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে।
দীর্ঘদিন অ্যালকোহল পান ও ধূমপানের অভ্যাস থাকলে মুখে দুর্গন্ধ, গলা শুকিয়ে যাওয়া, কাশি, গলার জ্বালা এবং মুখের বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। ধূমপানের কারণে মুখের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং আলা জিহ্বা ও গলার স্বাভাবিক অবস্থাতেও প্রভাব পড়তে পারে।
সুস্থ মুখ ও গলার জন্য অ্যালকোহল ও ধূমপান থেকে দূরে থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত পানি পান করা, মুখের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করলে এসব সমস্যা কমানো সম্ভব। যদি দীর্ঘদিন ধরে গলা ব্যথা, মুখে ঘা, জ্বালা বা কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা যায়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ভিটামিনের অভাব
শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিনের ঘাটতি হলে মুখ, জিহ্বা ও আলা জিহ্বাতে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। ভিটামিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, ত্বক ও মুখের সুস্থতা বজায় রাখা এবং কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই দীর্ঘদিন কোনো ভিটামিনের অভাব থাকলে মুখে ঘা, জ্বালাপোড়া, শুষ্কতা ও অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে।
ভিটামিনের ঘাটতির কারণে মুখ ও জিহ্বার বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। যেমনঃ
জিহ্বা ক্যান্সার
জিহ্বা ক্যান্সার হলো মুখের ভেতরে জিহ্বার কোষে অস্বাভাবিকভাবে কোষ বৃদ্ধি পাওয়ার একটি গুরুতর সমস্যা। শুরুতে এটি সাধারণ মুখের ঘা বা ক্ষতের মতো মনে হতে পারে, তাই অনেক সময় মানুষ বিষয়টি অবহেলা করে। তবে দীর্ঘদিন জিহ্বায় কোনো পরিবর্তন থাকলে দ্রুত পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।
জিহ্বা ক্যান্সারের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘদিন ধূমপান করা, অ্যালকোহল পান করা, তামাক বা জর্দা ব্যবহার এবং মুখের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে Human Papillomavirus ভাইরাসের সংক্রমণও ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
জিহ্বা ক্যান্সারের লক্ষণের মধ্যে রয়েছে দীর্ঘদিন জিহ্বায় ঘা না শুকানো, জিহ্বায় সাদা বা লাল দাগ, ব্যথা, জ্বালাপোড়া, গিলতে কষ্ট, কথা বলতে সমস্যা এবং জিহ্বায় অস্বাভাবিক গুটি বা শক্ত অংশ তৈরি হওয়া। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সুস্থ থাকতে ধূমপান, তামাক ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা, মুখের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং নিয়মিত মুখের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা জরুরি। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে জিহ্বা ক্যান্সারের চিকিৎসা সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
শেষ কথাঃ যে ১৫টি কারণে আলা জিহ্বা ফুলে যেতে পারে
আলা জিহ্বা ফুলে যাওয়া অনেক সময় সাধারণ কোনো কারণে হতে পারে, আবার কখনো এটি শরীরের ভেতরের কোনো সমস্যার লক্ষণও হতে পারে। অ্যালার্জি, সংক্রমণ, আঘাত, অ্যাসিডিটি, পানিশূন্যতা বা মুখের বিভিন্ন সমস্যার কারণে আলা জিহ্বা ফুলে যেতে পারে। তাই দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলে বা শ্বাস নিতে কষ্ট হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url