ইউরিন ইনফেকশন দূর করার উপায়

ইউরিন ইনফেকশন দূর করার আগে জানতে হবে ইনফেকশান টা হয় কিভাবে।বর্তমান সময়ে ইউরিন ইনফেকশান একটি কমন সমস্যা।ইউরিন ইনফেকশান দূর করার উপায় আছে অনেক রকম,সেগুলো বিষয় জানতে পড়তে হবে আজকের আর্টিকেলটি।

ইউরিন-ইনফেকশান-দূর-করার-উপায়

আজকের আর্টিকেলটিতে আমি ইউরিন ইনফেকশন দূর করার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।ইউরিন ইনফেকশন বিষয়ে আমাদের সকলের সচেতন হওয়া উচিত।

ইউরিন ইনফেকশন কি এবং এর লক্ষণসমূহ

ইউরিন ইনফেকশান বা কিভাবে সংক্রমণ হলো এমন একটি সমস্যা, যেখানে আমাদের মতো নালীতে জীবাণু প্রবেশ করে সংক্রম সৃষ্টি করে। সাধারণত ব্যাকটেরিয়া, বিশেষ করে E.coli, এই ইনফেকশনের জন্য দায়ী। এটি পুরুষ ও মহিলা উভয়েরই হতে পারে, তবে নারীদের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। কারণ নারীদের মতো নারী ছোট হয় জীবাণু সহজে প্রবেশ করতে পারে।

ইউরিন ইনফেকশনের ধরন

এই সংক্রমণটি মূলত তিন ধরনের হতে পারে-ইউরেথ্রা(মূত্রনালী), ব্লাডার(মূত্রথলি) এবং কিডনি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়লে তা আরো গুরুতর হয়। যদি শুধু মূত্রনালী বা মূত্রথলিতে সংক্রমণ থাকে, তা সাধারণত হালকা হয়। কিন্তু সময়মতো চিকিৎসা না নিলে সংক্রমণ কিডনিতে পৌঁছে জটিলতা তৈরি করতে পারে।

ইউরিন ইনফেকশনের লক্ষণসমূহ

ইউরিন ইনফেকশন হলে কয়েকটি স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় যেমন-ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ আসা, প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া বা ব্যথা অনুভব করা, প্রস্রাবের গন্ধ বা রঙে পরিবর্তন(গারো বা ঘোলা হয়ে যাওয়া), তলপেট বা কোমরে ব্যথা, কখনো জ্বর বা ঠান্ডা লাগা। অনেক সময় কিডনি আক্রান্ত হলে পিঠে তীব্র ব্যথা ও বমিভাব দেখা দিতে পারে। 

ইনফেকশন প্রতিরোধে পর্যাপ্ত পানি পান করা সবচেয়ে কার্যকর উপায়। প্রতিদিন অন্তত আট থেকে দশ গ্লাস পানি পান করলে মূত্রনালী পরিষ্কার থাকে এবং জীবাণু বের হয়ে যায়। প্রস্রাব চেপে না রাখা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, যৌন সম্পর্কের পর প্রস্রাব করা এবং অন্তর বাস নিয়মিত পরিবর্তন করা এসব অভ্যাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করে। সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শে যথাযথ ওষুধ গ্রহণ করায় নিরাপদ ও কার্যকর সমাধান।

প্রস্রাবে ইনফেকশন হলে কি ওষুধ খেতে হবে?

প্রস্রাবে ইনফেকশন বা ইউ টি আই সাধারণত ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। এর ফলে প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া, ব্যথা, বারবার প্রস্রাবের বেগ আশ, প্রস্রাব ঘোলা বা দুর্গন্ধযুক্ত হওয়া, পেটের নিচের দিকে ব্যথা কিংবা কখনো জ্বর দেখা দিতে পারে। এই অবস্থায় অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত কারণ সংক্রমনের মাত্রা ও ব্যাকটেরিয়া ধর্ম অনুযায়ী ঔষধ নির্ধারণ করতে হয়। সাধারণত চিকিৎসকরা nitrofuration,ciprofloxacin,cefixime বা Trimethoprim-sulfamethoxazole জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক দিতে পারেন। তবে নিজের ইচ্ছায় ঔষধ খাওয়া বিপজ্জনক, এতে সংক্রমণ পুরোপুরি নাসেরে পুনরায় হতে পারে এবং ব্যাকটেরিয়া ঔষধে প্রতিরোধই হয়ে যেতে পারে।
চিকিৎসার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করা প্রতিদিন অন্তত দুই থেকে তিন লিটার পর্যন্ত পানি খেতে হবে যদি কিডনিতে সমস্যা না থাকে। প্রস্রাব চেপে না রাখা, হালকা খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত ঝাল বা মিষ্টি খাবার এড়িয়ে চলা এবং নিচের পেটে গরম পানি শেক নেওয়া উপকারী। ডাক্তারের কাছে গেলে সাধারণত Urine R/E,Urine C/S টেস্ট করানো হয়। কোন ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ ঘটিয়েছে এবং কোন অ্যান্টিবায়োটিক সবচেয়ে কার্যকর হবে। একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সঠিক ওষুধ সেবন করায় নিরাপদ ও কার্যকর উপায়।

গর্ভাবস্থায় প্রস্রাবে ইনফেকশনের লক্ষণ ও প্রতিকার

গর্ভাবস্থায় প্রসাবে ইনফেকশন একটি খুব সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। গর্ভকালীন সময়ে শরীরে হরমোন জনিত পরিবর্তন ও মূত্রনালী চাপের কারণে এই সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। নিম্নে আমি সহজভাবে প্রস্রাবে ইনফেকশনের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে আলোচনা করছি

গর্ভাবস্থায় প্রস্রাবে ইনফেকশন এর লক্ষণ

  1. প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া বা ব্যথা হওয়া
  2. বারবার প্রস্রাবের বেগ আসা কিন্তু অল্প প্রস্রাব হওয়া
  3. প্রস্রাব ঘোলা বা দুর্গন্ধযুক্ত হওয়া
  4. পেটের নিচের দিকে বা কোমরে ব্যথা
  5. জ্বর, কাঁপুনি বা বমি বমি ভাব(সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে)
  6. নিজের পেটে ভারি ভারি ভাব বা চাপ অনুভব করা

গর্ভাবস্থায় সংক্রমণের প্রতিকার

হরমোন জনিত পরিবর্তনের কারণে মূত্রনালী কিছুটা ঢিলে হয়ে যায়, অনেক ব্যাকটেরিয়া সহজে প্রবেশ করে। জরায়ুর বৃদ্ধি মুত্রাশয়ের উপর চাপ সৃষ্টি করে, হলে প্রস্রাব পুরোপুরি বের হতে পারে না। পানি কম পান করা। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার অভাব। গর্ভাবস্থায় যেকোনো ঔষধ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া খাওয়া একদমই উচিত নয়। তবে সাধারণত ডাক্তাররা গর্ভবতী নারীদের জন্য নিরাপদ এন্টিবায়োটিক দেন যেমন Amoxicillin, Cephalexin, Nitrofurantoin(প্রথম ও শেষ মাসে সতর্কতা প্রয়োজন)।
গর্ভাবস্থায়-ইনফেকশনের-প্রতিকার

দিনে অন্তত ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করুন। প্রস্রাব চেপে রাখবেন না। টয়লেট ব্যবহারের পর সামনে থেকে পিছনে মুছবেন। তুলার অন্তর বাস করুন এবং নিয়মিত পরিবর্তন করুন। তুলার অন্তর্বাস পড়ুন এবং নিয়মিত পরিবর্তন করুন। খুব টাইপ পোশাক বা সিনথেটিক অন্তর্বাস করবেন না। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন ও হালকা, পুষ্টিকর খাবার খান।

প্রস্রাবে ইনফেকশনের ঘরোয়া উপায়

প্রস্রাবে ইনফেকশন হলে প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু ঘরোয়া উপায় খুব উপকারী হতে পারে বিশেষ করে যদি সংক্রমণটি হালকা হয়। তবে মনে রাখবেন যদি জ্বর, ব্যথা বা প্রস্রাবে রক্ত আসে তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। নিম্নে কিছু ঘরোয়া প্রতিকার সম্পর্কে আলোচনা করব

  • প্রচুর পানি পান করুনঃ প্রতিদিন অন্তত দুই থেকে তিন লিটার পানি পান করুন। এতে প্রসাবের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া বের হয়ে যায় এবং সংক্রমণ দ্রুত কমে।
  • লেবু ও পানির মিশ্রণঃ এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে আধা লেবুর রস মিশিয়ে সকালে খালি পেটে খান। এটি শরীরের অম্লতা সামঞ্জস্য রাখে এবং ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিতে বাধা দেয়।
  • মধু ও তুলসী পাতাঃ তিন চারটি তুলসী পাতার রসের সঙ্গে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে দিনে এক থেকে দুইবার খেতে পারেন। তুলসীতে প্রচুর এন্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকে যা সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
  • রসুনঃ রসুন প্রাকৃতিক এন্টিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে। প্রতিদিন এক থেকে দুই কোয়া কাঁচা রসুন খেতে পারেন অথবা রান্নায় বেশি ব্যবহার করুন।
  • নারকেল পানি ও করলা রসঃ নারকেল পানি শরীর ঠান্ডা রাখে এবং প্রসাব পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। করলা রস ব্যাকটেরিয়া নাশক এবং লিভার পরিষ্কার রাখে। সকালে খালি পেটে আধা কাপ খেলে উপকার পাওয়া যায়।

বারবার ইউরিন ইনফেকশন কেন হয়?

বারবার ইউরিন ইনফেকশন বা প্রসাবের সংক্রমণ এমন একটি সমস্যা, যেখানে সংক্রমণ একবার সেরে যাওয়ার পর কিছুদিনের মধ্যে আবার ফিরে আসে। সাধারণত ৬ মাসে দুইবার বা এক বছরে তিনবারের বেশি হলে এটিকে বারবার ইনফেকশন বলা হয়। এর প্রধান কারণ হলো প্রথমবারের সংক্রমনের ব্যাকটেরিয়া পুরোপুরি না মারা গেলে তা শরীরে থেকে যায় এবং পরে আবার বৃদ্ধি পায়। অপরিচ্ছন্ন টয়লেট ব্যবহার, টয়লেটের পর ভুল ভাবে মোথা বিশেষ করে পিছন থেকে সামনে, টাইপ বা সিনথেটিক অন্তর বাস পরা এবং কম পানি পান করার কারণে সংক্রমণে ঝুঁকি বেড়ে যায়। 

নারীদের ক্ষেত্রে মূত্রনালী ছোট হয় ব্যাকটেরিয়া সহজে প্রবেশ করে, তাই তাদের মধ্যে এই সমস্যা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। যৌন মিলনের পর সংক্রমণ হওয়া একটি সাধারণ কারণ। অন্যান্য কিছু শারীরিক সমস্যা যেমন ডায়াবেটিস, কিডনিতে পাথর, প্রস্রাব জমে থাকা, পোস্টেদের সমস্যা বা শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় ইউরিন ইনফেকশনের বারবার ঘটাতে পারে। 

অনেক সময় সঠিক পরীক্ষা না করে ওষুধ খাওয়া হলে সংক্রমণ সম্পূর্ণ সরে না ফলে আবার ফিরে আসে। এই সমস্যা প্রতিরোধে নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পান করা, পস্রাব চেপে না রাখা, প্রতিবার টয়লেট ব্যবহারের পর সামনে থেকে পিছনে মোছা, তুলার অন্তর্বাস পড়া ও প্রতিদিন পরিবর্তন করা, যৌন মিলনের আগে ও পরে প্রস্রাব করা জরুরী। প্রতিবার সংক্রমণ হলে ইউরিন কালচার টেস্ট করে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সম্পূর্ণ ওষুধ খাওয়া উচিত। এ অভ্যাস গুলো নিয়মিত মানলে বারবার ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

ইউরিন ইনফেকশন হলে কি কি সমস্যা হয়?

ইউরিন ইনফেকশন হলে নানান ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। ইউরিন ইনফেকশন হলে যেসব সমস্যা দেখা দেয় তা নিম্নে দেওয়া হলো-
  • প্রসবের সময় জ্বালাপোড়া বা ব্যথাঃ প্রসব করার সময় নিজের দিকে জ্বালাপোড়া, চুলকানি মার্কেটে যাওয়ার মত ব্যথা অনুভূত হয় এটি সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ।
  • বারবার প্রস্রাবের বেগ আসেঃ প্রস্রাবের বেগ বারবার আসে কিন্তু প্রতিবার খুব অল্প হয়। অনেক সময় মনে হয় মূত্রাশয় পুরোপুরি খালি হচ্ছে না।
  • প্রস্রাব ঘোলা, গন্ধযুক্ত বা রং পরিবর্তনঃ পৌসাব ঘোলা হয়ে যেতে পারে, কখনো রক্ত মিশে হালকা লালচে বা বাদামী রং ধারণ করতে পারে। দুর্গন্ধ একটি সাধারণ লক্ষণ।
  • পেটের নিচের অংশে ও কোমরে ব্যথাঃ সংক্রমণ হলে নিচের পেটে ব্যথা হয়। সংক্রমণ কিডনি পর্যন্ত পৌঁছালে কোমর বা পিঠের পাশে ব্যথা শুরু হয়।
  • জ্বর ঠান্ডা লাগা ও দুর্বলতাঃ সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে জ্বর, কাপুনি, মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব বা শরীর দুর্বল লাগতে পারে।
  • গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকিঃ গর্ভাবস্থায় ইউরিন ইনফেকশন সময় মত চিকিৎসা না করায় অকাল প্রসব, কম ওজনের শিশু জন্ম বা কিডনি ইনফেকশন পর্যন্ত হতে পারে।

প্রস্রাবে ইনফেকশন হলে কি খেতে হবে

প্রস্রাবে ইনফেকশন বা ইউরিনারি ট্যাক্ট ইনফেকশন হলে শরীর থেকে ব্যাকটেরিয়া দূর করতে এবং দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য সঠিক খাবার খাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় প্রচুর পানি পান করতে হবে কারণ পানি ব্যাকটেরিয়াকে প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেয়। প্রতিদিন অন্তত দুই থেকে তিন লিটার পানি পান করা উচিত। পানি সমৃদ্ধ ফল যেমন-তরমুজ, শসা, কমলা, পেঁপে, আনারস এবং ডাবের পানি শরীর ঠান্ডা রাখে ও প্রসাব পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। সকালে খালি পেটে এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে খেলে শরীরের অমূলতা কমে ও সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়তা করে।

ত্রান বেরি জুসার ইউরিন ইনফেকশন প্রতিরোধে উপকারী। এছাড়া দই খাওয়া ভালো কারণ এতে থাকা প্রবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে। রসুন, আদা ও তুলসী পাতার মতো প্রাকৃতিক উপাদান গুলোর এন্টি ব্যাকটেরিয়াল গুণ সংক্রমণ দূর করতে কার্যকরী। এই সময় ভারী, মসলাযুক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। ইউরিন ইনফেকশন দূর করার উপায় সম্পর্কে আমাদের সবার জানা উচিত।
কারণ এগুলো মুদ্রাসয়কে উত্তেজিত করে ব্যথা বা জ্বালা বাড়াতে পারে। চা, কফি, সফট ড্রিঙ্ক স এবং অতিরিক্ত চিনি বা লবণযুক্ত খাবারো পরিহার করা দরকার।সংক্ষেপে ইউরিন ইনফেকশন হলে পর্যাপ্ত পানি পান করা, হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়া, ফলমূল ও ডাবের পানি গ্রহণ এবং ঝাল মিষ্টি খাবার এড়িয়ে চলায় সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সঠিক খাদ্যাভাসের মাধ্যমে সংক্রমণ দ্রুত সেরে যায় ও ভবিষ্যতে পুনরায় ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি কমে।

মূত্রনালীর সংক্রমণ প্রতিরোধের উপায়

মূত্রনালীর সংক্রমণ প্রতিরোধের উপায় জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি বারবার হতে পারে এবং কিডনির মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে প্রভাব ফেলতে পারে। নিম্নে মূত্রনালীর সংক্রমণ প্রতিরোধের উপায় বর্ণনা করা হলো
  • প্রচুর পানি পান করুন। দিনে অন্তত দুই থেকে তিন লিটার পানি পান করুন
  • প্রস্রাব চেপে রাখবেন না এতে করে ব্যাকটেরিয়া মুত্রাশয় থেকে বংশবিস্তার করতে পারে।
  • টয়লেট ব্যবহারের পর সঠিকভাবে পরিষ্কার করুন সামনে থেকে পিছনের দিকে মুছতে হবে যাতে মলদ্বারে ব্যাকটেরিয়া মুত্রনালিতে প্রবেশ করতে না পারে।
  • পরিছন্ন ও আরামদায়ক পোশাক পড়ুন
  • যৌন মিলনের আগে ও পরে প্রস্রাব করুন
  • সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাবার খান যেমন-ফল সবজি, দই ও ডাবের পানি ইত্যাদি
  • ঝাল, মিষ্টি ও ক্যাফেইন যুক্ত খাবার কমান
  • রোগ থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখুন
  • প্রয়োজনে নিয়মিত প্রস্রাব পরীক্ষা করুন

মেয়েদের প্রস্রাবের ইনফেকশন হবার কারণ

মেয়েদের মধ্যে প্রসাবে ইনফেকশন অনেক বেশি দেখা যায়। এর প্রধান কারণ হলো নারীদের শারীরিক গঠন এবং হরমোন জনিত পরিবর্তন। নিম্নে এই ইনফেকশন হবার কারণ উল্লেখ করা হলো-
  • মূত্রনালী ছোট ও শট পথ
  • মলদ্বারের ব্যাকটেরিয়া
  • যৌন মিলনের সময় সংক্রমণ
  • গর্ভাবস্থা
  • হরমোন পরিবর্তন
  • পরিচ্ছন্নতার অভাব
  • অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা

উপসংহার

প্রস্রাবে ইনফেকশন বা ইউরিনারি ট্যাকট ইনফেকশন সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সমস্যা। এটি হালকা মনে হলেও যদি অবহেলা করা হয়, তবে কিডনি বা শরীরের অন্যান্য অংশের গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। নারীদের মধ্যে ইউটিআই বেশি দেখা যায় কারণ তাদের মূত্রনালী ছোট বা শারীরিক গঠন, হরমোন পরিবর্তন ও পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত অভ্যাসের কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে। ইউরিন ইনফেকশন দূর করার উপায় অনেক আছে। আজকের আর্টিকেলটিতে ইউরিন ইনফেকশন দূর করার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আশা করি আজকের আর্টিকেলটি পড়লে আপনারা ইউরিন ইনফেকশন সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পাবেন।




এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪