কিডনি ভালো রাখার ১০ টি উপায়
কিডনি আমাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা রক্ত পরিশোধন ও বর্জ্য পদার্থ দূর করার কাজ করে। সুস্থ কিডনি মানে সুস্থ শরীর ও সঠিক দেহ ক্রিয়া। বর্তমান ব্যস্ত জীবনযাপন ও অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভাসে কিডনি রোগের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। তাই কিডনি ভালো রাখার জন্য কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চলা অত্যন্ত জরুরী।
আজকের আর্টিকেলটিতে আমি কিডনি ভালো রাখার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। কিডনি আমাদের শরীরের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি অঙ্গ। তাই এই কিডনির যত্ন নেওয়া আমাদের জন্য খুবই জরুরী।
কিডনি ভালো রাখার খাদ্য
কিডনি শরীরের পরিশোধনাগার হিসেবে কাজ করে রক্ত পরিশোধন, বর্জ্য পদার্থ বের
করা এবং শরীরের জল লবণের ভারসাম্য বজায় রাখা এর প্রধান দায়িত্ব। তাই কিডনিকে
সুস্থ রাখতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত জরুরী। নিম্নে এমন কিছু খাবারের তালিকা
দেয়া হলো তার নিয়মিত খেলে কিডনি থাকবে সুস্থ ও কর্মক্ষম।
- তাজা ফল ও শাক সবজিঃ আপেল, পেয়ারা, কলা, লাউ, শসা ও করলা কিডনির জন্য উপকারী। এসব খাবারের ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যার শরীর থেকে টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত পানিঃ প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে 8 থেকে 10 গ্লাস পানি পান করলে কিডনিতে জমে থাকা বজ্র সহজে বের হয়ে যায় এবং পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমে।
- ওটস ও আঁশযুক্ত শস্যঃ ওটস, ব্রাউন রাইস ও ডাল জাতীয় খাবার রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখে যা কিডনির উপর বাড়তি চাপ পড়তে দেয় না।
- লেবু পানি ও তরমুজঃ লেবু ও তরমুজে থাকা প্রাকৃতিক সাইট্রেট ইউরিক এসিড ও কিডনি পাথরের ঝুঁকি কমায়।
- কম লবণযুক্ত খাবারঃ লবণ কম খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে ফলে কিডনির উপর চাপ কমে যায়।
- নিয়ন্ত্রিত প্রোটিনঃ মাছ, ডিমের সাদা অংশ ও ডাল পরিমিত পরিমাণে খেলে কিডনির প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় তবে অতিরিক্ত প্রোটিন এড়িয়ে চলা উচিত।
- গ্রিন টি ও হারবাল চাঃ এসব পানি ওতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কিডনিকে ফ্রি মেডিকেলের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।
কিডনি ভালো আছে কিনা বোঝার উপায়
কিডনি ভালো রাখার জন্য প্রথমে যে দিকে খেয়াল করতে হবে তাহলে আছে কিনা সেটা
দেখার জরুরী। কিডনি আমাদের শরীরের পরিশোধনাগার হিসেবে কাজ করে। এটি রক্ত থেকে
বজ্র পদার্থ থেকে বের করে দেয় এবং শরীরের জল ও লবণের ভারসাম্য রক্ষা করে।
কিন্তু কিডনির সমস্যা হলে তা অনেক সময় শুরুতে বোঝা যায় না, কারণ বেশিরভাগ
ক্ষেত্রে লক্ষণগুলো খুব ধীরে প্রকাশ পায়। তাই শরীরের কিছু সাধারন পরিবর্তন
লক্ষ্য করে প্রাথমিকভাবে বোঝা যায় কিডনি ঠিকমতো কাজ করছে কিনা।
যদি কিডনি ভালো থাকে, তাহলে পোস্টাবের রং হবে হালকা ও পরিমাণও স্বাভাবিক থাকবে।
কিন্তু প্রসাবের রং গারো হয়ে যাওয়া, ফেনাযুক্ত হওয়া বা খুব কম পরিমাণে
প্রস্রাব হওয়া কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। এছাড়া চোখের নিচে, মুখে বা
পায়ে ফুলে যাওয়া, শরীরের অস্বাভাবিক ক্লান্তি, ক্ষুধা মন্দা, মমিভাব কিংবা
ত্বকে চুলকানি দেখা দিলে তা কিডনির অসুস্থতার লক্ষণ হতে পারে।নিয়মিত কিছু
পরীক্ষা করেও কিডনির সুস্থতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় যেমন রক্তে
ক্রিয়াটিনিন ন ও ইউরিয়া এর মাত্রা পরীক্ষা করা।
এছাড়াও ইউরিন টেস্ট করা এবং জিএফ এর নির্ধারণ করা। এইসব পরীক্ষার ফল স্বাভাবিক
থাকলে কিডনি সাধারণত ভালোভাবে কাজ করছে কিনা বোঝা যায়। সুস্থ কিডনির লক্ষণ হল
নিয়মিত ও স্বাভাবিক প্রস্রাব হওয়া, শরীরে ফোলা ভাব না থাকা, রক্তচাপ
নিয়ন্ত্রণে থাকা এবং কোন ক্লান্তি বা ত্বকের সমস্যা না থাকা। নিয়মিত
স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পর্যাপ্ত পানি পান করা ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস কিডনি কেশ
দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
লিভার ও কিডনি ভালো রাখার উপায়
লিভার ও কিডনি আমাদের শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি অঙ্গ। লিভার রক্ত
বিশুদ্ধ করে, হজমে সাহায্য করে এবং শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান
সংরক্ষণ করে।অন্যদিকে কিডনি শরীর থেকে বজ্র ও অতিরিক্ত পানি বের করে দেয় এবং
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। তাই এই দুটি অঙ্গ সুস্থ রাখা মানে পুরো শরীরকে সুস্থ
রাখা।
লিভার ও কিডনি ভালো রাখার উপায় হল সুষম ও পরিমিত খাদ্যাভ্যাস। তাজা ফল,
শাক-সবজি, আর যুক্ত খাবার, ওটস, লাউ, করলা, আপেল, পেঁপে, শসা ইত্যাদি খাবার
শরীরের টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করলে কিডনি
থেকে বজ্র সহজে বের হয়ে যায় এবং লিভারের কাজও সহজ হয়। অতিরিক্ত তৈলাক্ত,
ভাজাপোড়া ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা উচি্ত। কারণ এগুলো লিভারে চর্বি
জমিয়ে তার কার্যক্ষমতা নষ্ট করে।অ্যালকোহল, ধুমপান ও অতিরিক্ত ঔষধ গ্রহণ লিভার
ও কিডনির জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর।
এসব অভ্যাস থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা দরকার। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত
ব্যায়াম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ লিভার ও কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত
সহায়ক। রক্তচাপ, রক্তে চিনি ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখলে কিডনি ও লিভার
দীর্ঘদিন ভালো থাকে। এছাড়াও বছরে অন্তত একবার রক্ত ও প্রস্তাবে নিয়মিত
পরীক্ষা করা উচিত। যাতে লিভার এনজাইম ও কিডনি ফাংশন ঠিক আছে কিনা জানা যায়।
সময় মতো পরীক্ষা ও সচেতন জীবন-যাপনই পারে লিভার ও কিডনিকে সুস্থ ও কার্যক্রম
রাখতে।
কিডনি ভালো রাখার ব্যায়াম
কিডনি সুস্থ রাখতে নিয়মিত হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম-ত্যন্ত কার্যকর।
কিডনি ভালো রাখার উপায় হল প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা কিডনির রক্ত
প্রবাহ বাড়ায় এবং শরীর থেকে টক্সিন বের করতে সাহায্য করে। হাঁটা ছাড়াও
সাইকেল চালানো, হালকা দৌড়, দ যোগব্যায়াম এবং স্ট্রেচিং কিডনির কার্যক্ষমতা
বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
যোগ ব্যায়াম কিডনির জন্য বিশেষভাবে উপকারী। ভুজঙ্গাসন, পশ্চিমোত্ত্যানাসন
ও সেটু বন্ধাসন এই আসনগুলো কিডনির দিকে রক্ত প্রবাহ বাড়িয়ে তার
কার্যক্ষমতা উন্নত করে। এছাড়া প্রাণায়াম বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম রক্তে
অক্সিজেনের মাত্রা বৃদ্ধি করে, যা কিডনির কোষগুলোকে সক্রিয় রাখে। নিয়মিত
ব্যায়ামের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও মানসিক চাপ কমানো
খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আরো পড়ুনঃ
ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগের প্রতিকার ও প্রতিরোধ
অতিরিক্ত কঠিন ক্লান্ত করা কিডনির উপর চাপ ফেলতে পারে, তাই ধীরে ধীরে ও নিয়মিত
ব্যায়াম করায় সবচেয়ে ভালো। নিজের শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী বেছে নিতে হবে
এবং কোন রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ব্যায়াম শুরু করা উচিত। নিয়মিত
সচেতন ব্যায়াম কিডনি কে রাখবে দীর্ঘদিন সুস্থ ও কর্মঠ।
কিডনি ভালো রাখুন ঘরোয়া উপায়ে
মানব দেহের পরীশোধনাগার হিসেবে কি দিয়ে রক্ত থেকে বর্জ্য ও অতিরিক্ত পানি
ছেঁকে ফেলে আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখে। কিন্তু অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন,
অস্বাস্থ্যকর খাবার ও পর্যাপ্ত পানি না খাওয়ার কারণে কিডনির ওপর বারে বাড়তি
চাপ। তবে কিছু সহজ ঘরোয়া অভ্যাস গড়ে তুললে খুব সহজেই কিডনিকে সুস্থ রাখা
যায়। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা কিডনি সুস্থ রাখার সবচেয়ে সহজ
উপায়। পানি পানের মাধ্যমে শরীরের টক্সিন বের করে দেয় ও কিডনি স্বাভাবিক কাজকে
ত্বরান্বিত করে।
সকালে এক গ্লাস লেবু পানি বা উষ্ণ পানি মধুসহ পান করলে শরীরের বিষাক্ত উপাদান
দূর হয় এবং কিডনি থাকে পরিষ্কার। তরমুজ, শশা, লাউ, করলা, ডাবের পানি ইত্যাদি
শরীর ঠান্ডা রাখে এবং কিডনির জন্য অত্যন্ত উপকারী প্রাকৃতিক পানীয় হিসেবে কাজ
করে। খাবারে অতিরিক্ত লবণ, চর্বি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ
এগুলো কিডনির ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করে। পরিবর্তে বেশি করে তাজা ফল,
সবজি ও আঁশযুক্ত শস্য খাওয়া উচিত।
নিয়মিত হালকা ব্যায়াম যেমন হাটা, যোগব্যায়াম বা শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন
শরীরের রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে কিডনির কার্যক্ষমতা বাড়ায়। সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ হলো ধূমপান ও অ্যালকোহল থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে কিডনি ভালো
রাখতে চাইলে এটি হলো কিডনি ভালো রাখার উপায় এর মধ্যে একটি। এগুলো কিডনি ও
লিভারের ক্ষতি করে। পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক শান্তি ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা
কিডনিকে দীর্ঘদিন শক্তিশালী রাখে।
কিডনি ভালো রাখার ঔষধ
কিডনি ভালো রাখার আরেকটি উপায় হল সঠিক জীবনধারা, খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়াম। তবে
কখনো কখনো ডাক্তার দেখানো বা প্রয়োজন অনুযায়ী ঔষধ ব্যবহারেরও দরকার পড়ে। তবে
মনে রাখতে হবে কোন ঔষধ কিডনির সমস্যা পুরোপুরি ঠিক করতে পারে না। এটি কেবল
কিডনিকে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে বা উপসর্গ কমায়। কিডনি রক্ষা করার জন্য
মূলত চিকিৎসকের পরামর্শ মত ডায়াগনোসিস অনুযায়ী নির্দিষ্ট ওষুধ ব্যবহার করা
হয়। সাধারণভাবে কিডনি ভালো রাখার জন্য যে ধরনের ঔষধ বা চিকিৎসা ব্যবহার করা
হয় তা হলো-
- রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণকারী ঔষধঃ ACE inhibitors বা ARBs. এছাড়াও কিডনিতে ফিল্টারিং এর ক্ষতি কমায়।
- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণকারী ঔষধঃ মেট ফর মেন কিডনির প্রটেকশন ডোজ অনুযায়ী। এছাড়াও রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ রাখতে এবং কিডনিকে ক্ষতিকর দিক থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।
- পানি ও লবণ বের করার ঔষধঃ daiuretic এটি শরীরে অতিরিক্ত পানি কমিয়ে কিডনির চাপ কমায়।
- সংক্রমণ ও প্রদাহ নিয়ন্ত্রণকারী ওষুধঃ কিডনিকে সংক্রমণ বা প্রদাহ হলে নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি ওষুধ দেওয়া হয়।
কিডনি ভালো রাখার সবজি
কিডনি ভালো রাখার উপায় হল বেশি বেশি শাকসবজি খাওয়া। কিডনি সুস্থ রাখতে সবজি
খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সবজি শরীরে ভিটামিন, পনির, এন্টিঅক্সিডেন্ট
ও আঁশ যোগায়। যা কিডনির কাজকে সহজ করে এবং টক্সিন বের করতে সাহায্য করে। কিছু
বিশেষ সবজি কিডনির জন্য বিশেষভাবে উপকারী নিম্নে তা সম্পর্কে বর্ণনা করা হলো
- লাউ কিডনির ডিটক্সে সাহায্য করে এবং প্রস্রাব বৃদ্ধিতে সহায়ক
- শসা পানি ও ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য রক্ষা করে
- করলা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে এবং কিডনিকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে
- পালং শাক ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ এটি কিডনির কার্যক্ষমতা উন্নত করে
- গাজরে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, এটি কিডনির কোষ কে সুরক্ষা দেয়
- রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক এবং কিডনিকে শক্তিশালী রাখে বিটরুট
- ব্রকলি ও ফুলকপি ইউরিক অ্যাসিড কমাতে সাহায্য করে এবং কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমায়
- শসা ও টমেটো কিডনিকে হাইড্রেট রাখে ও টক্সিন বের করতে সাহায্য করে
কিডনি ভালো রাখতে যেসব খাবার খাবেন না
কিডনি শরীরের টক্সিন ফিল্টার এবং পানি ও লবণের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিছু খাবার কিডনির উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে বা ক্ষতি
করতে পারে। তাই নিচে কয়েকটি খাবারের নাম দেওয়া হলো যেগুলো এড়িয়ে
চলাই উচিত।
- অতিরিক্ত লবণ ও সোডিয়াম যুক্ত খাবার যেমন প্রক্রিয়াজাত খাবার, সুপ, সস, চিপস, চাইনিজ খাবার ইত্যাদি। এগুলো খেলে কিডনিতে চাপ বাড়িয়ে রক্তচাপ বৃদ্ধি করে।
- প্রসেসড এবং ফাস্টফুড যেমন হ্যাম বার্গার, পিজা, সসেজ, নুডুলস ইত্যাদি। এগুলো খেলে অতিরিক্ত প্রিজারভীট ও চর্বি কিডনিতে ক্ষতিগ্রস্ত করতে সাহায্য করে।
- অতিরিক্ত প্রোটিন যেমন বেশি পরিমাণে মাংস, ডিমের কুসুম বা প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট ইত্যাদি খেলে কিডনিতে অতিরিক্ত কাজ করা বন্ধ করে দেয় এবং দীর্ঘদিনের জন্য ক্ষতি সাধন হয়।
- চর্বি ও তেল যুক্ত খাবার যেমন ভাজা খাবার, কেক, পেস্ট্রি ইত্যাদি খেলে কিডনিতে ফ্যাট জমে ফাংশন কমিয়ে দেয়।
- মিষ্টি ও চিনি জাতীয় খাবার যেমন ক্যান্ডি, সফট ড্রিংক, পেস্ট্রি ইত্যাদি এসব খেলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে কিডনির ক্ষতি করতে পারে।
- অ্যালকোহল ও ধূমপান করলে লিভার ও কিডনির ক্ষতি করে এবং ফাংশন কমিয়ে দেয়।
- ক্যাফেইন ও সোনা জাতীয় পানীয় অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে কিডনিকে ডি হাইড্রেট করে।
কিডনি সুস্থ রাখতে খেতে হবে যেসব খাবার
কিডনি আমাদের দেহের ফিরিয়ে হিসেবে কাজ করে। এটি রক্ত থেকে বজ্র
পদার্থ ছেঁকে বের করে এবং শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখে। তাই কিডনির
স্বাস্থ্য বজায় রাখতে খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিছু খাবার বিশেষভাবে
কিডনিকে শক্তিশালী ও সুস্থ রাখে।
আরো পড়ুনঃ কোলাজেন ট্যাবলেট এর উপকারিতা
- তাজা ফল ও বেরিয়ে জাতীয় খাবার যেমন স্ট্রবেরি, আঙ্গুর, আপেল ইত্যাদি। এগুলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভরপুর যা কিডনির কোষ কে ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।
- হালকা সবজি স্বাদ যেমন লাউ, করলা, পালং শাক, ব্রকলি ইত্যাদি এগুলো ভিটামিন, খনিজ, ও আঁশযুক্ত। কিডনির ফিল্টারিং ক্ষমতা বাড়ায় এবং পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে।
- লেবু পানি, নারকেল পানি, তরমুজ এগুলো ইউরিক এসিড কমাতে সাহায্য করে এবং কিডনিকে পাথর হওয়া থেকে রক্ষা করে।
- দানা, বাদাম ও অল্প পরিমাণে প্রোটিন যেমন ওটস, বাদাম, মটরশুঁটি, মাছ ইত্যাদি কিডনির জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি দেয় কিন্তু অতিরিক্ত প্রোটিন কিডনি কে চাপ বাড়ায়।
- গ্রিন টি ও হারবাল টা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এ ভরপুর। এটি কিডনিকে ফ্রি রেডিক্যাল ও প্রদাহ থেকে রক্ষা করে।
উপসংহার
কিডনি আমাদের শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ তাই কিডনি ভালো রাখতে আমরা বিভিন্ন
রকম পন্থা অবলম্বন করতে পারি। কিডনি ভালো রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান, স্বাস্থ্যকর
খাবার ও নিয়মিত ব্যায়াম কিডনিকে কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। আজকের এই
আর্টিকেলটিতে কিডনি ভালো রাখার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আশা করি
আপনি এই আর্টিকেলটি পড়লে অনেকটাই উপকৃত হবেন ইনশাআল্লাহ।


অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url