লিভার নষ্টের লক্ষণ
আপনি জানেন কি?লিভার নষ্টের লক্ষণ রয়েছে অনেকগুলো।লিভার আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা রক্ত পরিশোধন ও বিষাক্ত পদার্থ দূর করার কাজ করে।আজকের আর্টিকেল টিতে আমি লিভার কিভাবে নষ্ট হয় সেটা নিয়ে আলোচনা করবো।
কিন্তু যখন লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন শরীরে বিভিন্ন শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিতে শুরু করে।প্রাথমিক অবস্থায় এসব লক্ষণ হালকা হলেও সময়মতো চিকিৎসা না নিলে তা মারাত্মক হতে পারে।তাই লিভার নষ্টের প্রাথমিক লক্ষণগুলো জানা ও সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি।গ্যাস্ট্রোলিভার রোগের লক্ষণ
গ্যাস্ট্রোলিভার সমস্যা বলতে বোঝায় পেট ও লিভার সংক্রান্ত সমস্যা গুলোকে।এটি
কোনো নির্দিষ্ট রোগ নয়, বরং পাকস্থলী, অন্ত্র, লিভার বা হজমতন্ত্রের বিভিন্ন
অসুস্থতার সমন্বিত প্রকাশ হতে পারে। গ্যাস্ট্রোলিভার রোগের লক্ষণ নিম্নে বর্ণনা
করা হলো
- বমি ভাব ও বমি, কোন খাবার খেলেই বমি ভাব কখনো হালকা বমি হতে পারে।
- পেট ফাঁপা ও গ্যাসের সমস্যা হয় হজমে সমস্যা, গ্যাস জমে থাকা বা পেটে অস্বস্তি অনুভব করা।
- খাবারে আগ্রহ কমে যাওয়া বা খাবার দেখলে অনিচ্ছা বোধ হওয়া ক্ষুধা মন্দা হতে পারে।
- লিভারে বিলিরুবিন বেড়ে গেলে তকে চুলকানি হয়
- শরীরের শক্তি কমে যাওয়া সব সময় দুর্বল বোধ করা
- ডান পাশে পেট ব্যথা বিশেষ করে ডান দিকের উপরিভাগে ব্যথা হলে লিভার জনিত সমস্যা হতে পারে
- ত্বক ও চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া, লিভারের কার্যকারিতা কমে গেলে ত্বক ও চোখ হলুদ দেখায়
- গাঢ় রঙের প্রস্রাব ও ফ্যাকাসে মল লিভারের এনজাইম পরিবর্তনের কারণে প্রস্রাব গাঢ় হয়
- দীর্ঘমেয়াদি লিভার রোগে পেটে পানি জমতে পারে
- ওজন কমে যাওয়া ও শরীর শুকিয়ে যাওয়া, লিভারের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যায় ওজন দ্রুত কমে যায়
লিভার ক্যান্সারের লক্ষণ
লিভার ক্যান্সার হল যকৃতের কোষে অস্বাভাবিক ভাবে কোষ বৃদ্ধির মাধ্যমে সৃষ্টি
একটি গুরুতর রোগ। এই রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে লক্ষণগুলো খুব স্পষ্ট ভাবে
বোঝা যায় না, তবে ধীরে ধীরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ দেখা দেয় নিচে সেগুলো
বর্ণনা করা হলো-
- ডান দিকের পেটের উপরিভাগে ব্যথা বা অস্বস্তি হয়, এটি হলো লিভার ক্যান্সারের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ ব্যথা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।
- পেট ফোলা বা পেটের ভেতরে পানি জমা লিভার সঠিকভাবে কাজ না করলে পেটে তরল জমে ফুলে যায়।
- ক্ষুধা মন্দা খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়া, অল্প খেয়েও পেট ভরা লাগা
- ওজন কমে যাওয়া ও শরীর শুকিয়ে যাওয়া, অল্প সময়ের মধ্যে অস্বাভাবিকভাবে ওজন কমে যায়
- অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা, সারাদিন ক্লান্ত লাগা কোন কাজ করার শক্তি না পাওয়া
- ত্বকও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়া
- বমি ভাব ও বমি হওয়া, খাবার খাওয়ার পর অসস্তি বা বমি হতে পারে
- কখনো কখনো শরীরে হালকা বা মাঝারি জ্বর দেখা দেয়
লিভার বড় হওয়ার লক্ষণ
লিভার নষ্টের লক্ষণ এর প্রথম ধাপ হল লিভার বড় হয়ে যাওয়া। লিভার বড় হওয়া
মানে হলো যকৃত স্বাভাবিক আকারের চেয়ে বড় হয়ে যাওয়া, সাধারণত অন্য কোন
লিভারজনিত সমস্যা ও শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। এটি নিজে কোন রোগ নয় বরং
হেপাটাইটিস, ফ্যাটি লিভার, অ্যালকোহল লিভার ডিজিজ বা হৃদরোগের মতো জটিলতার
কারণে হতে পারে।লিভার বড় হলে প্রথমে ডান পাশের উপরের পেটে ভারীভাব বা হালকা
ব্যথা অনুভূত হয়।
আরো পড়ুনঃ
জলপাই খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
অনেক সময় পাজোরের নিচে চাপ দিলে ফুলে থাকা বা মোজের মতো কিছু টের পাওয়া যায়।
খুদা কমে যায়, খাবারের পর অস্বস্তি হয়, এমন কি বমি ভাব বা বমিও হতে পারে।
হজমের সমস্যা দেখা দেয় এবং শরীরে দুর্বলতা বা ক্লান্তি বাড়ে। এছাড়া
ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে গেলে তা জন্ডিসের লক্ষণ হতে পারে, যা লিভারের
অ কার্যকারিতার ইঙ্গিত দেয়। অনেক ক্ষেত্রে প্রস্রাবের রং গারো হয়ে যায় এবং
মলের রং ফ্যাকাসে দেখা যায়।
ত্বকে চুলকানি, শরীর শুকিয়ে যাওয়া বা অস্বাভাবিক ওজন পরিবর্তন দেখা দিতে
পারে। যদি ডান পাশে ব্যথা, ক্ষুধা কমে যাওয়া, পেট ফুলে থাকা বা চোখ হলুদ হয়ে
যাওয়ার মত লক্ষণগুলো দীর্ঘদিন ধরে থাকে তবে অবশ্যই দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ
নেওয়া উচিত। কারণ লিভার বড় হওয়া অনেক সময় মারাত্মক রোগের প্রাথমিক সংকেত
হতে পারে। সুস্থ লিভার রাখতে নিয়মিত লিভার ফাংশন টেস্ট করানো, সুষম খাদ্য
গ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি পান, ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার করা এবং নিয়মিত ব্যায়াম
করা অত্যন্ত জরুরি।
লিভার রোগের প্রতিকার
লিভার বা যকৃত আমাদের শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ গুলোর মধ্যে একটি। এটি
শরীরের টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ দূর করে, হ জমে সাহায্য করে এবং প্রয়োজনীয়
পুষ্টি উপাদান সংরক্ষণ করে। তাই লিভার অসুস্থ হলে শরীরে প্রায় সব কাজই ব্যাঘাত
ঘটে। তবে লিভারের অনেক রোগী সঠিক যত্ন ও জীবন যাপনের পরিবর্তনের মাধ্যমে
প্রতিকার করা সম্ভব।প্রথমেই প্রয়োজন খাদ্যাভাসে পরিবর্তন আনা। অতিরিক্ত
তৈলাক্ত, ভাজাপোড়া ও প্রক্রিয়াজাত খাবার পরিহার করে তাজা ফলমূল, শাক-সবজি ও
আঁশযুক্ত খাবার খেতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা লিভার থেকে টক্সিন বের
করে দিতে সাহায্য করে। চিনি ও লবনের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা দরকার, কারণ
অতিরিক্ত চিনি ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়ায়।
অ্যালকোহল সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি লিভার
সিরোসিস ও ক্যান্সারের প্রধান কারণ গুলোর একটি। তেমনি ধূমপান ও অনিয়ন্ত্রিত
ঔষধ সেবন লিভারের জন্য ক্ষতিকর। কোন ওষুধ দীর্ঘদিন খাওয়ার আগে অবশ্যই
ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। নিয়মিত ব্যায়াম লিভার কে সুস্থ রাখতে কার্যকর
ভূমিকা রাখে। এটি শরীরে চর্বি জমা প্রতিরোধ করে এবং লিভারের কার্যকারিতা উন্নত
করে। যারা অতিরিক্ত ওজন নিয়ে ভুগছেন তাদের ওজন কমানো খুবই জরুরী।
লিভার রোগ প্রতিরোধে টিকা গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ। হেপাটাইটিস এ ও বি ভাইরাস
থেকে রক্ষা পেতে এই টীকা কার্যকর। এছাড়া নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও লিভার
ফাংশন টেস্ট করালে রোগ প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়ে এবং সহজে প্রতিকার করা যায়।
সবশেষে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম্য লিভার সুস্থ রাখার অংশ।
কারণ অতিরিক্ত মানসিক চাপ হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, যা লিভার নষ্টের লক্ষণ
হিসেবে বিবেচিত হয়।
লিভার ব্যথার লক্ষণ
লিভার ব্যাথা সাধারণত পেটের ডান দিকের উপরের অংশে, পাঁজরের নিচে অনুভূত হয়। এই
ব্যথা কখনো হালকা চাপের মতো আবার কখনো গভীর বা হারালো ব্যথার মত অনুভূত
হতে পারে। অনেক সময় ব্যথা ডান কাঁধ বা পিঠের দিকেও ছড়িয়ে পড়ে। এটি সাধারণত
লিভারের প্রদাহ, ফ্যাটি লিভার, হেপাটাইটিস বা লিভারে চর্বি জমা হওয়ার কারণে
হয়ে থাকে।
প্রথম দিকে লিভার ব্যথার সঙ্গে হালকা অস্বস্তি বা ভারীভাব অনুভূত হয়। সময়ের
সঙ্গে ব্যথা বাড়তে থাকে এবং খাবার পর বেশি হয়। অনেক সময় ক্ষুধামান্দ, বমি
ভাব ও হজমের সমস্যা দেখা দেয়। পেট ফেপে থাকা বা ফুলে যাওয়া, গ্যাসের সমস্যা
এবং ডান পাশে চাপ অনুভব করাও সাধারণ উপসর্গ। লিভার ঠিকভাবে কাজ না করলে ত্বক ও
চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যায় যা একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত। এছাড়া গারো
রঙের প্রস্রাব, গা চুলকানো, ওজন কমে যাওয়া, সব সময় দুর্বল বোধ করা লিভার জনিত
ব্যথার সাথে যুক্ত লক্ষণ।
লিভার নষ্টের লক্ষণ এগুলাই হয়ে থাকে। যদি ডান পাশের ব্যথা ক্রমাগত থাকে,
খাবারের অনিচ্ছা দেখা দেয় হলুদ হয়ে যায় তবে দেরি না করে অবশ্যই ডাক্তারের
পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ লিভার ব্যাথা অনেক সময় লিভার ইনফ্লেমেসন, ফ্যাটি
লিভার এমন কি লিভার সিরোসিস বা ক্যান্সারের প্রাথমিক ইঙ্গিত হতে পারে। সুস্থ
লিভার রাখতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান,
ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার এবং নিয়মিত ব্যায়াম অত্যন্ত জরুরী।
লিভার ইনফেকশনের ট্রিটমেন্ট
লিভার ইনফেকশন সাধারণত ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা প্যারাসাইট এর সংক্রমণ থেকে
হয়। সবচেয়ে সাধারণ লিভার ইনফেকশন হল হেপাটাইটিস এ, বি, সি, ডি ও ্ দা
যকৃতের কোষ কে আক্রান্ত করে প্রদাহ ও ফাংশন হ্রাস ঘটায়। লিভারের সংক্রমণ
দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে এবং untreated হলে সিরোসিস বা ক্যান্সার পর্যন্ত যেতে
পারে। লিভার ইনফেকশনের ট্রিটমেন্ট মূলত সংক্রমণের ধরন অনুযায়ী করা হয়। ভাইরাল
হেপাটাইটিস এর ক্ষেত্রে ডাক্তার প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ
দেন।
হেপাটাইটিস বি ও সি এর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ওষুধের কোর্স দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে
যা রোগের উন্নতি নিশ্চিত করে। ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমনের ক্ষেত্রে চিকিৎসক
সাধারণত এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করেন। লিভারের সংক্রমণ থাকলে বিশ্রাম, সুষম
খাদ্য ও হাইড্রেশন খুবই জরুরী। চর্বি ও মুসলিম খাবার কমিয়ে প্রোটিন সমৃদ্ধ
হালকা খাবার খাওয়া উপকারী। অ্যালকোহল ও ধূমপান সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে
কারণ এগুলো লিভারের ক্ষতি বাড়ায়।
আরো পড়ুনঃ
কিডনি ভালো রাখার ১০ টি উপায়
প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে হেপাটাইটিস ভ্যাকসিন নেওয়া অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত লিভার ফাংশন টেস্ট ও আলট্রাসনোগ্রাম করিয়ে রোগের
প্রাথমিক পর্যায়ে সনাক্ত করা সম্ভব। এছাড়া রোগীর ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী
লাইফ স্টাইল পরিবর্তন ও ওজন নিয়ন্ত্রণ সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে। সঠিক
চিকিৎসা ও জীবন যাপনের পরিবর্তনের মাধ্যমে লিভার ইনফেকশন প্রাইস হয়
নিয়ন্ত্রণে আনা যায় এবং লিভারের ক্ষতি রোধ করা ও সম্ভব হয়।
লিভারে পানি জমলে কি কি সমস্যা হয়?
লিভারে পানি জমলে অনেক ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিছু গুরুতর সমস্যা দেখা
দিলে সতর্ক হওয়া উচিত। নিম্নে লিভারে পানি জমলে কি কি সমস্যা হতে পারে তা
দেওয়া হল-
- পেট ফোলা বা ভারীভাব
- শ্বাসকষ্ট
- ডান পাশে ব্যথা বা চাপ অনুভূতি
- খাবারে অনিচ্ছা ও ক্ষুধা মন্দা
- ওজন বৃদ্ধি ও শরীরের পানি জমা
- সংক্রমনের ঝুঁকি
- হজম ও পরিপাকের সমস্যা
- ক্লান্তি ও দুর্বলতা
- জন্ডিস(ত্বক ও চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া)
- হরমোন ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা
লিভার ক্যান্সার রোগীর মৃত্যুর কারণ
লিভার ক্যান্সার সাধারণত যকৃতের কোষে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বা টিউমারের কারণে হয়,
যা ধীরে ধীরে লিভারের কার্যকারিতা হ্রাস করে। লিভার মূলত শরীরের টক্সিন ফিল্টার
করে, হজমে সাহায্য করে এবং রক্তের বিভিন্ন প্রোটিন ও হরমোন নিয়ন্ত্রণ করে।
ক্যান্সারের কারণে লিভারের এই গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো ব্যাহত হলে শরীরের জটিল
সমস্যা দেখা দেয়।
লিভার ক্যান্সারের কারণে মৃত্যুর প্রধান কারণ হলো লিভারের ফাংশন বন্ধ হয়ে
যাওয়া। লিভার ঠিকভাবে কাজ না করলে শরীরে টক্সিন জমতে শুরু করে, রক্ত জমাট
বাঁধতে সমস্যা হয় এবং জীবনকে হুমকির মুখে ফেলে। এছাড়া লিভারের বড় টিউমার
পেটের ভেতরে পানি জমা সৃষ্টি করে, শ্বাসকষ্ট, পেটে ব্যথা ও অন্যান্য জটিলতা
বাড়াই।
অনেকে লিভার ক্যান্সারের ফলে জন্ডিস, গা চুলকানো, ওজন কমে যাওয়া, ক্লান্তি ও
স্বল্প মাত্রায় রক্তপাতের মতো উপসর্গ দেখেন। দীর্ঘ মেয়াদী সংক্রমণ বা সিরোসিস
থাকলে সংক্রমণ ও রক্তক্ষরণ মৃত্যুর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে। লিভার
ক্যান্সার রোগীর মৃত্যুর কারণ হলো লিভারের কার্যকারিতা কমে যাওয়া, সংক্রমণ,
রক্তপাত এবং অন্যান্য জটিলতা যা শরীরের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য নষ্ট করে এবং
জীবনকে হুমকির মুখে ফেলে।
লিভার ভালো রাখার উপায়
লিভার আমাদের শরীরের ক্লিনিং সিস্টেম। এটি ঠিক মত কাজ না করলে শরীরে টক্সিন
জমে, হজমে সমস্যা হয়, এবং শক্তি কমে যায়। তাই লিভার নষ্টের আগেই লিভারের যত্ন
নেওয়া জরুরী। এজন্য হালকা ও প্রাকৃতিক খাবার বেছে নিন। শাকসবজি, ফল, বাদাম এবং
কম চর্বি ও কম চিনি যুক্ত খাবার লিভারের জন্য উপযুক্ত। ফাস্টফুড, অতিরিক্ত তেল
মসলা ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়া উচিত। দিনে অন্তত 8 থেকে 10 গ্লাস পানি
পান করুন। পানি লিভারের টক্সিন বের করতে সাহায্য করে। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম,
সাঁতার লিভারের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও হেপাটাইটিস ভ্যাকসিন
নিন এবং নিয়মিত লিভার ফাংশন টেস্ট করার এতে করে প্রাথমিক অবস্থায় রোগ ধরা
পড়বে।
উপসংহার
লিভার নষ্টের লক্ষণ বলতে লিভার ফাংশন কে নষ্ট করা বোঝায়। লিভার আমাদের শরীরের
একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। তাই লিভারের যত্ন নেওয়া উচিত, তাই নিয়মিত
ব্যায়াম, নিয়ন্ত্রিত জীবন যাত্রা, সুষম খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত ঘুম ও পর্যাপ্ত
পানি পান করলে লিভার সুস্থ রাখা সম্ভব।
আজকের এই আর্টিকেলটিতে আমি লিভার নষ্টের লক্ষণ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা
করেছি। আশা করি, এই আর্টিকেলটি পড়লে আপনি লিভারের নষ্ট সম্পর্কিত বা এর
প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কেও বিস্তারিত জানতে পারবেন।


অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url