আল্লাহর রহমত পাওয়ার উপায় সমূহ

আল্লাহর রহমত পাওয়ার একজন মুমিনের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের জীবনের সুখ দুঃখ, আশা নিরাশা ও ভুল ত্রুটিতে ভরা।এই সীমিত ও দুর্বল জীবনে একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় আশ্রয় হলো আল্লাহর রহমত।আল্লাহ রহমত ছাড়াই কেউ দুনিয়া ও আখেরাতে সফল হতে পারেনা।

আল্লাহর-রহমত-পাওয়ার-উপায়

কোরআনে আল্লাহ নিজেই বলেছেন আমার রহমত সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে রেখেছে। তাই একজন সচেতন মুসলমানের উচিত আল্লাহর রহমত লাভের উপায় জানা এবং সে অনুযায়ী আমল করা। কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে আল্লাহর রহমত পাওয়ার উপায়।

আল্লাহর রহমত কি

আল্লাহর রহমত বলতে বোঝায় তার অসীম দয়া, করুণা, ও অনুগ্রহ যা তিনি তার সব বান্দার ওপর অবিরাম ভাবে বর্ষণ করে থাকেন। মানুষ দুর্বল, ভুল প্রবন, ও সীমাবদ্ধ হওয়া সত্বেও আল্লাহ তাআলা তাকে জীবন, রিজিক, সুস্থতা ও নিরাপত্তা দান করেন। এটা তার রহমতের প্রকাশ। কোরআনে আল্লাহ নিজে ঘোষণা করেছেন যে তার রহমত সবকিছুকেই পরিবেষ্টন করে রেখেছেন। যেমন আকাশ পৃথিবী, মানুষ পশু, মুমিন অমুমিন সবার কোন না কোন ভাবে আল্লাহর দয়ার অন্তর্ভুক্ত। প্রতিদিন সূরা শুরুতে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম পাঠ করার মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেন যে তিনি সবচেয়ে দয়ালু ও পরম করুনাময়।

হাদিসের রাসূলুল্লাহ (সাঃ) স্পষ্টভাবে বলেছেন যে দুনিয়ার সমস্ত দয়া ও ভালোবাসা আল্লাহর রহমতে মাত্র এক অংশ আর বাকি অংশ তিনি আখেরাতের জন্য সংরক্ষণ করে রেখেছে। এই রহমতের কারণে মা তার সন্তানের প্রতি মমতা দেখায় এবং মানুষ বিপদের মধ্য আচার আলো খুঁজে পায়। আল্লাহর রহমত যে একজন গুনাহগার বান্দা যদি আন্তরিকভাবে তওবা করে তবে আল্লাহ তার সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেন। মানুষের কোন আমলই তাকে জান্নাতে পৌঁছে দিতে সক্ষম নয় আল্লাহর রহমত হলে দুনিয়া ও আখেরাতে মুক্তি ও সফলতার একমাত্র মূল চাবিকাঠি ।

আল্লাহর রহমত পাওয়ার  উপায় সমূহ

আল্লাহর রহমত পাওয়ার জন্য যে আন্তরিকভাবে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে আল্লাহ তার জন্য রহমতের দরজা খুলে দেন। কোরআন ও হাদিসের আলোকে এমন অনেক সহজ আমল ও উপায় রয়েছে যেগুলোর মাধ্যমে একজন বান্দা আল্লাহর দয়া, ক্ষমা ও অনুগ্রহ লাভ করতে পারে। নিজের সেসব প্রধান উপায় ও আমন্ত্রণ সহজ ভাষায় তুলে ধরা হলো যাতে আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সেগুলো অনুসরণ করে আল্লাহর রহমতে যোগ্য হতে পারে। আল্লাহর রহমতে পেতে হলে অবশ্যই আমাদের কোরআন ও হাদিস সম্পর্কে জানতে হবে।

কোরআন এবং হাদিসের আলোকে চললে আল্লাহর রহমত পাওয়া যাবে। তার জন্য আমাকে কিছু নিয়ম মেনে জীবন যাপন করতে হবে। আল্লাহর রহমত অনেক। আল্লাহর রহমতে পেতে হলে অবশ্যই আমাদের নামাজ পড়তে হবে। কারণ নামাজ মানুষকে খারাপ কাজ থেকে দূরে রাখে। একজন ঈমানদার বা মুমিন ব্যক্তি আল্লাহর রহমত পাওয়ার জন্য কোরআন ও হাদিসের অনুযায়ী জীবনযাপন করবে। তাই আমাদের সকলের মুসলমানদের উচিত আল্লাহর বিধান মেনে জীবন চালানো। তাহলে আমরা আল্লাহর রহমত লাভ করতে পারব। আল্লাহর রহমত পাওয়ার উপায় গুলো।

আল্লাহর উপর দৃঢ় ঈমান রাখা

আল্লাহর রহমত পাওয়ার প্রথম শর্ত হলো তার প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস রাখা। যে ব্যক্তি আল্লাহকে একমাত্র পালনকর্তা হিসেবে মেনে নেই এবং তার ওপর ভরসা করে আল্লাহ তার উপর রহমত নাযিল করেন। কোরআনে আল্লাহ বলেন তিনি মুমিনদের জন্য দয়ালু ও করুণাময়। ঈমান ছাড়া কোন আমলে আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না। কুরআনে আল্লাহ তা'আলা বলেন যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে আল্লাহ তার জন্যই যথেষ্ট। এ আয়াতে মুমিনকে শেখায় যে আল্লাহর উপর নির্ভর করলে কোন ভয় বা হতাশার কারণ থাকে না। দৃঢ় ইমান মানুষকে হারাম থেকে দূরে রাখে এবং নেক আমলের পথে অটল রাখে।

হাদিসের রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বারবার ঈমানের গুরুত্ব বুঝেছেন। তিনি বলেছেন মুমিনের অবস্থা সব সময় কল্যাণকর। শিশু পেলে আল্লাহ শুকরিয়া আদায় করে এবং কষ্ট পেলে ধৈর্য ধারণ কর আর উভয় অবস্থায় তার জন্য কল্যাণ রয়েছে। এই বিশ্বাসই ঈমানের দৃঢ়তা। যে ব্যক্তি আল্লাহর সিদ্ধান্ত দেয় সন্তুষ্ট থাকে এবং তার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখে আল্লাহ তার অন্তরে পৌঁছতে দান করেন এবং তাকে নিজের রহমতের অন্তর্ভুক্ত করেন। তাই আল্লাহর উপর দৃঢ় ঈমান রাখা শুধু একটি বিশ্বাস নয় বরং জীবন চলার সবচেয়ে নিরাপদ ও বরকতময় পথ।

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কায়েম করা

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কায়েম করা একজন মুমিনের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত এবং আল্লাহর রহমত পাওয়ার প্রদান উপায় গুলোর একটি। নামাজ কায়েম করা মানে শুধু নিয়মিত নামাজ পড়া নয় বরং সময়মতো, মনোযোগ খুশু খুজু সহকারে আল্লাহ সামনে দাঁড়ানো। কুরআনে আল্লাহ তা'আলা স্পষ্ট ভাবে বলেছেন, নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীলতা ও মন্দ কাছ থেকে বিরত রাখে। অর্থাৎ নামাজ মানুষের চরিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং গুনা থেকে দূরে রাখে। যে ব্যাক্তি নামাজ কে গুরুত্ব দেয় আল্লাহ তার জীবনকে শৃঙ্খলা বদ্ধ ও বরকতময় করে দেয়।

আরো পড়ুনঃ নামাজ ভাঙ্গার প্রধান কারণ গুলো

হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) নামাজকে দ্বীনের খুটি বলেছেন। তিনি আরো জানিয়েছে কিয়ামতের দিন বান্দার আমলের হিসাবে সময় সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। নামাজ ঠিক থাকলে বাকি আমলও সহজ হয়ে যায়। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ বান্দা ও আল্লাহর মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক তৈরি করে অন্তরে দুনিয়ার চিন্তা থেকে মুক্তি দেয়। তাই যে ব্যাক্তি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কায়েম করে সে আল্লাহর রহমতের ছায়া নিজেকে স্থাপন করে।

গুনাহ থেকে তওবা ও নিয়মিত ইস্তেগফার করা

গুনহা থেকে তওবা ও নিয়মিত ইস্তেগফার করা আল্লাহর রহমত পাওয়ার অন্যতম সহজ ও শক্তিশালী উপায়। মানুষ মাত্রই ভুল হয়, মানুষ ভুলের উর্ধ্বে নয় জেনে বা না জেনে প্রতিদিন কোন না কোন গুনাহ হয়ে যায়। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের হতাশ হতে দেয়নি বরং তওবা দরজার সব সময় খোলা রেখেছেন। কোরআনে আল্লাহ বলেন হে আমার বান্দাগণ যারা নিজেদের ওপর জুলুম করছে তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হইয়ো না, নিশ্চয় আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করে দেন। এই আয়াতে গুনাহগার বান্দার জন্য বড় আশার বাণী।

হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন আল্লাহ তওবাকারী বান্দার তওবা এতটাই খুশি হন যেমন মরুভূমিতে হারানো সম্পদ ফিরে পেলে কেউ আনন্দিত হয়। আন্তরিক তওবার অর্থ হল গুনার জন্য অনুতপ্ত হওয়া এবং সঙ্গে সঙ্গে সেই গুনাহ ছেড়ে দেওয়া। আর ভবিষ্যতে না করা প্রতিজ্ঞা। আর যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তেগফার পাঠ করে আল্লাহ তার অন্তর পরিষ্কার করে দেয়। তার বিপদ দূর করে এবং রিজিকে বরকত আনে। যে ব্যক্তি সব সময় আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ে আল্লাহর কাছে ফিরে আসে আল্লাহ তাকে নিজের বিশেষ রহমতের অন্তর্ভুক্ত করে।

ব্যক্তি যদি তার অতীতের গুনাহ জন্য আল্লাহর কাছে মাফ চেয়ে ফিরে আসে আল্লাহু তার গুনার জন্য ক্ষমা করে দেবেন। এবং তাকে ভাল পথে আসার সুযোগ তৈরি করে দেবে। কারণ আল্লাহ হচ্ছে অসীম রহমত। তিনি তার বান্দাদের কখনো হতাশা হতে দেয় না। তাই আল্লাহর রহমত পাওয়ার জন্য আমাদের কোরআন ও হাদিসের অনুযায়ী জীবনযাপন করা উত্তম।

কোরআন তেলাওয়াত ও সে অনুযায়ী আমল করা

কোরআন তেলাওয়াত আল্লাহর রহমত পাওয়ার অন্যতম প্রধান উপায়। আল্লাহতালা কোরআন নাজিল করেছে মানুষকে সঠিক পথ দেখার জন্য। কোরআন শুধু পড়ার কিতাব নয় বরং মানুষের জীবনের জন্য পূর্ণাঙ্গ  পথ নির্দেশনা। আল্লাহু তায়ালা কোরআনে বলেন, এটি এমন একটি কিতাব যা আমি নাযিল করেছি বরকতময়, যাতে তারা এর আয়াতগুলো গভীরভাবে চিন্তা করে। অর্থাৎ কোরআন পড়ার পাশাপাশি বুঝে তার জীবনে বাস্তবায়ন করা আল্লাহর উদ্দেশ্য। যে ব্যক্তি নিয়মিত কোরআন তেলাওয়াত করে তার অন্তরে শান্তি নেমে আছে এবং আল্লাহর রহমত তাকে ঘিরে ধরে।

হাদিসের রাসূল (সাঃ) বলেছেন যারা কোরআন তেলাওয়াত একত্রিত হয় তাদের ওপর সাকিনা নাযিল হয়, রহমত ঢেকে ফেলে এবং ফেরেশতারা তাদের চারপাশ ঘিরে রাখে। কোরআনে হালাম হারাম  মেনে চলা, আদেশ পালন করা ও নিষিদ্ধ থেকে বেঁচে থাকাই হলো প্রকৃতি আমল। কে নিজের জীবনে পথপ্রদর্শক বানায় আল্লাহ তার দুনিয়া সহজ করে দেন এবং আখেরাতের সম্মানিত করেন। তাই কোরআন তেলাওয়াত করায় একজন মুমিনের জন্য আল্লাহর রহমত লাভের নিশ্চিত পথ।

দোয়া করা ও আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করা

দোয়া করাও আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করা আল্লাহর রহমত পাওয়ার এক অত্যন্ত প্রিয় ও কার্যকর উপায়। দুয়া মানে হলো নিজের দুর্বলতা, অসহায়ত্ব ও প্রয়োজন আল্লাহর সামনে তুলে ধরা। কোরআনে আল্লাহ তা'আলা বলেন, তোমরা আমাকে ডাকো আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। এ আয়াতে প্রমাণ করে যে আল্লাহ বান্দার ডাকে সাড়া দিতে ভালোবাসেন। বান্দা যখন একান্ত মনে, বিনয়ের সাথে আল্লাহর কাছে হাত তোলে তখন আল্লাহর রহমত তার দিকে ধেয়ে আসে।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, দোয়া ইবাদতের মূল। বিশেষ করে নির্জনে আল্লাহর ভয়ে চোখের পানি ফেলা খুবই মর্যাদা পূর্ণ আমল। আল্লাহ সেই চোখে জাহান্নামের আগুন থেকে নিরাপদ রাখে যে চোখ আল্লাহর ভয় কেঁদেছে। দোয়া ও কান্নাকাটি মানুষের হৃদয় নরম করে অহংকার ভেঙে দেয় এবং আল্লাহ সাথে সম্পর্ক গভীর করে তোলে। যে ব্যক্তি সুখে দুখে, বিপদে-আপদে ও সচ্ছলতায় বা সব সময় আল্লাহর কাছে ফিরে যায় আল্লাহ তাকে নিজের রহমতে ছায়ায় আশ্রয় দেয়।

দুরুদ শরীফ বেশি বেশি পাঠ করা

দুরুদ শরীফ বেশি বেশি পাঠ করা আল্লাহর রহমতে পাওয়ার একটি সহজ কিন্তু অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ আমল। পাটের মাধ্যমে একজন মুমিন নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রকাশ করে আর এর প্রতিদান স্বরূপ আল্লাহ তার উপর রহমত নাযিল করেন। কোরআনে আল্লাহ তা'আলা নিজে মুমিনদের নির্দেশ দিয়েছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তার ফেরেশতাগণ নবীর উপর দুরুদ পাঠ করেন। হে মুমিনগণ, তোমরাও তার ওপর দুরুদ ও সালাম পাঠ করো। এ আয়াত প্রমাণ করে যে দরুদ পাঠ আল্লাহর প্রিয় একটি আমল।

হাদিসে এসেছে রাসুল (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি এক বা তার ওপর দুরুদ পাঠ করে আল্লাহ তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন এবং তার দশটি গুনাহ মাফ করে দেন। দুরুদ শরীফ দোয়া কবুলের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। দোয়া শুরু ও শেষের দরুদ পাঠ করলে দোয়া দ্রুত কবুল হয়। নিয়মিত দূরূদ পাঠ মানুষের অন্তরকে পবিত্র করে, দুশ্চিন্তা দূর করে এবং আল্লাহর রহমতে দরজা খুলে দেয়। তাই যে ব্যাক্তি প্রতিদিন অভ্যাস হিসাবে দুরুদ শরীফ পাঠ করে সে আল্লাহর অধিকারী হয়।

দান খয়রাত করা এবং সাদকা দেওয়া

দান ও সাদকা দেওয়া আল্লাহর রহমত পাওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রিয় আমল। দান সাদকা মানে শুধু অর্থ দেওয়া নয় বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের সম্পদ, সময় বা সামর্থ্য দিয়ে অন্যের উপকার করা। কোরআনের আল্লাহ তাআলা বলেছেন, যারা আল্লাহর পথে তাদের সম্পদ ব্যয় করে তাদের উদাহরণ একটি শস্য দানা, যা থেকে সাতটি শীষ বের হয়, প্রতিটি শিষে থাকে একশ দানা। এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে সাদকার প্রতিদান বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। অর্থাৎ দান করলে সম্পদ কমে না বরং আল্লাহু তাতে বরকত দান করেন।

হাদিসে এসেছে রাসূল (সাঃ) বলেছেন, সাদকা বিপদ দূর করে এবং আল্লাহর গজব নিবারণ করে। গোপনে সাদকা করলে আল্লাহ বেশি সন্তুষ্ট হন এবং তা বান্দাকে বিশেষ রহমতের অধিকারী করে। দরিদ্র, এতিম, অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানুষের হৃদয়কে নরম করে এবং সমাজে ভালোবাসা সৃষ্টি করে। যে ব্যক্তি সচ্ছলতায় ও অভাবের সময়ও সাদকা করতে অভ্যস্ত আল্লাহ তার রিজিক বৃদ্ধি করেন এবং তাকে দুনিয়া ও আখেরাতে নিজের রহমতের ছায়ায় রাখেন ।

মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করা

মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করা আল্লাহর রহমত পাওয়ার একটু গুরুত্বপূর্ণ উপায়। ভালো ব্যবহার বলতে বোঝায় নম্র ভাষায় কথা বলা, কাউকে কষ্ট না দেওয়া, ক্ষমাশীল হওয়া এবং প্রয়োজনে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া। কোরআনে আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন মানুষের সাথে সুন্দর আচরণ করতে এবং অন্যায়ের বদলে ভালো আচরণ প্রদর্শন করতে। মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করে আল্লাহ তার অন্তরকে প্রশান্তিতে ভরিয়ে দেন এবং তাকে নিজের দয়ার নিকটবর্তী করেন। আবার হাদিসে এসেছে স্পষ্টভাবে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া করে না আল্লাহ তার প্রতি দয়া করে না। তাই উত্তম চরিত্র আল্লাহর রহমত পাওয়ার বড় উপায়।

আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা

আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা আল্লাহর রহমত পাওয়ার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমল। আত্মীয়তার সম্পর্ক মানে হলো নিকট ও দূরের আত্মীয়দের সাথে সম্পর্ক রাখা তাদের খোঁজখবর নেয়া প্রয়োজনে সাহায্য করা এবং কোন কারণে মনোমালিন্য হলে তা দূর করার চেষ্টা করা। কোরআনে আল্লাহ তা'আলা আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা নির্দেশ দিয়েছেন এবং তা ছিন্ন করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে সমাজে ভালোবাসা ও পারস্পারিক সহযোগিতা গড়ে ওঠে।

আরো পড়ুনঃ রোজা দিনের সময় পার করার কার্যকরী ১০টি উপায়

 রাসুল (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যাক্তি চাই তার রিজিক বারুক এবং আয়ুতে বরকত হোক সে যেন আত্মীয়তা সম্পর্ক বজায় রাখে। তিনি আরও বলেছেন যে ব্যক্তি সম্পর্ক ছিন্ন করে যে আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হয়। আত্মীয়দের কষ্ট দেওয়া বা তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে না আল্লাহ অপছন্দ করেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আত্মীয়তা সম্পর্ক রক্ষা করে আল্লাহ তার জীবনের শান্তি, বরকত ও রহমত নাযিল করেন এবং আখেরাতে তাকে বিশেষ মর্যাদা দান করবেন।

আল্লাহর রহমত থেকে কখনো নিরাশ না হওয়া

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কখনো আল্লাহর রহমত থেকে আশা ছেড়ে দেওয়া যাবে না। আমরা অনেকে আছি যারা আল্লাহর উপর ভরসা রাখতে পারেনা এমনকি হতাশা হয়ে পড়ে। যেমন আমি এ কাজটা করেছি আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করবে কিনা আমার অনেক বড় ভুল হয়ে গেছে আল্লাহ আমাকে মাফ করবেন নাকি না এসব অনেক কথা মাথায় চিন্তা করে এবং হতাশা হয়ে পড়ে। আল্লাহর রহমত লাভ করতে হলে কখনো আল্লাহ উপর থেকে ভরসা কমাতে হবে না এবং হতাশা হওয়া যাবে না। কোরআনে আল্লাহ বলেছেন তার রহমত থেকে নিরাশ হওয়া গুনাহ। বান্দা যত বড় গুনাহ করুক আল্লাহর দরজা তার জন্য খোলা থাকে। কারণ আল্লাহর রহমতে অনেক তাই কখনো আল্লাহ তার বান্দাকে নিরাশ করে না।

উপসংহার আল্লাহ রহমত পাওয়ার উপায় সমূহ

আল্লাহর রহমত পাওয়া কঠিন কিছু নয়। খাটি ঈমান, নিয়মিত নামাজ, তওবা, দোয়া, কোরআন পড়া, সাদকা ও উত্তম চরিত্র এই সহজ আমল গুলোর মাধ্যমে আল্লাহর অসীম রহমত লাভ করা যায়। আল্লাহর রহমত পেতে হলে অবশ্যই আমাদের ওপরের নিয়ম গুলো মানতে হবে। আল্লাহ কখনো মানুষকে কখনো নিরাশা করে না। তাই আসুন আজ থেকে কোরআনের আলোকে জীবন গরিব এবং আল্লাহর রহমত লাভ করে। যাতে করে দুনিয়া ও আখেরাতে দুই জায়গায় আল্লাহর রহমত পাওয়া যায়। এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে তার রহমতে ছায়ায় রাখুন আমিন। ধন্যবাদ

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪