প্রতিদিন ১৫মিনিট ব্যায়াম করার ৭টি উপকারিতা
বর্তমানে মানুষ অনেক ব্যস্ত। ব্যস্ততার কারণে স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে পারেনা। অফিস, পড়াশোনা, কাজের ব্যস্ততা, মানসিক চাপ, পরিবারের দায়িত্ব এসব কিছু ব্যস্ততার কারণে মানুষ এতটাই নিজেদেরকে ব্যস্ত করে নিয়েছে যে নিজের স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার সময় নাই। যার ফলে মানুষ দিন দিন অসুস্থ হয়ে পড়ছে এমনকি প্রায় অসুস্থ থাকে মানুষ।
এসব সমস্যা সমাধানের জন্য সকালে কিছুক্ষণ হলো ব্যায়াম করা উচিত আমাদের সকলের। কারণ সুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করতে না পারলেও সংক্ষিপ্ত ব্যায়াম করা উচিত। তাই প্রতিদিন মাত্র ১৫ মিনিট ব্যায়াম করলোই আপনার শরীর ও মনের উপকার অনেক হতে পারে। আসুন নিচের জেনে নিন ১৫ মিনিট ব্যায়াম করার ৭টি বড় উপকারিতা।
শরীর সুগঠিত এবং শক্তিশালী হওয়া
প্রতিদিন মাত্র ১৫ মিনিট ব্যায়াম করা শরীরকে সুগঠিত এবং শক্তিশালী করার জন্য
অত্যন্ত কার্যকর। বিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা গেছে, সংক্ষিপ্ত কিন্তু নিয়মিত
ব্যায়াম মাংসপেশি ও হাড়ের ঘনত্ব বাড়ায় যা বার্ধকজনিত দুর্বলতা এবং
অস্টিওপরোসিসের ঝুঁকি কমায়। ডাক্তারদের মতে নিয়মিত ব্যায়াম পেশি
শক্তিশালী করে শরীরের সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখে এবং প্রতিদিনের কাজ যেমন হাটা,
বসা ওঠা বা জিনিস তোলা সহজ করে তোলে। গবেষকেরা বলেছেন প্রতিদিন মাত্র ১৫ মিনিট
হালকা স্ট্রেংথ ট্রেনিং বা বডিওয়েট এক্সারসাইজ পেশিকে সক্রিয় রাখে এবং
অপ্রয়োজনেও চর্বি কমায়। হৃদয় এবং হজম ব্যবস্থার জন্য উপকারী।
সাধারণ মানুষের ভাষায় বলতে গেলে যদি আপনি প্রতিদিন সকালে বা বিকালে ১৫ মিনিট পুশ
আপ,স্কোয়াট বা প্ল্যাঙ্কের মতন ব্যায়াম করেন তাহলে শরীরের শক্তি বাড়বে।
এতে করে আপনি সহজে হাঁটাচলা বা প্রতিদিনের কাজগুলো খুব সহজে করতে পারবেন।
এটি পুরোপুরি নিরাপদ কারণ কোন অতিরক্ত চাপ নেই এবং যে কেউ বয়সে বা শরীরের অবস্থা
অনুযায়ী এটা করতে পারবে। ছোট ছোট এ ব্যায়াম আপনার অভ্যাসে পরিণত হলে স্বাস্থ্য
রক্ষায় অনেক বড় পরিবর্তন আনতে পারবেন। এতে করে আপনার স্বাস্থ্য দীর্ঘ মেয়াদী
শরীরকে তরতাজা ও ফিট রাখতে সাহায্য করবে।
হৃদয় ও রক্তচাপের স্বাস্থ্য রক্ষা করে
প্রতিদিন মাত্র ১৫ মিনিট ব্যান করলে হৃদয় সুস্থ থাকে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে
থাকে। বিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত সংক্ষিপ্ত ব্যায়াম রক্তনালীর
কার্যকারিতা বাড়ায় এবং রক্ত প্রভাবকে নিয়মিত রাখে। যখন শরীরের উচ্চ
রক্তচাপ সৃষ্টি হয় তখন তখন মানুষ হার্ট অ্যাটাক করে বসে। আপনি যদি প্রতিদিন
নিয়ম করে ১৫ মিনিট ব্যায়াম করেন তাহলে এই হার্ট অ্যাটাকের এবং রক্তচাপের ঝুঁকি
কমে। ডাক্তারদের মতে হালকা কার্ডিও এক্সারসাইজ যেমন হাটা, সাইক্লিং বা জগিং
শুধু ক্যালোরি জ্বালায় না হৃদয় শক্তিশালী করে।
আরো পড়ুনঃ
দাঁতের যত্ন কিভাবে নিব
গবেষকরা বলেন নিয়মিত ব্যায়াম করলে হাটের পাম্পিং ক্ষমতা বাড়ে। রক্তের
খারাপ কোলেস্টেরল কমে যায় এবং ভালো কোলেস্টেরল বাড়ায়। ফলস্বরূপ আপনার
স্বাস্থ্যের হৃদরোগে ঝুঁকি কমবে এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকবে। সাধারণ
মানুষের ভাষায় বলতে গেলে শুধু ১৫ মিনিট ব্যায়াম করলে হৃদয় ফিট থাকে, হাঁপানি ও
শ্বাসকষ্ট কম হয়। আপনি প্রতিদিন যে কাজগুলো করেন সেগুলোতে আপনার ক্লান্তি
লাগবেনা। এমনকি আপনি সারাদিন আপনার শরীর হালকা থাকবে এই
সামান্য ব্যায়াম।
প্রতিদিন ব্যায়াম করলে শরীর আলাদা একটা ভালো লাগা কাজ করে। তখন কাজের প্রতি অনেক
মন আসে। প্রতিদিন ব্যায়াম করলে আপনি পুরোপুরি নিরাপদ থাকবেন। কারণ শরীরের ভারি
চাপ না দিয়ে হালকা বা মাঝারি মাথায় ব্যায়াম করা হয়। ডাক্তাররা সব বয়সে
মানুষের জন্য প্রায় ১৫ মিনিট সকালের হালকা ব্যায়াম করার পরামর্শ দেন। কারণ এটি
হৃদয়কে সুস্থ রাখে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং দীর্ঘমেয়েদের জীবনযাত্রার মান
উন্নতি করে।
ওজন কমাতে সাহায্য করে
প্রতিদিন মাত্র ১৫ মিনিট ব্যায়াম করা শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখতে খুবই কার্যকর।
বর্তমানে ব্যস্ত জীবন অনেকে ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। কারণ হচ্ছে কাজের চাপ,
দীর্ঘ সময় কম্পিউটার বা মোবাইলের সামনে বসে থাকা, অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং
পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে আমাদের শরীরের মেটাবলিজম ধির করে দেয়। অনেক সময়
মানুষ মনে করেন ওজন কমাতে হলে দীর্ঘ সময় জিম বা শক্ত ব্যায়াম করতে হবে। কিন্তু
এটা ঠিক না আপনি সামান্য সংক্ষিপ্ত ওজন কমাতে পারবেন। গবেষণায় দেখা গিয়েছে
সংক্ষিপ্ত কিন্তু নিয়মিত বেয়ামে ক্যালোরি পড়াতে ওজন কমাতে সাহায্য করে।
ডাক্তার ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন প্রতিদিন ১৫ মিনিট হালকা বা মাঝারি ব্যায়াম
যেমন হাটা, দৌড়ানো,স্কোয়াট, জাম্পিং জ্যাক বা হালকা কার্ডিও করলে শরীরে
বিপাক বাড়ে, চর্বি কমে এবং পেশি শক্তিশালী হয়। সাধারণ মানুষের ভাষায় বলতে
গেলে ১৫ মিনিট নিয়মিত ব্যায়াম করলে আপনি বেশি খেতে চাইবেন না। যার ফলে আপনার
মেদ কমবে এবং শরীর সুগঠিত এবং শক্তিশালী হবে।
এই ব্যায়ামের জন্য আপনার শরীর পুরোপুরি নিরাপদ থাকবে। এবং এই ব্যায়ামটা যে কেউ
করতে পারবে যে কোন বয়সের। শুধু ব্যস্ত সময়সূচির মধ্যে ছোট ছোট ১৫ মিনিটের
ব্যায়াম নিয়মিত করলে ওজন নিয়ন্ত্রণ থাকে স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং দীর্ঘমেয়াদি
হাট, হাড় ও পেশির সুস্থতা নিশ্চিত হয়। প্রতিদিন ১৫ মিনিট ব্যায়াম করলে শরীর ফিট
থাকে ওজন কমে এবং জীবনের মান বৃদ্ধি পায়।
মানসিক চাপ কমায়
আজকাল অনেকে কাজের চাপ, পড়াশুনা পরিবার এবং দৈনন্দিন জীবনের দৌড়ঝাঁপের
কারণে মনকে স্বস্তি দিতে পারছে না। কখনো কখনো মনে হয় শুধু বিশ্রাম বা
শিথিল হওয়ার যথেষ্ট হবে কিন্তু তা সব সময় কাজ করে না। কাজের এত চাপ থাকে
যে মানুষ মানসিক অশান্তি ভোগে যার কারণে রাতে ঠিক মতন ঘুম হয় না। কারণ মানুষ
নিজেকে রোবট বানিয়ে নিয়েছে। সারাদিন শুধু কাজ আর কাজ। যার কারণে প্রায়
মানুষ অশান্তিতে ভুগছে। গবেষকেরা দেখিয়েছেন প্রতিদিন মাত্র ১৫ মিনিট ব্যায়াম
করলে মনের চাপ অনেকটা কমানো যায়।
ব্যায়ামের সময় শরীর আনন্দদায়ক হরমোন তৈরি করে যা চিন্তা, উদ্বিগ্ন এবং মন
খারাপের অনুভূতি কমাতে সাহায্য করে। আপনি যদি প্রতিদিন হালকা ব্যায়াম করেন বা
হাঁটেন তাহলে আপনার শরীরে ক্লান্তি দূর হবে এবং আপনার মনকে সতেজ করবে। ডাক্তাররা
বলেন প্রতিদিন হাঁটলে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয় এবং মন শান্ত হয়। মাত্র ১৫ মিনিটের
জন্য শরীর নড়াচড়া করলে দিনের সমস্ত চাপ সাময়িকভাবে দূরে চলে যায় এবং কাজের
মধ্যে আরও মনোযোগ বাড়ায়।
এই ব্যায়াম সহজ ও নিরাপদ। আপনি যদি নিজেকে ফিট রাখতে চান বা মানসিক চাপ
কমাতে চান তাহলে আপনাকে প্রতিদিন নিয়ম করে এ ব্যায়াম করতে হবে। যারা কাজের চাপ
বা জীবনযাত্রার কারণে মানসিকভাবে ক্লান্ত তাদের জন্য ১৫ মিনিটের ব্যায়াম এক
ধরনের ছোট। কিন্তু মানসিক ছুটি হিসাবে কাজ করে। এটা শুধু চাপ কমায় না বরং
মনের শক্তি বাড়ায় এবং দিনশেষ নিজেকে ভালো লাগে এবং শরীরের ক্লান্তি দূর করে
মনকে করে তুলে আনন্দময়।
শক্তি ও সহনশীলতা বৃদ্ধি করে
অনেকে মনে করেন শক্তি বাড়াতে হলে ঘন্টা সময় ধরে জিমে বা ব্যায়াম করতে হবে।
কিন্তু সত্যি গুরুত্বপূর্ণ হলো নিয়মতা। আপনি যদি প্রতিদিন একটু একটু করে
ব্যায়াম করেন এবং এটাকে অভ্যাসে পরিণত করে তাহলে আপনার শক্তি ও সহনশীলতা বৃদ্ধি
পাবে। কারন আমাদের শরীরের শক্তি আমাদের নিজেদের কারণে কমে যায়। আমরা এত কাজের
ব্যস্ততার ভিতরে থাকি যে শরীরের যত্ন নিতে পারি না এমনকি পুষ্টিকর খাবারও খাই না।
শরীরের পুষ্টি জোগাতে হলে অবশ্যই আমাদের স্বাস্থ্যকর খাবারের দরকার। এজন্য আমাদের
স্বাস্থ্যকর খাবারের পাশাপাশি প্রতিদিন কিছুক্ষণ হলেও ব্যায়াম করা উচিত।
গবেষণা করা বলেছে প্রতিদিন ১৫ মিনিটের নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা শরীরের শক্তি
বাড়ায় এবং ধৈর্যশীলতা তৈরি করে। যেমন ছোট ছোট ব্যায়াম, সিঁড়ি দিয়ে
উঠানামা, হালকা হ্যান্ড এক্সারসাইজ যা শরীরকে সামান্য ঝাঁকানোর দিনের মধ্যে
ক্লান্তি কমায়। ডাক্তারদের ভাষায় সংক্ষিপ্ত ব্যায়াম শরীরের এনার্জি
লেভেল বাড়াই,পেশিকে দ্রুত পুনরায় শক্তিশালী করে এবং দীর্ঘ সময় ধরে
কাজে চালানোর ক্ষমতা তৈরি করে। আপনি সকালে ১৫ মিনিট হালকা চলাফেরা করলে দিনের
বাকি সময় শরীর আর তাড়াতাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।
নিয়মিত ছোট ব্যায়াম আপনাকে কাজের প্রতি মনোযোগ বাড়াবে এবং আপনার প্রতিদিনের
কাজে আপনাকে অনেক সাহায্য করবে। এটি এক ধরনের শরীরে রিচার্জ সেশন। শুধু শরীরের
শক্তি বাড়ে না মনও সতেজ থাকে এবং চাপ পণ্য দিনেও নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে সহজ
হয়। আপনার এই প্রতিদিনের মাত্র ১৫ মিনিটের ব্যায়াম আপনার স্বাস্থ্যের জন্য অনেক
উপকারী। আপনি যদি নিয়ম করে ধৈর্য সহকারে প্রতিদিন অভ্যাস তৈরি
করেন ব্যায়াম করার জন্য তাহলে আপনার জীবনটা হবে আনন্দময়।
ঘুমের মান উন্নতি করে
ঘুম এটা মানুষের জীবনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ঠিকভাবে যদি ঘুমাতে না পারা যায়
তাহলে স্বাস্থ্য ভালো থাকে না। দিন দিন শরীর দুর্বল হয়ে পড়বে এবং বড় কোন
রোগ শরীরে বাসা বাঁধবে। কিন্তু বর্তমানে আমাদের কাজের এত চাপ, মানসিক চাপ,
পারিবারিক চাপ, পড়াশোনা চাপ ও অফিসের কাজের চাপ সব মিলিয়ে একটা অস্বস্তিকর
জীবনে বসবাস করছে। যেখানে সুখের বদলে অশান্তি যার কারনে প্রায় মানুষ ঘুমাতে পারে
না রাতে। তাই আমাদের ঘুমের মান উন্নতি করতে হলে প্রতিদিন হালকা ও মাঝরি
ব্যায়ামের অভ্যাস করতে হবে।
ডাক্তারদের ভাষায় নিয়মিত হালকা বা মাঝারি ব্যায়াম শরীরের সার্কেডিয়ান
রিদম নিয়ন্ত্রণ রাখে। আপনার শরীর জানে কখন ঘুমাতে হবে এবং কখন জেগে থাকতে
হবে। গবেষকেরা বলেছেন মাত্র ১৫ মিনিট হাঁটা বা স্ট্রেচিং করলে ঘুমের ব্যাঘাত কমে
এবং গভীর ঘুমে সময় বারে যা শরীরকে সম্পূর্ণ বিশ্রাম দেয়।১৫ মিনিটের ছোট্ট
ব্যায়াম মানে রাতের ঘুম আরো ব্যস্ততার কারণে কেঁপে ওঠা শরীরকে শান্ত করে।
আপনি সকালে বা বিকেলে হালকা হাটাহাটি করলে এমন ঘুমের মধ্যে ঘুম ভাঙার ঘটনা কমে
যায়। এটা শুধু শরীরকে বিশ্রাম দেয় না বরং মনকে ভালো রাখে এবং পরের দিন আরো
সতর্ক সক্রিয় হতে সাহায্য করে। প্রতিদিনের ১৫ মিনিট ব্যায়াম আপনার
স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকার। তাই নিজেকে ভালো রাখতে হলে অবশ্যই আমাদের
ব্যায়ামের অভ্যাস করতে হবে। এ প্রতিদিনের ১৫ মিনিটের ব্যায়াম আপনার ঘুমকে
প্রাকৃতিক ভাবে নিয়ন্ত্রণ রাখে মানসিক চাপ কমে এবং দিনের মধ্যে এনার্জি সঠিকভাবে
ব্যবহার করতে শেখায়।
রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
আজকাল আমাদের পরিবেশে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া এবং নানা অসুখের ঝুঁকি বেশি। আবার
অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার জন্য এসব সমস্যা হয়। কারণ আমরা বাইরের খাবার খেয়ে
থাকি যা আমাদের শরীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি অনেকটা কমে যায়। যার কারণে
শরীর দুর্বল লাগে এবং প্রায় সময় মানুষ অসুস্থ থাকে। কারণ আমরা খাবারের দিক
দিয়ে সচেতন নয়। সে সাথে আমরা ব্যায়াম করি না এমনকি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে না।
যার কারণে আমাদের শরীরের শক্তি দিন দিন কমে যাচ্ছে। এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
অনেকটাই কম।
আরো পড়ুনঃ
হজম শক্তি কমার প্রধান কারণ
অনেকে মনে করেন রোগ প্রতিরোধ করার জন্য শুধু ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট খাওয়াই
যথেষ্ট। কিন্তু গবেষণা দেখা গেছে প্রতিদিন ১৫ মিনিট নিয়মিত ব্যায়াম শরীরের রোগ
প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বাড়াতে পারে। বিজ্ঞানীরা বলেছে ব্যায়ামের সময় শরীরের
ইমিউন সিস্টেম সক্রিয় হয়। শরীরের সহজে ভাইরাস বা সংক্রমনের বিরুদ্ধে লড়াই
করতে পারে। ডাক্তাররা বলেন হালকা হাটাহাটি, জাম্পিং শরীরের লসিতো সাইটের
কার্যকারিতা উন্নতি করে যা সংক্রমন কমাতে সাহায্য করে।
১৫ মিনিটের ছোট্ট ব্যায়াম মানে শরীরে নিজে নিজে রক্ষার ব্যবস্থা শক্ত করে। যারা নিয়মিত সময় ব্যায়াম করে তারা সহজে সর্দি কাশি, জ্বর, মাথা ব্যথা বা ছোটখাটো সংক্রমনে আক্রান্ত হয় না এবং রোগ থেকে দ্রুত সরে ওঠে। এটি পুরোপুরি নিরাপদ এবং যে কেউ করতে পারে এই ব্যায়াম। প্রতিদিনের ছোট্ট ব্যায়াম শরীরকে সুস্থ রাখে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায় এবং দীর্ঘমেয়াদী আপনার স্বাস্থ্যকে শক্তিশালী করে।
FAQ: প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্নঃ ১৫ মিনিট ব্যায়াম করলে কত ক্যালোরি খরচ হয়?
উত্তরঃ প্রতিদিন ১৫ মিনিট হালকা থেকে মাঝারি ব্যায়াম করলে প্রায় ৫০-১০০
ক্যালোরি খরচ হয়। যদি বেশি তীব্র ও কার্ডিও ব্যায়াম করা হয় তবে ১২০-১৫০
ক্যালোরি পর্যন্ত ক্যালোরি পোড়াতে পারে।
প্রশ্নঃ দিনে ১৫ মিনিট হাঁটা কি যথেষ্ট?
উত্তরঃ দিনে ১৫ মিনিট হাটা স্বাস্থ্যকর জন্য কিছুটা উপকারী। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদি
ফিট থাকার জন্য আরও ব্যায়াম বা চলাফেরা সময় বাড়ানো ভালো। এটি শরীর সক্রিয়
রাখে এবং মানসিক চাপ কমায় কিন্তু ওজন নিয়ন্ত্রণ বা পেসি গঠনের জন্য একটিমাত্র
১৫ মিনিট যথেষ্ট নাও হতে পারে।
প্রশ্নঃ চর্বি কমানোর জন্য কোন ব্যায়াম ভালো?
উত্তরঃ চর্বি কমানোর জন্য কার্ডিও ব্যায়াম সবচেয়ে ভালো। যেমন দৌড়ানো,
জগিং, সাইক্লিং, জাম্পিং জ্যাক বা তাড়াহুড়া হাটা। এছাড়া হালকা ও ওজনসহ
স্ট্রেনহ ট্রেনিং করলে পেশি শক্ত হয় এবং শরীরের ক্যালরি জালানো
বাড়ে।
উপসংহার প্রতিদিন ১৫ মিনিট ব্যায়াম করা ৭টি উপকারিতা
প্রতিদিন মাত্র ১৫ মিনিট ব্যায়াম করা আসলে অনেক বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তাই
আমাদের শরীরে পরিবর্তন আনতে হলে অবশ্যই আমাদের ব্যায়াম করতে হবে। এবং এর
পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। একদিনের ব্যায়াম দিয়ে সব পরিবর্তন আশা
করা ঠিক হবে না। এজন্য নিয়মিত হলো মূল চাবি কাঠি। সকালে বা বিকালে শুধু ১৫ মিনিট
সময় দেওয়াটাই যথেষ্ট। এবং তা জীবনকে অনেক সহজ ও আনন্দদায়ক করে তোলে। আরেকটি
বড় সুবিধা হল এ সময় খুব কম লাগে তাই ব্যস্ত জীবনে এটা মানা সহজ।
যদি আপনি শরীরকে সুস্থ, শক্তিশালী, সতেজ এবং রোগ মুক্ত রাখতে চান আজ থেকে ১৫
মিনিটের ব্যায়াম শুরু করুন। এই ছোট্ট অভ্যাস আপনার দৈনন্দিন জীবনকে আরো
সুখময় এবং শক্তিশালী করে তুলবে। তাই আসুন ভালো থাকতে এবং নিজেকে সুস্থ রাখার
জন্য আজ থেকে শুরু করে ব্যায়াম করা এবং স্বাস্থ্য সচেতন হওয়া ধন্যবাদ।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url