তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার ফজিলত ও গুরুত্ব
তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার ফজিলত গুলো জানব।আমাদের মুসলমানের উপরে আল্লাহতালা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করছে।পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পাশাপাশি আমরা নফল ইবাদত গুলো করি।নফল ইবাদতের মধ্যে সর্ব উত্তম হচ্ছে তাহাজ্জুদ নামাজ।তাহাজ্জুদ এমন একটা নামাজ যা নিশি রাতে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক স্থাপনের একটি সুন্দর মুহূর্ত।
তাহাজ্জুদ নামাজ পড়লে আল্লাহ তায়ালা অনেক খুশি হন। তাহাজ্জুদ নামাজের পড়ার ফজিলত ও গুরুত্ব অনেক। তাহাজ্জুদ নামাজ পড়লে মমিন ও মুসলমান ব্যক্তিদের জীবনে সমস্যা সমাধান হয়ে যায়। তাহাজ্জুদ নামাজ হচ্ছে দোয়া কবুলের মাধ্যমে। জানব তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার ফজিলত ও গুরুত্ব সম্পর্কে।
তাহাজ্জুদ নামাজ কি
তাহাজ্জুদ নামাজ হলো রাতের বিশেষ নফল ইবাদত যা আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম। ইশার নামাজের আদায় করার পর কিছু সময় ঘুমিয়ে উঠে যে নফল নামাজ পড়া হয় সেটাই তাহাজ্জুদ। এটা ফরজ নয়, কিন্তু কোরআন ও হাদিসে এই নামাজের মর্যাদা ও ফজিলত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গে বর্ণিত হয়েছে। গভীর রাতে যখন চারিপাশ নিস্তব্ধ থাকে এবং মানুষ দুনিয়ার ব্যস্ততা থেকে মুক্ত থাকে তখন আল্লাহ সামনে দাঁড়ানো বান্দার ঈমান ও একান্ত ভালোবাসা প্রকাশ।
- কোরআনে কারীমে আল্লাহ তায়ালা তার প্রিয় বান্দার গুণ হিসাবে রাতের ইবাদতের কথা উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ বলেন রাতের কিছু অংশ তাহাজ্জুদ আদায় করতে এবং শেষ রাতে ক্ষমা প্রার্থনা করতে। এতে বোঝা যায় তাহাজ্জুদ নামাজ এমন একটি ইবাদত যা বান্দাকে আল্লাহর বিশেষ রহমত ও মর্যাদা কারি অধিকার করে তোলে। কোরআনের এই নির্দেশনা থেকে স্পষ্ট হয় যে তাহাজ্জুদ শুধু একটি নফল এতে আল্লাহর কাছে পৌঁছানোর একটি উচ্চতার পথ।
- হযরত নবী করিম (সাঃ) আরো বলেন যে ব্যক্তি নিয়মিত ভাবে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে তার মৃত্যুর পর আল্লাহ তাআলা তাহার কবরকে সত্তর গজ প্রশস্ত করিয়া দেয়। আর এক হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাহাজ্জুদের নামাজের বিশেষ ফজিলত বর্ণনা করেছেন। তিনি নিজে নিয়মিত এই নামাজ আদায় করতেন এবং এটিকে ফরজ নামাজের পর সর্ব উত্তম নামাজ বলে উল্লেখ্য করেছেন।
- হাদিসে এসেছে রাতের শেষ অংশে আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন এবং বান্দার প্রয়োজনগুলো চাহিতে আহ্বান জানান। এ সময় আল্লাহর বান্দার দোয়া কবুল করেন গুনাহ মাফ করেন এব রহমত দান করেন। এ কারণে তাহাজ্জুদের সময়কে দোয়া কবুলের শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়।
- তাহাজ্জুদ নামাজ মানুষের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে এবং ঈমানকে মজবুত করে। নিয়মিত তাহাজ্জুদ আদায় করলে অন্তরে এক ধরনের শান্তি ও প্রশান্তি নেমে আছে যা দুনিয়ার কোন বস্তু দিয়ে অর্জন করা যায় না। দুঃখ, কষ্ট ও বিপদের সময় এই নামাজ বান্দাকে ধৈর্যশীল ও শক্তি যোগায়। তাই অল্প হল নিয়মিত তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করার চেষ্টা করা প্রত্যেক মুমিনের জন্য অত্যন্ত কল্যাণকর।
কোরআনের আলোকে তাহাজ্জুদ নামাজের গুরুত্ব
কোরআনের আলোকে তাহাজ্জুদ নামাজের গুরুত্ব অন্তত গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ। আল্লাহ
তাআলা কুরআনে কারীমে সরাসরি রাসূল (সাঃ) কে উদ্দেশ্য করে রাতে কিছু অংশে
তাহাজ্জুদের আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন এবং এটিকে অতিরক্ত মর্যাদার হিসেবে
উল্লেখ্য করেছেন। এতে বোঝা যায় তাহাজ্জুদ নামাজের একটি বিশেষ মাধ্যম এমন এমন
ইবাদত যা বান্দার মর্যাদা বৃদ্ধি করে। গভীর রাতে আল্লাহু সামনে দাঁড়ানো বান্দার
ইখলাস, ভালোবাসা ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের প্রমাণ।
আরো পড়ুনঃ
রমজান মাসে ইবাদতের ফজিলত
কোরআনে আল্লাহু তা'আলা তাঁর প্রিয় বান্দার গুণ হিসেবে রাতের ইবাদতের কথা উল্লেখ
করেছে। তিনি বলেছেন তারা রাতের খুব অল্প অংশে ঘুমাতে এবং শেষ রাতে তারা ক্ষমা
প্রার্থনা করত। ইয়ে আয়াতগুলো থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে তাহাজ্জুদের নামাজ
মানুষকে আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের কাতারে সামিল করে। রাতের নিস্তব্ধ সময়ে ইবাদত
করা অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে এবং গুনাহ থেকে দূরে রাখে।
কোরআনের আলোকে তাহাজ্জুদ নামাজ শুধু একটি নফল ইবাদত নয়। বরং এটি আল্লাহর
বিশেষ রহমত, ক্ষমা ও উচ্চ মর্যাদার অর্জনের পথ। যারা নিয়মিত তাহাজ্জুদ আদায় করে
তারা দুনিয়ার ব্যস্ততার মাঝেও আল্লাহকে অগ্রাধিকার দেয়। এ কারণে আল্লাহ কোরআনে
বারবার রাতের ইবাদতের প্রশংসা করেছেন এবং তাহাজ্জুদ নামাজকে মুমিন জীবনের একটি
গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে তুলে ধরেছেন।
হাদিসের আলোকে তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত
তাহাজ্জুদ নামাজ হচ্ছে নফল নামাজের সর্বোত্তম নামাজ। হাদিসে বর্ণিত আছে রাতে
শেষ তৃতীয়াংশে আল্লাহ তা'আলা দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন এবং
বান্দাদের উদ্দেশ্যে ঘোষণা করেন কে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব, কে আমার
কাছে চাইবে আমি তাকে দেব, কে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে আমি তাকে ক্ষমা করব। এই হাদিস
থেকে স্পষ্ট হয় যে তাহাজ্জুদের সময় আল্লাহর রহমত বিশেষভাবে নাযিল হয় এবং এ
সময়ে করা দোয়া দ্রুত কবুল হয়। তাই যারা আল্লাহর কাছে একান্তভাবে কিছু চাইতে
চাই তাদের জন্য তাহাজ্জুদের সময় সবচেয়ে মূল্যবান।
হাদিসের আলোকে তাহাজ্জুদ নামাজ এমন একটি ইবাদত যার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর
ভালোবাসা, ক্ষমা ও জান্নাতের সুসংবাদ লাভ করে। যারা দুনিয়ার আরাম ছেড়ে গভীর
রাতে আল্লাহর সামনে দাঁড়ায় আল্লাহ তাদের সম্মানিত করেন এবং আখিরাতের উচ্চ
মর্যাদা দান করেন। তাই প্রত্যেক মুমিনের উচিত তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করার চেষ্টা
করা।
দোয়া কবুলের বিশেষ সময় হিসাবে তাহাজ্জুদ
দোয়া কবুলের বিশেষ সময় হিসেবে তাহাজ্জুদ নামাজ ইসলামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হাদিসে স্পষ্ট ভাবে বর্ণিত আছে যে রাতের শেষ অংশে আল্লাহ তাআলার রহমত বিশেষভাবে
নাযিল হয় এবং এ সময় বান্দা দোয়া সবচেয়ে বেশি কবুল হয়। যখন চারি পাশ
নিস্তব্ধ থাকে, মানুষ গভীর ঘুমে থাকে, তখন একজন মুমিন ঘুম ছেড়ে আল্লাহর সামনে
দাঁড়িয়ে দোয়া করে। এতে আল্লাহর কাছে বান্দার আন্তরিকতা সবচেয়ে সুন্দর
প্রকাশ।
তাহাজ্জুদের সময় দুয়ার আরেকটি বড় ফজিলত হলো এ সময় বান্দার অন্তরের সবচেয়ে
বেশি বিনয়ী ও একাগ্র থাকে। দিনের ব্যস্ততা, দুনিয়ার চিন্তা ও মানুষের দেখানোর
প্রবণতা এ সময় থাকে না। হলে দেওয়া হয় একবারে খাটি মন থেকে। আল্লাহতালা এমন
আন্তরিক দোয়া খুব পছন্দ করেন এবং তা কবুল করেন। কখনো দুনিয়াতে আবার কখনো
আখেরাতের জন্য সঞ্চিত রেখে দেন।
যারা নিয়মিত তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করে দোয়া করে তারা আল্লাহর বিশেষ রহমতের
ছায়ায় থাকে। জীবনের জটিল সমস্যা, অভাব, রোগ, মানুষের কষ্ট কিংবা গুনাহ থেকে
মুক্তির জন্য তাহাজ্জুদের দোয়া অত্যন্ত কার্যকর। তাই দোয়া কবুলের আশা ও আল্লাহর
নৈকট্য লাভের উদ্দেশে তাহাজ্জুদ নামাজকে জীবনের অভ্যাসে পরিণত করা প্রত্যেক
মুমিনের জন্য অত্যন্ত কল্যাণকর।
আল্লাহর কাছাকাছি লাভের তাহাজ্জুদের ভূমিকা
আল্লাহর কাছাকাছি পৌঁছাতে তাহাজ্জুদের নামাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি
এমন একটি ইবাদত যা বান্দাকে আল্লাহর কাছ কাছাকাছি ও সন্তুষ্টির সবচেয়ে
ঘনিষ্ঠ পথে নিয়ে যায়। রাতের গভীর ঘুম ভেঙে আল্লাহর সামনে দাঁড়ানো এবং
একান্তভাবে দোয়া ও এবাদত করা প্রমাণ করে যে বান্দা তার রবের এর প্রতি পূর্ণ ভরসা
ও আনুগত্য রাখে। এ আন্তরিকতা ও একাগ্রতা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় কারণ বান্দা
দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টিক অগ্রধিকার দিচ্ছে।
তাহাজ্জুদ নামাজ মানুষের অন্তরের অহংকার ভেঙ্গে দেয়, বিনয়ের সৃষ্টি করে
এবং আল্লাহ ভীতি বৃদ্ধি করে। একান্তভাবে আল্লাহর সামনে দোয়া ও কোরআন পাঠের
মাধ্যমে বান্দার তার রবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে। এ কাছাকাছি বান্দাকে
আধ্যাত্মিক শক্তি, ধৈর্য, ধ্যান এবং জীবনের প্রতিকূলতায় আল্লাহর উপর ভরসা
স্থির করতে সাহায্য করে।
তাহাজ্জুদ নামাজ একজন মুমিনকে আল্লাহর কাছে নিয়ে যাওয়ার শক্তিশালী মাধ্যম। এটা
শুধু নেক আমলের বৃদ্ধি নয় বরং আল্লাহর রহমত, সন্তুষ্টি ও আল্লাহর কাছাকাছি লাভের
এক অন্যান্য সুযোগ। যারা নিয়মিত তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করে তারা দুনিয়া ও
আখিরাতে উভয়ের দিকে আল্লাহর অনুভব করতে সক্ষম হয়।
দুনিয়ার জীবনে তাহাজ্জুদ নামাজের উপকারিতা
দুনিয়ার জীবনে তাহাজ্জুদ নামাজের উপকারিতা অনেক গুণ বিস্তৃত এবং
মানুষের মানসিক, আধ্যাত্মিক ও শারীরিক জীবনকে সমৃদ্ধ করে। দুনিয়ার জীবনে
তাহাজ্জুদ নামাজ মানুষের আর কি উপকারিতা হয় চলুন নিচে জেনে নিন।
- প্রথমতঃ এটি মানুষের অন্তরকে শান্তি ও প্রশান্তি দেয়। গভীর রাতে যখন চারপাশ নিস্তব্ধ থাকে তখন ঘুম ভেঙ্গে আল্লাহর সামনে দাঁড়ানো এবং দোয়া করা মানুষের মনকে প্রশান্ত করে। আর সে সাথে মানসিক চাপ ও উদ্বিগ্ন দূর করে। নিয়মিত তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া ব্যক্তির জীবনে মানসিক ভারসাম্য ধৈর্য বৃদ্ধি করে।
- দ্বিতীয়তঃ তাহাজ্জুদ নামাজের মানুষের চরিত্র গঠন ও আত্মসংযম হতে সাহায্য করে। যে ব্যক্তি তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে তাকে দুনিয়ার লোভ ও প্রলোভন থেকে দূরে রাখে। ন্যায় ও সত্যের পথে অটল থাকতে শেখায়।
- তৃতীয়তঃ তাহাজ্জুদ নামাজ মানুষের ঈমান ও আধ্যাত্মিক শক্তি বৃদ্ধি করে। নিয়মিত রাতে নামাজ পড়া মানে আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা রাখা এবং দুনিয়ার ব্যস্ততা থেকে আল্লাহর দিকে মনোযোগ ঘোরানো।
- চতুর্থতঃ তাহাজ্জুদ নামাজ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের দোয়া ও বরকত আনতে সাহায্য করে। তাই জীবনের কাজকর্ম, পারিবারিক সমস্যা স্বাস্থ্য ও আয় সব ক্ষেত্রে আল্লাহর রহমত লাভের জন্য তাহাজ্জুদ একটি শক্তিশালী মাধ্যম।
- দুনিয়ার জীবনে তাহাজ্জুদ নামাজ মানুষের মানসিক শান্তি, আধ্যাত্মিক শান্তি চরিত্র গঠন এবং আল্লাহর রহমত লাভের এক অন্যান্য উৎস। যারা নিয়মিত তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে তারা শুধু আখিরাতের জন্য নয় বরং দুনিয়ার জীবনে সুখ, স্থিরতা এবং সফলতা অর্জন করে।
আখিরাতে তাহাজ্জুদ নামাজের প্রতিদান
আখিরাতে তাহাজ্জুদ নামাজের প্রতিদান অত্যন্ত মহান ও মর্যাদাপূর্ণ। হাদিস কোরআনের
আলোকে দেখা যায় যারা দুনিয়ার আরাম-আয়েশ ছেড়ে গভীর রাতে আল্লাহর নিকটে চলে আসে
তারা আখেরাতের বিশেষ মর্যাদা লাভ করে। কিয়ামতের দিন তাহাজ্জুদ আদায়কারী আল্লাহর
কাছে আলাদা আলোতে চিহ্নিত হবে এবং সাধারণ মানুষের তুলনায় তাদের হিসাব সহজ করা
হবে। এটি তাদের জন্য আল্লাহ বিশেষ সম্মান নির্দেশন করে।
হাদিস ও বর্ণিত আছে যে ব্যক্তি নিয়মিত তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে আল্লাহ তার জন্য
জান্নাতে উচ্চ স্থান নির্ধারণ করে। কারণ হয়ে যায় এবং আখেরাতে তাকে আল্লাহর
বিশেষ রহমত অংশীদার বানায়। এ ছাড়া তাহাজ্জুদ আদায়কারীর ব্যক্তি আল্লাহর প্রিয়
বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয় যার ফলে আখিরাতে তিনি সম্মানিত ও নিরাপদ অবস্থানে
থাকেন।
তাহাজ্জুদ নামাজ শুধু মাত্র দুনিয়ার জীবনকে সমৃদ্ধ করে না বরং আখেরাতে এটি এক
বিশেষ সাফল্য মর্যাদা ও আল্লাহর সন্তুষ্টির অর্জনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম।
নিয়মিত এ নামাজ পড়া মানুষের জন্য আখিরাতের শান্তি, নিরাপত্তা এবং জান্নাত লাভের
নিশ্চিত পথ খুলে দেয়। তাই প্রত্যেক মুমিনের উচিত অনুযায়ী নিয়মিত তাহাজ্জুদ
নামাজ আদায় করা।
কারা তাহাজ্জুদ নামাজ পড়তে পারেন
তাহাজ্জুদ নামাজ সকল মুসলমানদের জন্য উন্মুক্ত এবং এটা পড়ার জন্য কোন বিশেষ যোগ্যতা বা অবস্থানের প্রয়োজন নেই। নারী পুরুষ, বৃদ্ধ যুবক , কর্মজীবী বা গৃহিনী যে কেউ চাইলে এ নফল নামাজ আদায় করতে পারে। ছোট রাকাতের মাধ্যমে শুরু করলে সময় নিয়মিত অভ্যাস গড়ে তুললে কেউ স্বাভাবিকভাবে তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত উপভোগ করতে পারে।তাহাজ্জুদ নামাজের মূল শর্ত হলো ঈশার নামাজ আদায় করা এবং তারপর কিছু সময় ঘুমানোর পর ফজরের আগ পর্যন্ত জেগে ওঠে নামাজ পড়া।
আরো পড়ুনঃ
নামাজ ভাঙ্গার প্রধান কারণ গুলো
যারা দুনিয়াতে ব্যস্ততা, কাজকর্ম বা পড়াশোনার কারণে সময় কম পান তারা অল্প রাকাত দিয়ে শুরু করতে পারেন। শিশু বা তরুণরা রাতের কিছু সময় আল্লাহর ইবাদতে কাটাতে পারে।যে কেউ হৃদয় দিয়ে আল্লাহর কাছাকাছি যাইতে চাইলে সে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়তে পারে। এটি কেবল আলেম বা বিশেষ ব্যক্তির জন্য নয় বরং প্রত্যেক মুসলিম বান্দার জন্য আল্লাহর কাছে পৌঁছানোর এক বিশেষ সুযোগ। নিয়মিত তাহাজ্জুদ পড়া বান্দার ঈমান ও আধ্যাত্মিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তাহাজ্জুদ নামাজের অভ্যাস গড়ে তোলার উপায়
তাহাজ্জুদের নামাজের অভ্যাস করে তোলা অনেক মুসলমানের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে
পারে। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা ও নিয়মিত চেষ্টায় এটি সহজেই সম্ভব। প্রথমে ছোট
রাকাতদের শুরু করা উত্তম যেমন দুই বা চার রাকাত। অল্প থেকে শুরু করলে শরীর ও মন
ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে যায়। পরবর্তী ধাপে ধাপে রাখাতে সংখ্যা বাড়ানো যেতে
পারে।
- দ্বিতীয় উপায় হল নিয়মিত সময় নির্ধারণ করা। রাতে ঘুমানোর আগে পরিকল্পনা করা যে নির্দিষ্ট সময়ে জেগে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া হবে। মোবাইল বা ঘড়িতে অ্যালার্ম সেট করে এ অভ্যাসটাকে আরও নিশ্চিত করা যায়।
- তৃতীয়ত নিয়তের গুরুত্ব অপরিসীম। মনে মনে দৃঢ়ভাবে ঠিক করা উচিত যে আল্লাহ সন্তুষ্টির জন্য আমি উঠবো এবং নামাজ পড়বো। যখন বান্দা নিজের মনকে দৃঢ়ভাবে আল্লাহর উদ্দেশ্যে কেন্দ্রিত করে তাহাজ্জুদের পথে আগ্রহ বৃদ্ধি পায়।
- চতুর্থ উপায় হল আত্ম প্রেরণা ও ফজিলতের স্মরণ। কোরআন ও হাদিসের তাহাজ্জুদের ফজিলত পড়া রাসূল (সাঃ) এর উদাহরণ করা এবং নিজেদের আখেরাতকে সামনে রেখে প্রেরণা দেওয়া।
- ধৈর্য ও ধীরে ধীরে অভ্যাস গঠন অপরিহার্য। প্রথমে হয়তো অনিয়মিত সময় জেগে নামাজ পড়া হবে কিন্তু নিয়মিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এটি অভ্যাসে পরিণত হয়। এভাবে ধীরে ধীরে তাহাজ্জুদ নামাজ জীবনের অংশ হয়ে যায় যা দুনিয়া ও আখেরাতে করলেন বয়ে আনে।
উপসংহার তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার ফজিলত ও গুরুত্ব
তাহাজ্জুদ নামাজ হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য এক বিশেষ উপহার। এটি এমন
একটা ইবাদত যা বান্দাকে দুনিয়া ও আখেরাতে সফল করে। যারা আল্লাহর রহমত, ক্ষমা ও
কাছাকাছি যাওয়া লাভ করতে চায় তাদের জন্য তাহাজ্জুদের নামাজ এক অতুলনীয় আমল।
আজি নিয়ত করুন অল্প হলেও নিয়মিত তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করা। আল্লাহ আমাদের
সবাইকে তাহাজ্জুদের তাওফিক দান করুন ।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url