শীতের সকালে খেজুরের রস খাওয়ার উপকারিতা ও পুষ্টিগুন

শীতের সকালে খেজুরের রস খাওয়ার উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ নিয়ে আলোচনা করব। শীতকালে খেজুরের রস পাওয়া যায়। তবে শীতের সকালে গাছের টাটকা রস খাওয়ার মজাই আলাদা। তবে শীতকাল ছাড়া এই রস পাওয়া যায় না।

শীতের-সকালে-খেজুরের-রস-খাওয়ার-উপকারিতা

খেজুরের রসের যে পুষ্টিগুণ গুলো রয়েছে তা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকার। তবে এর সঠিকভাবে খাওয়া এবং খেজুরের রস কতদিন সংরক্ষণ করে রাখা যাবে সে বিষয়ে আলোচনা করব। আর খেজুরের রস খেলে আমাদের স্বাস্থ্যের কি  উপকার এবং পুষ্টিগুণ পাব তা এখন নিচে আমরা বিস্তারিত জানবো।

শীতের সকালে খেজুরের রস খাওয়ার উপকারিতা

গরমকালের পর আসে শীতকাল। আসলে বিভিন্ন খাবারের আয়োজন করা হয়। তবে শীতকালের গুড়ের খাবার বেশি বানানো হয়। শীতকালের আরেকটি মজাদার খাবার হচ্ছে খেজুরের রস। যেটা শীতকাল ছাড়া পাওয়া যায় না। তবে গ্রাম বাংলার একটি এটি ঐতিহ্য। গ্রামের সকালে কুয়াশা ঘেরা খেজুরের গাছের মাথায় একটি হাড়ি ঝুলানো থাকে যেখান থেকে রস বের হয়। গ্রামের মানুষ সকালবেলায় গাছে উঠে রস পেড়ে নিয়ে আসে। শীতের সকালে খেজুরের রস শুধু একটি খাবার নয় এটি বাঙালির ঐতিহ্য আবেগে সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি বিশেষ পানি। তবে এটি প্রাকৃতিক ভাবে মিষ্টি। খেজুরের রস খেলে আমাদের স্বাস্থ্যের কি উপকারিতা হয় এখন তা আমরা নিজে জানবো।

  • শরীরের দ্রুত শক্তি যোগায়ঃ খেজুরের রস খেতে পানি মনে হল এর পুষ্টিগুণ রয়েছে অনেক। যা আমাদের শরীরে দ্রুত শক্তি যোগাতে অনেকটাই কার্যকর। অনেকে বলে এটা তো পানি এর কি উপকার হয়েছে কিন্তু আসলে তা না। এটা হচ্ছে একটি প্রাকৃতিক উৎস যা মানুষের কল্যাণের জন্য আল্লাহ তাআলা সৃষ্টি করেছেন। তাই সকালে খেজুরের রসের প্রাকৃতিক গ্লুকোজ ও সুক্রোজ থাকে। যা সকালে খালি পেটে খেলে শরীরের দ্রুত এনার্জিতে এবং দুর্বলতা দূর করে।
  • শরীর গরম রাখেঃ অনেক সময় ঠান্ডার কারণে শরীর তাপমাত্রা কম থাকে। যার কারণে প্রচুর ঠান্ডা লাগে। ঠান্ডার কারণে অনেকের গরম কাপড় বেশি করে। আবার এতটা ঠান্ডা লাগে যে শরীরে ঠান্ডা জনিত সমস্যা গুলো দেখা দেয়। খেজুরে রয়েছে প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণ। যা খেলে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। যাদের ঠান্ডা জনিত সমস্যা আছে তাদের জন্য খেজুরের রস হচ্ছে উপকারী।
  • রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায়ঃ খেজুরে রয়েছে প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণ। যেগুলো আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকার। খেজুরের রসে থাকা ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ইনিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে। হলে ঠান্ডা জনিত সমস্যা এবং জ্বরের ঝুঁকি থেকে স্বাস্থ্য কে ভালো রাখে।
  • হজম সহায়তা করাঃ অনেকে আছে খাবারের পরে সহজে হজম করতে পারে না। যার কারণে অনেক সময় বদহজমের সমস্যায় পড়তে হয়। যেমন অস্বস্তি, বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা এবং পেট ফাঁপা। ঠিকভাবে খাবার হজম না হয় তাহলে শরীরের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে খেজুরের রস হয়েছে প্রাকৃতিক প্রায় হজমে সহায়তা ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। খুব সাধারণ সমস্যা শীতে।
  • রক্ত শূন্যতা কমাতে সাহায্য করেঃ অনেক মানুষ আছে যারা জন্মের পর থেকে রক্তের সমস্যায় ভুগছে। তাদের শরীরের ঠিকমতো রক্ত উৎপাদন হয় না বা রক্তের হিমোগ্লোবিন সঠিকভাবে থাকে না। এতে শরীরের রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। খেজুরের রসে রয়েছে প্রাকৃতিক আয়রন যার রক্তের হিমোগ্লোবিন বাড়াতে সাহায্য করে এবং শরীরের দুর্বলতা কমায়।
  • হার্টের জন্য উপকারীঃ অনেকে আছে যাদের হার্ট দুর্বল। যার কারণে ওরা কোন কাজ সঠিকভাবে করতে পারে না। আশ্চর্য কোন ভয়ানক জিনিস দেখলে তাদের বুকের ব্যথা শুরু হয়ে যায় বা হার্ট অ্যাটাকের সমস্যা থাকে। হার্ট অ্যাটাকে আরেকটি সমস্যা হচ্ছে অতিরিক্ত রক্তচাপ। তাই খেজুরের রসে রয়েছে পটাশিয়াম ও প্রাকৃতিক মিনারেল হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে সাহায্য করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
  • অভাব পূরণ করেঃ বর্তমানে খাবারে এত পরিমাণ ভেজাল থাকে যে আমরা যে প্রাকৃতিক হয়েছে তার শরীরে পাই না। কারণ সবজিগুলোতে বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ও ভেজাল মিশানোর কারণে এ সমস্যা হয়। যার জন্য আমাদের শরীরে ভিটামিন বা পুষ্টির অভাব ঘাটতি থাকে। যার কারনে মানুষ বিভিন্ন রোগের সম্মুখক্ষণ হচ্ছে। তবে খেজুরের রস হচ্ছে একটি প্রাকৃতিক উপাদান। এটা যদি আমরা খাই তাহলে আমাদের শরীরে খেজুরের রসের যে প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণগুলো রয়েছে তা আমরা সহজে পাব এবং আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী।
  • মানসিক প্রশান্তি দেয়ঃ অনেক সময় শরীর দুর্বল থাকার কারণে মানসিক অশান্তিতে ভুগতে হয়। আমার অনেক সময় শরীরের শক্তি না থাকার কারণে কোন কাজ সঠিকভাবে করতে পারি না। যার কারণে অনেক সময় বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখে পড়তে হয়। তবে খেজুরের রস এ রয়েছে প্রাকৃতিক চিনি ও পুষ্টিগুণ যা মস্তিষ্কের শক্তি যোগায়। এর ফলে মন ভালো থাকে ও কাজে মনোযোগ বাড়ে।
  • ত্বক ও চুল ভালো রাখেঃ খেজুরের রসে রয়েছে এক প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণ। যা আমাদের ত্বকের আদ্রতা ধরে রাখতে অনেকটাই কার্যকর। এবং তার সাথে ত্বকের শুষ্কতম কমায়। বর্তমানে মেয়েদের একটি সমস্যা সেটা হচ্ছে চুল পড়া। এ চুল পড়ালে মেয়েরা অনেক সমস্যায় ভুগছে। খেজুরের রসের যে প্রাকৃতিক উপাদান বা পুষ্টি রয়েছে তা ত্বককে রাখে আদ্র এবং চুলের গোড়া মজবুত করতে এটাও উপকারী খাবার।

খেজুরের রসের পুষ্টিগুণ

খেজুরের রস এটি একটি প্রাকৃতিক খাবার। যা গ্রাম বাংলায় এই শীতের সকলে পাওয়া যায়। তবে খেজুরের রস দিয়ে আবার খেজুরের গুড় তৈরি হয়। যা দিয়ে বিভিন্ন খাবার বানানো যায়। তবে খেজুরের রসের যে পুষ্টিগুণগুলো রয়েছে যা আমাদের স্বাস্থ্যের বিভিন্ন অঙ্গ পতঙ্গ এবং রোগ ব্যাধি থেকে স্বাস্থ্যকে রক্ষা করে। শীতকালে এই খেজুরের রস পাওয়া যায় গ্রামে, বাজারে। খেজুরের রসে যে পুষ্টিগুণ রয়েছে যেমন প্রাকৃতিক শর্করা, আয়রন, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রাকৃতিক খনিজ লবণ। খেজুর রসের পুষ্টির উপাদানের তালিকা দেওয়া হল।

  • শক্তি বা ক্যালোরি- ৫০-৬০ ক্যালরি
  • পানি-৮৫-৮৮ গ্রাম
  • কার্বোহাইড্রেট-১২-১৫ গ্রাম
  • প্রাকৃতিক চিনি-১০-১২ গ্রাম
  • প্রোটিন-০.২-০.৪ গ্রাম
  • ফ্যাট- প্রায় নেই
  • আশ-০.৫-১ গ্রাম
  • প্রতি 100 গ্রাম খেজুরের রসে খনিজ ভিটামিন এর উপাদান রয়েছে যেমন
  • পটাশিয়াম-১৪০-১৬০ মিলিগ্রাম
  • ক্যালসিয়াম-১৫-২০ মিলিগ্রাম
  • আয়রন-০.৮-১ মিলিগ্রাম
  • ম্যাগনেসিয়াম- ৮-১০ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন সি- ২-৪ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন বি কমপ্লেক্স-অল্প পরিমাণ

খেজুরের রস কি এবং কিভাবে সংগ্রহ করা হয়

খেজুরের রস হল খেজুর গাছের থেকে স্বাভাবিকভাবে নিঃসৃত এক ধরনের স্বচ্ছ, হালকা সাদা রঙের মিষ্টি তরল। এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এবং কোন প্রকার প্রক্রিয়াজাত ছাড়াই সরাসরি গাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়। সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় এবং তখনই এটা সবচেয়ে সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর খাবার। খেজুরের রস শীতকাল ছাড়া সংগ্রহ করা সম্ভব না। কারণ এটি শীতের মৌসুমে উৎপন্ন হয়। তবে বাংলাদেশে ও পশ্চিমবঙ্গে খেজুরের রস শুধু একটি পানীয় নয় বরং শীতকালীন ঐতিহ্যবাহী খাবারের অংশ।শীতকালে খেজুর গাছের ভেতরে জমে থাকা প্রাকৃতিক শর্করা ও পানির তাপমাত্রা কমে গেলে তরল আকারে নিঃসৃত হয়। খেজুরের রস মূলত গাছ থেকে পাওয়া যায়।

এছাড়া এর অন্য কোন বিকল্প নেই তাই এটি একটি প্রাকৃতিক উপাদান যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেকটাই উপকারী। কারণ এতে কোন ভেজাল উপকরণ থাকে না। গাছের কান্ডের নির্দিষ্ট স্থান ছোট করে কেটে দিলে ভেতরে রস ধীরে ধীরে বের হতে শুরু করে। আর ওই যে পানিটা বের হয় আর সেটাই হচ্ছে খেজুরের রস। খেজুরের রস মূলত হয় শীতের ঠান্ডা আবহাওয়া জন্য। এবং গাছের ভিতরে প্রাকৃতিক চিনি ও রাতের কম তাপমাত্রার কারণে। এই তিনটি কারণে খেজুরের রস তৈরি ও নিঃসরণ হয়। খেজুরের রস সংগ্রহ করার জন্য আপনাকে কিছু নিয়ম ফলো করতে হবে। যেমন

  • গাছ নির্বাচন করতে হবে। যে গাছের বয়স হবে সাধারণত ৮-১০ বছরের বেশি। এতে ভালো রস পাওয়া যায়।
  • তারপরে গাছ পরিষ্কার করতে হবে। যাতে ধুলাবালি বা পোকামাকড় না থাকে।
  • তারপরে গাছের কান্ড কাটতে হবে। গাছের উপরের অংশ ধারালো দাদে ভি আকারে কাটতে হবে এবং সেখান থেকে রস বের হবে।
  • কাটার ঠিক নিচে মাটির হাড়ি, প্লাস্টিক বা অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র বাঁচানো হয় যাতে রস জমা হয়।
  • সারা রাত ধরে ধীরে ধীরে রস হাড়িতে জমা হবে।
  • তারপরে ভোরবেলা সূর্য ওঠার আগে রস সংগ্রহ করা হয়। কারণ সূর্যের আলো রসে পড়লে রস দ্রুত টক বা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

খেজুরের রস সংগ্রহ করার জন্য একজন দক্ষ শ্রমিকের দরকার। কারণ সবাই খেজুরের রস সংগ্রহ করতে পারবেনা। বা গাছে ওঠার দক্ষতা থাকে না। যদি ঠিকভাবে গাছের কান্ড কাটা না হয় তাহলে রস বের হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তাই একজন প্রফেশনাল মানের ও দক্ষ শ্রমিক পারবে খেজুরের গাছ সংগ্রহ করতে। এজন্য এমন একজন গাছের প্রয়োজন যে খেজুরের গাছে উঠতে পারে, সঠিকভাবে কাটতে পারে, হাড়ে বসানো ও রস সংগ্রহ করতে জানে এবং গাছের যত্ন নিতে পারে।

তবে খেজুরের রস বাংলাদেশে এবং পশ্চিমবঙ্গে প্রতি পরিচিতি একটি খাবার। তাই খেজুরের রস বাংলাদেশের যেসব জায়গায় পাওয়া যায় তা হলো ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, নড়াইল, মাগুরা। আর ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পাওয়া যায় যেমন নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম এবং হুগলী। এ অঞ্চলগুলোতে প্রচুর খেজুরগাছ থাকায় শীতকালে খেজুরের রস সহজে পাওয়া যায়। খেজুরের রস দিয়ে তৈরি হয় বিভিন্ন খাবার যেমন খেজুরের গুড়, পাটালি গুড়, খেজুরের চিনি এবং বিভিন্ন পিঠা ও মিষ্টান্ন।

খেজুরের রস খাওয়ার সঠিক নিয়ম

আমরা যে খাবার খাই না কেন আমাদের পরিমাণ থাকে। ফল বা সবজি এবং ভাত যাই খাই পরিমাণ মত খেতে হবে। আবার পানিও খেলে পরিমাণ মত খেতে হবে। বেশি খেলে সমস্যা আবার কম খেলেও সমস্যা। তাই সবকিছু একটু নিয়ম থাকে। তাই খেজুরের রস পরিমাণ মতো না খেলে আবার স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে। তাই সঠিক নিয়ম ও পদ্ধতিতে খেজুরের রস খাওয়া উত্তম। নিচে খেজুরের রস খাওয়ার সঠিক নিয়ম গুলো দেওয়া হল।

খেজুরের রস খাওয়ার জন্য সকালে খালি পেটে সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। কারণ সকালে যখন রস পেড়ে নিয়ে আসে তখন সে রসটি তাজা এবং সতেজ থাকে। তখন যদি খেজুরের রসটা খাওয়া যায় তাহলে খেজুরের রয়েছে যে প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণগুলো রয়েছে তা সরাসরি পাওয়া যাবে। যার ফলে শরীরে সহজে পুষ্টি শোষণ করতে পারবে এবং সারাদিন শক্তি বজায় থাকবে।

  • একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য এক গ্লাস ১৫০-২০০ মিলে খেজুরের রস যথেষ্ট। এর বেশি খেলে অতিরিক্ত চিনি শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
  • খেজুরের রস কাঁচা ও তাজা অবস্থায় খাওয়া সবচেয়ে ভালো। তবে ফ্রিজে রাখা বা অনেকক্ষণ রেখে দেওয়া রস না খাওয়াই ভালো। তবে গরম করে খাওয়ার দরকার নেই।
  • খেজুরের রস খালি পেটে খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়। আবার অনেক সময় দেখা যায় খাবারের পরে খেলে হজমের সমস্যা বা গ্যাস হতে পারে।
  • ১ বছরের বেশি বয়সী শিশুকে ২-৩ চামচ থেকে আধা কাপ খাওয়ানো যেতে পারে। তবে অবশ্যই পরিষ্কার ও তাজা রস হতে হবে।
  • বয়স্কদের জন্য অল্প পরিমাণে খাওয়া ভালো। কারণ তারা সহজে খাবার হজম করতে পারে না। তবে যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা পেতে সমস্যা থাকে তবে আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
  • শীতকাল জুড়ে নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি খাওয়া যেতে পারে। তবে প্রতিদিন নয়, সপ্তাহে ২-৩ দিন খাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ ও উপকার।
  • খেজুরের রস খাওয়া ভালো তবে সব রস না। যেগুলো খেলে আমাদের ক্ষতি হবে। যেমন টক হয়ে যাওয়া রস, খোলা অবস্থায় থাকা রস, ভেজাল বা রাসায়নিক মেশানো রস।
  • রস খাওয়ার পরে সাথে সাথে ঠান্ডা পানি খাবেন না। অন্তত ২০-৩০ মিনিট কিছু না খাওয়াই ভালো।

খেজুরের রস বনাম খেজুরের গুড়

খেজুরের রসে প্রাকৃতিক ও কাঁচা অবস্থায় বেশি পুষ্টিকর। কোন তৈরি করার সময় কিছু পুষ্টিগুণ নষ্ট হতে পারে তবে উভয় পরিমাণ মতো ভাবে খেলে উপকারী। খেজুরের রস যেমন স্বাস্থ্যের জন্য উপকার তেমন খেজুরের গুড় খেলেও স্বাস্থ্যের উপকার। তবে খেজুরের রস খাওয়া যায় মুড়ি, চিতায় দিয়ে খাওয়া যায়। বা কেউ কেউ এমনি মুখেও খাই। তবে গুড় খেজুরের রস থেকেই তৈরি করা যায়। খেজুরের গুড় দিয়ে বিভিন্ন ধরনের খাবার তৈরি করা যায় যেমন পিঠা পুলি।

আরো পড়ুনঃ মাথাব্যথা কমানোর ১০টি উপায়

তবে বাজারে খেজুরের গুড় পাওয়া যায়। খেজুরের গুড়ে রয়েছে বিভিন্ন পুষ্টিগু। তবে খেজুরের রসের যে পুষ্টিগুণগুলো রয়েছে তা অনেকটা খেজুরের গুঁড়েও থাকে। কারণ খেজুরের গুড়টা তৈরি হয় খেজুরের রস দিয়েই। তাই খেজুরের গুঁড়ো প্রাকৃতিক উপাদান গুলো থাকে। তবে মানুষ খেজুরের রসের পাশাপাশি খেজুরের গুড়ের খাবার তৈরি করে। তাই স্বাস্থ্য সচেতন দিক থেকেও খেজুরের রস যেমন খাওয়া ভালো তেমনি খেজুরের গুড় দিয়েও খাবার খেলে সমস্যা হবে না।

FAQ: প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্নঃ কাঁচা খেজুরের রস খেলে কি হয়?

উত্তরঃ কাঁচা খেজুরের রস খেলে শরীরকে দ্রুত শক্তি যোগায় এবং হজম শক্তি বৃদ্ধি করে। এছাড়া এটি রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায় এবং শীতের সকালে সতেজতা এনে শরীর গরম রাখে।

প্রশ্নঃ খেজুরের রস খেলে কি ওজন বাড়ে?

উত্তরঃ খেজুরের রস খেলে  ওজন বাড়ে না। বরং স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ভালো। তবে অতিরক্ত পরিমাণে খেলে চিনি বেশি হওয়ায় ওজন বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।

প্রশ্নঃ শীতের খেজুরের রস স্বাদ কেমন হয়?

উত্তরঃ শীতের খেজুরের রস মিষ্টি, হালকা ও স্বচ্ছ তরল স্বাদের হয়। প্রাকৃতিক এবং ঠান্ডা শীতকালে শরীর গরম রাখতে মন মত উপযুক্ত।

উপসংহার শীতের সকালে খেজুরের রস খাওয়ার উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ

শীতের সকালে খেজুরের রস খাওয়া আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য আসলেই অনেক উপকার। আমরা এটা সঠিকভাবে এবং নিয়মিত খেতে পারি। সবমিলিয়ে বলা যায় শীতের সকালে খেজুর রস খাওয়ার উপকারিতা ও পুষ্টিগুনি সত্যিই অসাধারণ। এতে শরীর উষ্ণ রাখে, শক্তি যোগায় এবং বিভিন্ন রোগ থেকে স্বাস্থ্যকে সুরক্ষা দেয়। তবে সব সময় তাজা ও পরিষ্কার খেজুরের রস খাওয়া এবং পরিমিতি পরিমাণ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। আপনার যদি উপকার হয় তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানান ধন্যবাদ।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪