শীতের সবজির খাওয়ার ৮টি উপকারিতা এবং পুষ্টিগুন
শীতের সবজি খাওয়ার ৮টি উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ ওগুলো সম্পর্কে আলোচনা করব। সবজি পাওয়া যায় বিভিন্ন রকমের। তবে শীতের সবজির একটা আলাদা স্বাদ থাকে খাবারের। শীতে সবজিগুলো দেখতে যেমন ভালো লাগে তেমনি খেতেও সুস্বাদু।
শীতকালে বিভিন্ন সবজি পাওয়া যায়।যেগুলোতে রয়েছে বিভিন্ন পুষ্টিগুণ যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকার।শীতের সবজিতে যে পরিমাণের এন্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায়। আজ আমরা জানবো শীতের সবজি কি, পুষ্টিগুণ, উপকারিতা এবং কিভাবে খাওয়া উচিত।
শীতের সবজি খাওয়ার উ ৮টি উপকারিতা
আমরা সারা বছর বিভিন্ন সবজি খাই। একাদ ঋতুতে একাদরকম সবজি উৎপন্ন হয়। শীতকালও
বিভিন্ন সবজি উৎপাদন হয়। যেগুলোতে রয়েছে বিভিন্ন পুষ্টিগুণ ও ভিটামিন। যা একটি
মানব দেহের জন্য অনেক উপকারী। সবজি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী তা আমরা
অনেকে জানিনা। তবে যে শুধু সবজি খেতে হবে তা না সবজির পাশাপাশি দুধ, মাছ, মাংস ও
ডিম খেতে হবে। কারণ সুস্থ থাকতে হলে আমাদের শরীরের ভিটামিন ও পুষ্টির দরকার।
আসুন শীতের সবজি খাওয়ার উপকারিতা গুলো সম্পর্কে নিজে জেনে নিন।
- রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি করেঃ আমাদের স্বাস্থ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা। একজন সুস্থ মানুষের সবচেয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে স্বাস্থ্য ভালো থাকা। আর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হলে অবশ্যই পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। যেমন শীতের সবজিতে প্রচুর ভিটামিন সি, ভিটামিন এ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। যা শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে। হলে শ সর্দি কাশি জ্বরসহ বিভিন্ন ঝুঁকি থেকে স্বাস্থ্য কে রক্ষা করে।
- ঠান্ডা জনিত রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়ঃ শীতকালে আবহাওয়া উষ্ণ ও ঠান্ডা থাকায় মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। যার মধ্যে সবচেয়ে সর্দি কাশি ও গলা ব্যথা বেশি। যার কারণে মানুষ শীতকালে বেশি ঠান্ডায় সমস্যায় ভুগে। এইসব সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য শীতের সবজি খাওয়া অনেক উপকার। যেমন গাজর,পালং শাক, বাঁধাকপির মত শীতের সবজি শরীর গরম রাখতে সাহায্য করে এবং ঠান্ডা জনিত সমস্যা থেকে রক্ষা করে।
- হজম শক্তি বৃদ্ধি করেঃ শীতের সবজিতে ফাইবারে পরিমাণ বেশি থাকে। যা হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে। অনেক সময় দেখা যায় খাবার খেলে সহজে হজম হতে চাই না। যার কারনে অনেক সময় গ্যাস বৃদ্ধি পায়। তাই নিয়মিত শীতের সবজি খেলে গ্যাস, বদহজম ও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমে যায়।
- পায়খানা পরিষ্কার করাঃ যাদের পায়খানায় সমস্যা হয় বা মলত্যাগ করার সময় কষ্ট হয়। তাদের জন্য শীতের সবজি অনেক উপকারে আসে। যাদের ২-৩ দিন পর পর তারা যদি নিয়মিত সবজি খায় তাহলে এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। যেমন লাল শাক, মূলা, সিম ও পালং শাকের মতো শীতের সবজি অন্ত্র পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। ফলে পেট পরিষ্কার থাকে এবং মলত্যাগে স্বাভাবিক হয়।
- ওজন কমাতে বা নিয়ন্ত্রণ সাহায্য করেঃ যারা ওজন কমাতে বা নিয়ন্ত্রণ করতে চান তাদের জন্য সবজি হবে বেস্ট অপশন। আপনি যদি ভাতের চেয়ে সবজি বেশি খান তাহলে স্বাভাবিকভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। কারণ সবজির যে পুষ্টিগুণগুলো রয়েছে তা আপনার ওজন কমাতে বা নিয়ন্ত্রণ রাখতে অনেকটাই সহায়ক হবে।
আরো পড়ুনঃ
নিম পাতা ও কাঁচা হলুদের উপকারিতা
- রক্তস্বল্পতা কমাতে সাহায্য করেঃ যাদের শরীরের রক্তের সমস্যা আছে বা শরীরে রক্ত কম তাদের জন্য সবজি খাওয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ। যেসব সবজিতে আয়রন থাকে তা রক্তের হিমোগ্লোবিন বাড়াতে সাহায্য করে। এজন্য শীতের সবজি মধ্যে পালং শাক, লাল শাক ও বিটে প্রচুর আয়রন থাকে। ফলে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা ও ক্লান্তি কমায়।
- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়কঃ বর্তমানে মানুষের একটি কমন রোগ হচ্ছে ডায়াবেটিস। প্রায় মানুষ এই ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগী। যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদেরকে অনেক খাবার বেছে খেতে হয়। কারণ চাইলে তারা সব খাবার খেতে পারে না। তবে শীতের সবজির মধ্যে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম হওয়ায় এগুলো রক্ত শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়ায় না। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য শীতের সবজি খুবই উপকারী।
- মানসিক স্বাস্থ্য উন্নতি করেঃ আমাদের স্বাস্থ্য যদি ভালো না থাকে তাহলে কোন কাজে মন বসে না। শরীর কেমন একটি অসুস্থ বোধ করে এবং খিটখিটের মেজাজ হয়ে যায়। কারো সাথে কথা বলতে ভালো লাগে এমনকি কাজ করতেও ভালো লাগেনা। তাই এ স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য অবশ্যই আমাদের স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ শীতের সবজি শরীরের শক্তি যোগায় এবং মানসিক চাপ ও ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে, ফলে মন ভালো থাকে।
শীতের সবজি কি কি
সারা বছর বিভিন্ন সবজি পাওয়া যায়। তবে শীতকালে সবজিগুলো সতেজ এবং স্বাস্থ্যসম্মত। শীতের সবজিগুলো বাজারে দেখতে অনেক ভালো লাগে। বাজারে বিভিন্ন রকমের সবজি পাওয়া যায় শীতকালে। শীতকালে বিভিন্ন ধরনের সবজি পাওয়া যায় যা গরমে সময় পাওয়া সবজির চেয়ে স্বাস্থ্যসম্মত এবং পুষ্টিকর। যে সবজিগুলো বাজারে গেলে চোখের সামনে প্রথমে আসে। বাংলাদেশের শীতকালীন জনপ্রিয় কিছু সবজি হল। যেমন
- বাঁধাকপি ভিটামিন সি ও ফাইবার সমৃদ্ধ
- ফুলকপি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন কে সমৃদ্ধ
- গাজর ভিটামিন এ এবং এবং চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়ক
- পালং শাক আয়রন ও ক্যালসিয়ামের উৎস
- লাল শাক রক্তের গুণগত মান বাড়ায়
- মূলা হজম শক্তি বৃদ্ধি করে
- সিম প্রোটিন সমৃদ্ধ
- মটরশুটি শরীরে শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক
- বিট রক্ত বৃদ্ধিতে সাহায্য করে
- টমেটো ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ
শীতের সবজির পুষ্টিগুণ
আমাদের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে হল অবশ্যই আমাদের পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাবারগুলো খাওয়া উচিত। কারণ স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে কোন কিছু না। স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হলে অবশ্যই আমাদের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা থাকতে হবে। আর এ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য অবশ্যই পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাবারের প্রয়োজন। যে ভিটামিন গুলো খেলে আমাদের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে সেগুলো আমরা সবজি থেকে পেয়ে থাকি। তবে গরম কালের সবজির চেয়ে শীতকালের সবজির পুষ্টিগুণ বেশি।
শীতকালের সবজিগুলো যেমন সতেজ তেমন সুস্বাদু খেতে। আর এর পুষ্টিগুণে রয়েছে প্রচুর। শীতকালের সবজি তে রয়েছে বিভিন্ন ভিটামিন এ, সি, বি কমপ্লেক্স এবং কে প্রচুর পরিমাণে থাকে। যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। এছাড়াও রয়েছে আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ফসফরাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ মিনারেল। যেগুলো খেলে আমাদের শরীরের রক্তস্বল্পতা দূর হবে, হারে ক্যালসিয়াম বাড়বে এবং দাঁত মজবুত করবে।
এছাড়াও শীতের সবজিতে রয়েছে প্রচুর আশ বা ফাইবার থাকে। এই পুষ্টিগুণ গুলোর সাহায্যে হজমে শক্তি বাড়ে এবং বদহজম, গ্যাস থেকে অনেকটা নিরাপদে থাকা যায়। শীতের সবজিতে আরো রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা শরীরের ভেতরের ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিক্যাল ধ্বংস করে। শীতের সবজির একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো এগুলোতে ক্যালরি কম কিন্তু পুষ্টিগুণ বেশি। তাই ওজন বাড়ার ভয় ছাড়াই শীতের সবজি নিয়মিত খাওয়া যায়। যারা ওজন কমাতে চান বা স্বাস্থ্য সচেতন তাদের জন্য শীতের সবজি একটা আদর্শ খাদ্য।
শীতের সবজি খাওয়ার সঠিক নিয়ম
তবে আমাদের খাবার খেতে হবে পরিমাণমতো। সবজি বা ভাত যাই খায় না কেন পরিমাণ মত
খেতে হবে। অতিরিক্ত খাওয়া যাবেনা। কারণ অতিরিক্ত খেলে স্বাস্থ্য খারাপ হতে
পারে। তাই পরিমাণ মত এবং সঠিক নিয়মে খেতে হবে। তাই শীতের সবজি যতই পুষ্টি সমৃদ্ধ
খাবার হোক না কেন এর একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ রয়েছে সেই অনুযায়ী মানুষকে খেতে
হবে। কারণ অতিরিক্ত খেলে শরীরে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই সবজি খাওয়ার
সঠিক নিয়ম হচ্ছে।
- শীতের সবজি যতই উপকারী হোক অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন কমপক্ষে ২-৩ কাপ শীতের সবজি খাওয়া ভালো। এতে শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেল পাই আবার হজমের ওপর চাপও পড়ে না।
- সব সময় তাজা ও মৌসুমী শীতের সবজি খাওয়া উচিত। বেশি দিন রাখা বা কেমিক্যাল যুক্ত সবজির পুষ্টিগুণ কমে যায় এবং স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারড়। তাই বাজার থেকে সবজি কেনার সময় অবশ্যই রং ও গন্ধ দেখে নেয়া জরুরি।
- সবজি কাঁচা অবস্থায় ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে। কারণ শীতের সবজিতে মাটি, কীটনাশক ও জীবাণু থাকতে পারে। তাই বাজার থেকে নেয়া আসার পরে ভালো সবজিটা বেছে রাখতে হবে রান্না করার জন্য। তাই রান্নার আগে পরিষ্কার পানিতে ২-৩ বার ধুয়ে নেয়া জরুরি। প্রয়োজনে লবণ পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রেখে ধুলে আরো ভালো পরিষ্কার হয়।
- শীতের সবজি বেশি সময় ধরে রান্না করলে ভিটামিন ও পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়। তাই হালকা সেদ্ধ, স্টিম বা অল্প তেলে ভাজা পদ্ধতিতে রান্না করলে পুষ্টিগুণ বেশি বজায় থাকে।
- তেল ও মসলা ব্যবহার সীমিত রাখা ভালো। অতিরিক্ত তেল বা মসলা খেলে স্বাস্থ্যের জন্য ভালো না। আর এর পাশাপাশি রান্না করলে খাবারের পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়। তাই কম তেল ও কম মসলায় রান্না করায় হলো বুদ্ধিমানের কাজ।
- শীতের সবজি ফ্রিজে বা ঠান্ডা ও শুকানো স্থানে সংরক্ষণ করলে দীর্ঘদিন ভালো থাকে। তবে বেশিদিন রেখে খেলে পুষ্টিগুণ কমে যায় তাই সম্ভব হলে ৩-৫ দিনের মধ্যে ব্যবহার করা ভালো।
- শীতের সবজি খাওয়ার সময় খেয়াল রাখা বিষয়
- সবজি খাওয়া যেমন আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকার। তেমনি শীতের সবজি রান্না বা কাঁচা খাবারের আগে অবশ্যই বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। কারণ অতিরিক্ত বা পচা সবজি খেলে শরীরে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই সবজি খাবার আগে বা রান্না করার আগে বিশেষ খেয়াল রাখা প্রয়োজন। শীতের সবজি খাওয়ার সময় যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন তা হলো।
আরো পড়ুনঃ
তেলাকুচা পাতার ওষুধি গুণ
- অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বিরত থাকাঃ শীতের সবজি খুব উপকারী হল অতিরিক্ত খাওয়া যাবেনা। অতিরিক্ত খেলে পেটের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন পেট ব্যথা, পেট ফাঁপা, গ্যাস বা বদহজম। তাই প্রতিদিন পরিমাণ মত সবজি খাওয়া সবচেয়ে ভালো।
- বাসি বা পচা সবজি না খাওয়াঃ বেশি দিন রাখা বা পচা শীতের সবজিতে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে। যা পেটের সমস্যা ও ফুড পয়জনিংয়ের কারণ হতে পারে। বর্তমানে মানুষ ফ্রিজে রেখে খাবার খেতে বেশি পছন্দ করে। কিন্তু এটাই একবারে ঠিক না। দীর্ঘদিন ফ্রিজে রাখার কারণে খাবার নষ্ট হয়ে যায়। সে খাবার খেলে শরীরে বিভিন্ন রোগের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তাই স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হলে অবশ্যই আমাদের সাথে সবজি খাওয়া উচিত।
- কাঁচা সবজি খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতাঃ সব সবজির কাঁচা খাওয়া নিরাপদ নয়। কিছু শীতের সবজি কাঁচা খেলে পেটের সমস্যা হতে পারে। তাই কোন সবজি কাঁচা খাওয়া যাবে আর কোনটা রান্না করা উচিত এ বিষয়ে সচেতন থাকা দরকার।
- রাতে ভারী সবজি না খাওয়াঃ রাতে বেশি তেল মশলা দেওয়া ভারী শীতের সবজি খেলে হজমে সমস্যা হয়। রাতে হালকা সেদ্ধ বা রুটির সাথে ঝোল করা সবজি খাওয়া শরীরের জন্য ভালো।
- রোগভেদে সবজি বেছে নেওয়াঃ যাদের গ্যাস্ট্রিক, ডায়াবেটিস, এলার্জি, চুলকানি, ঠান্ডা, কিডনি বা থাইরয়েডের সমস্যা আছে তাদের জন্য শীতের সবজি খাওয়ার আগে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সবজি খাওয়া ভালো।
- শিশু ও বয়স্কদের জন্য আলাদা যত্নঃ শিশুরা সব সবজি খেতে চাই না বা তাদের সব সবজি হজম হয় না। তাই তাদের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে তাদেরকে সেসব সবজি খেতে দিতে হবে যেগুলো তাদের হজম করতে পারে। বয়স্কদেরও হজম ক্ষমতা কম থাকে। তাই তাদের জন্য সবজি ভালোভাবে সেদ্ধ করে নরম করে খাওয়ানো উচিত যাতে হজমে কোন সমস্যা না হয়।
- সংরক্ষণের নিয়ম মেনে চলাঃ শীতের সবজি বেশিদিন সংরক্ষণ করলে পুষ্টিগুণ কমে যায়। ফ্রিজে রাখলে দীর্ঘদিন রেখে না খেয়ে ৩-৫ দিনের মধ্যে ব্যবহার করা ভালো। তবে প্রতিদিনের টাটকা সবজি খাওয়া ভালো।
FAQ: প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্নঃ শীতকালে কোন সবজি খাওয়া ভালো?
উত্তরঃ শীতকালে বাঁধাকপি, ফুলকপি, গাজর, পালং শাক, লাল শাক, মুলা, সীম, বিট,
মটরশুঁটি, ব্রকলি, টমেটো, ওলকপি এবং শালগম খাওয়া সবচেয়ে ভালো। এই সবজিগুলো
ভিটামিন ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ যা শীতের শরীর সুস্থ রাখে।
প্রশ্নঃ শীতকাল কি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো?
উত্তরঃ হ্যাঁ, শীতকাল স্বাস্থ্যের জন্য ভালো কারণ এ সময় তাজা সবজি পাওয়া যায়
এবং ব্যায়াম ও হজম তুলনামূলক ভালো হয়। তবে ঠান্ডা জনিত সমস্যা এড়াতে
সঠিক খাদ্যভ্যাস ও যত্ন নেওয়া জরুরী।
প্রশ্নঃ শীতকালে রাজা ফল কোনটি?
উত্তরঃ শীতকালে রাজা ফল হিসাবে কমলা কে ধরা হয়। এটি ভিটামিন সি এর সমৃদ্ধ যা
শীতের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়াতে খুবই কার্যকর।
প্রশ্নঃ শীতকালে কি কি খাওয়া উচিত?
উত্তরঃ শীতকালে শাকসবজি, মৌসুমী ফল, ডাল, ডিম, মাছ ও গরম খাবার খাওয়া উচিত।
এগুলো শরীর গরম রাখে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায় এবং শক্তি যোগায়।
প্রশ্নঃ শীতে ক্যালরি কমানোর উপায় কি?
উত্তরঃ শীতে ক্যালরি কমানোর জন্য নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করা এবং পরিমিত কম তেল
মসলাযুক্ত খাবার খাওয়া উচিত। শীতকালে বেশি মিষ্টি বা চর্বিযুক্ত খাবার না খেলে
ওজন নিয়ন্ত্রণের সাহায্য করে।
উপসংহার শীতের সবজি খাওয়ার ৮টি উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ
শীতকালে সবজি খাওয়া শুধু স্বাদের জন্য নয়। বরং স্বাস্থ্য ও পুষ্টির
জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত শীতের সবজি খেলে আমাদের শরীরে বিভিন্ন
রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়বে। শীতের যে পুষ্টিগুণগুলো রয়েছে তা আমরা সহজে পাব।
তাই স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে হলে অবশ্যই শীতকালে সতেজ ও তাজা সবজিটা খাওয়ার
চেষ্টা করব। তাজা সবজিতে যে পুষ্টিগুণগুলো রয়েছে তা সহজে আমরা আমাদের শরীরে ধারণ
করতে পারবো। তাই আসুন সুস্থ জীবন গড়ার জন্য সুস্থ দেহ গঠন করি। এবং আমাদের
খাদ্যের তালিকায় প্রতিদিন একটা করে সবজি রাখি। এতক্ষণ মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য
ধন্যবাদ।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url