কিসমিস খাওয়ার ১০টি উপকারিতা এবং সঠিক নিয়ম
কিসমিস খাওয়ার ১০টি উপকারিতা এবং সঠিক নিয়ম সম্পর্কে জানব। কিসমিস আমাদের পরিচিতি ও জনপ্রিয় একটি শুকনো ফল। ছোট আকারে হলো কিসমিসের পুষ্টিগুণ অনেক বেশি। গ্রাম বাংলা থেকে শুরু করে শহরের খাদ্য তালিকায় কিসমিসের ব্যবহার চোখে পড়ার মত।
অনেকের সকালে খালি পেটে ভিজানো কিসমিস খায়, আবার কেউ মিষ্টি, পোলাও, সেমাই কিংবা ডেজার্টে কিসমিস ব্যবহার করে। তবে কিসমিস খাওয়ার যেমন উপকারিতা আছে তেমনি অতিরক্ত বা ভুল নিয়মে খেলে কিছু অপকারিতা হতে পারে। এই লেখায় আমরা বিস্তারিত ভাবে জানবো কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা, অপকারিতা, সঠিক নিয়ম এবং কারা এই কিসমিস খাওয়া থেকে সতর্ক থাকবেন।
পেজ সূচিপত্রঃ কিসমিস খাওয়ার ১০টি উপকারিতা এবং সঠিক নিয়ম
- কিসমিস খাওয়ার ১০টি উপকারিতা
- কিসমিস খাওয়ার সঠিক নিয়ম
- কিসমিস কি এবং কিভাবে তৈরি হয়
- কিসমিসের পুষ্টিগুণ
- অতিরিক্ত কিসমিস খাওয়ার অপকারিতা
- কারা কিসমিস খাওয়া থেকে বিরত থাকবে
- FAQ: প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর
- উপসংহার কিসমিস খাওয়ার ১০টি উপকারিতা এবং সঠিক নিয়ম
কিসমিস খাওয়ার ১০টি উপকারিতা
কিসমিস একটি অতি পরিচিত ফল। বাজারে গেলে ফল দেখতে পাওয়া যায়। এর ফল আকারে ছোট
কিন্তু খেতে মিষ্টি। ফলতো আমরা কম বেশি সকলে খায়। ফল খেলে
আমাদের স্বাস্থ্যের যে উপকারিতা গুলো হয় সে সম্পর্কে আমরা কতজনই বা জানি।
তবে বর্তমানে মানুষ স্বাস্থ্য নিয়ে অনেক সচেতন। তাই খাদ্যের তালিকায় পুষ্টিকর
খাবার রাখা চেষ্টা করে। সেরকম একটু পুষ্টিকর খাবার হচ্ছে কিসমিস। সঠিক নিয়মে বা
নিয়মিত কিসমিস খাওয়ার ফলে আমাদের যে স্বাস্থ্যের উপকার হয়। আসুন নিচে জেনে নিন
কিসমিস খাওয়ার ১০টি উপকারিতা সম্পর্কে।
- হজমে ভালো হয়ঃ কিসমিসে প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার থাকে। যা খাবারে সহজে হজম করতে সাহায্য করে। নিয়মিত কিসমিস খেলে কার্যকারিতা ভালো থাকে এবং বদহজম সমস্যা অনেকটা কমে যায়।
- কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করেঃ ভেজানোর কিসমিস ভাবে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে কার্যকরী। কিসমিস পানিতে ভিজলে এর ফাইবার আরো সক্রিয় হয় যা পায়খানা বা মল নরম করে এবং নিয়মিত পেট পরিষ্কার হতে সাহায্য করে।
- রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সাহায্য করেঃ কিসমিসে আয়রন সমৃদ্ধ। যার শরীরে হিমোগ্লোবিন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যারা রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন তাদের জন্য কিসমিস একটি প্রাকৃতিক সমাধান হতে পারে।
- শরীরের শক্তি ও এনার্জি বাড়ায়ঃ কিসমিসে থাকা প্রাকৃতিক চিনি দ্রুত শক্তি যোগায়। দুর্বলতা, ক্লান্তি বা কাজের চাপের সময় কিসমিস খেলে শরীর চাঙ্গা থাকে।
- হৃদযন্ত্র ভালো থাকেঃ কিসমিসে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের সাহায্য করে এবং খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হৃদযন্ত্রকে বিভিন্ন রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়।
- রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায়ঃ কিসমিসের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন থাকার কারণে শরীরের ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী হয়। ফলের সর্দি কাশি ও সাধারণ সংক্রমনে ঝুঁকি কমে।
- হাড় ও দাঁত মজবুত করেঃ কিসমিসে ক্যালসিয়াম ও বোরন রয়েছে। যা হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে সাহায্য করে। নিয়মিত কিসমিস খেলে হাড় ক্ষয় ও দাঁতের দুর্বলতা কমে।
- ত্বক উজ্জ্বল ও সুন্দর করেঃ কিসমিস শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের করে দেয়। ফলে ত্বক পরিষ্কার ও উজ্জ্বল থাকে। এটি বলিরেখা কমাতে এবং বয়সের ছাপ কমিয়ে আনতে সহায়তা করে।
- চুল পড়া কমাতে সাহায্য করেঃ কিসমিসে থাকা আয়রন রক্ত সঞ্চালনে উন্নতি করে। যা চুলের গোড়ায় পুষ্টি পৌঁছাতে সাহায্য করে। ফলে চুল মজবুত হয় এবং চুল পড়া ধীরে ধীরে কমে।
- শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য উপকারীঃ শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি এবং বৃদ্ধদের দুর্বলতা দূর করতে কিসমিস খুবই উপকারী ফল। এটি সহজে হজম হয় এবং শরীরের প্রয়োজনে শক্তি যোগায়।
কিসমিস খাওয়ার সঠিক নিয়ম
উপরে কিসমিস খাওয়ার ১০টি উপকারিতা সম্পর্কে জানলাম। এখন আমরা জানবো কিসমিস
খাওয়ার সঠিক নিয়ম। কারণ সঠিক পদ্ধতিতে না খেলে শরীরের নানা সমস্যা দেখা দিতে
পারে। তবে খাবার খেতে হলে অবশ্যই তার সঠিক নিয়ম এবং পরিমাণ মত খাওয়া
উচিত। সঠিক নিয়মে কিসমিস খেলে তার পুষ্টিগুণগুলো আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকার
হবে। আসুন তাহলে নিচে জেনে নেই কিসমিস খাওয়ার সঠিক নিয়ম।
- ভেজানো কিসমিস খাওয়াঃ কিসমিস সরাসরি খাওয়াচ্ছে পানিতে ভিজিয়ে খাওয়া বেশি উপকারী। ভেজানোর ফলে কিসমিস নরম হয়, সহজে হজম হয় এবং এর পুষ্টিগুণ শরীরের দ্রুত শোষণ করে। তাই শুকনো কিসমিসের চেয়ে ভেজানো কিসমিস খাওয়া সবচেয়ে ভালো।
- সকালে খালি পেটে খাওয়া উত্তমঃ সকালে খালি পেটে কিসমিস খেলে শরীর ভালোভাবে এর পুষ্টি গ্রহণ করতে পারে। এতে করে হজমশক্তি বাড়বে এবং সারাদিন শরীর চাঙ্গা থাকবে।
- প্রতিদিন কয়টি কিসমিস খাওয়া উচিতঃ পরিমাণ ঠিক না থাকলে উপকারের বদলে ক্ষতি হতে পারে। তাই প্রতিদিন এ নিয়মে কিসমিস খাওয়া ভালো। যেমন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক দের জন্য ৮-১৫টি। শিশুদের জন্য ৫-৭টি এবং বৃদ্ধদের জন্য ৬-১০টি। এর বেশি খাওয়া ঠিক নয়। কারণ কিসমিস প্রাকৃতিক চিনি ও ক্যালরি বেশি। তাই পরিমাণ মত খাওয়ায় বুদ্ধি মানের কাজ।
- কিসমিস ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবেঃ বাজারের কিসমিসে ধুলাবালি, কেমিকাল বা সংরক্ষণকারী পদার্থ থাকতে পারে। তাই খাওয়ার আগে অবশ্যই কিসমিস ভালোভাবে ধুয়ে তারপর ভিজাতে হবে বা খেতে হবে।
আরো পড়ুনঃ
কাঠবাদাম ভিজিয়ে খাওয়ার উপকারিতা
- নিয়মিত কিন্তু পরিমিত খাওয়া জরুরীঃ প্রতিদিন অল্প পরিমাণে কিসমিস খাওয়া ভালো। একদিন বেশি, কয়েক দিন বন্ধ এভাবে খেলে কাঙ্খিত উপকার পাওয়া যায় না।
- ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিশেষ সতর্কতাঃ কিসমিসের প্রাকৃতিক চিনি বেশি থাকায় ডায়াবেটিস রোগীরা নিজে নিজে নিয়মিত কিসমিস খাবেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে অল্প পরিমাণ খাওয়া উচিত।
- ওজন কমানোর সময় কিভাবে খাবেনঃ যারা ওজন কমাতে চান তারা দিনে ৫-৬টির বেশি কিসমিস খাবেন না। এবং সকালে খালি পেটে না খেয়ে নাস্তা সাথে বা ব্যায়ামের পর খাওয়া ভালো।
- রাতে কিসমিস খাওয়ার নিয়মঃ রাতে কিসমিস খাওয়া ক্ষতিকর নয়। তবে বেশি খেলে গ্যাস বা পেট ফাঁপা সমস্যা হতে পারে। রাতে খেলে ৩-৫টির বেশি না খাওয়াই ভালো।
- শিশুদের কিসমিস খাওয়ানোর সঠিক নিয়মঃ ছোট শিশুদের পুরো কিসমিস না দিয়ে কেটে বা পেস্ট করে দেওয়া ভালো। যাতে করে গলায় আটকে যাওয়ার ঝুঁকি না থাকে। প্রথমে অল্প দিয়ে শুরু করা উচিত।
কিসমিস কি এবং কিভাবে তৈরি হয়
কিসমিস হল শুকানো আঙ্গুর। তাজা আঙ্গুরকে শুকিয়ে যখন এর ভিতরে পানি কমিয়ে ফেলা হয় তখন সেটিই কিসমিসের রূপ নেই। আঙ্গুর শুকানোর ফলে এর স্বাদ মিষ্টি হয় এবং পুষ্টিগুণ অনেক বেশি ঘন হয়ে যায়। ছোট আকার হলো কিসমিসে প্রচুর শক্তি, আয়রন, ফাইবার ও প্রাকৃতিক চিনি থাকে। কিসমিস সাধারণত হালকা বাদামি কালচে বা সোনালী রঙের হয়ে থাকে। এটি সরাসরি খাওয়া যায় আবার বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যায়।কিসমিস তৈরি করার মূল উপাদান হল পাকা ও মিষ্টি আঙ্গুর। সাধারণত নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে কিসমিস তৈরি করা হয়।। আসুন ধাপ গুলো জেনে নিন।
- প্রথমে ভালো মানের আঙ্গুর নির্বাচন করতে হবে। সম্পূর্ণ পাকা, মিষ্টি ও স্বাস্থ্যকর আঙ্গুর বেছে নেওয়া হয়। পচা বা কাঁচা আঙ্গুর ব্যবহার করা হয় না। কারণ এতে কিসমিসের মান খারাপ হয়।
- নির্বাচিত আঙ্গুর ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া হয়। যাতে কিসমিসে থাকা ময়লা, ধুলাবালি বা কীটনাশক এর অংশদূর হয়।
- সাধারণত তিনটি ধাপ ব্যবহার করা হয়। যেমন রোদে শুকানো। এটি সবচেয়ে পুরনো ও প্রাকৃতিক পদ্ধতি। পরিষ্কার জায়গা আঙ্গুর ছড়িয়ে কয়েক দিন রোধে রাখা হয়। ধীরে ধীরে আঙ্গুর পানি বের হয়ে যায় এবং কিসমিস তৈরি হয়।
- দ্বিতীয়টি হচ্ছে ছায়ায় শুকানো। এ পদ্ধতিতে আঙ্গুর সরাসরি রোদে না রেখে বাতাসে চলাচল করে এমন ছায়াযুক্ত জায়গায় শুকানো হয়। এ পদ্ধতিতে কিসমিস তৈরি করলে কিসমিসের রং তুলনামূলক ভালো থাকে।
- তৃতীয়ত হল মেশিন বা ড্রায়ার ব্যবহার করে। আধুনিক পদ্ধতিতে বিশেষ ড্রায়ার বা হেটিং মেশিন ব্যবহার করে আঙ্গুল দ্রুত শুকানো যায়। এতে সময় কম লাগে এবং বড় আকারে কিসমিস উৎপাদন করা যায়।
- কিছু ক্ষেত্রে কিসমিসের রং উজ্জ্বল রাখতে হালকা প্রক্রিয়াজাতকরণ করা যায়। তবে প্রাকৃতিকভাবে শুকানো কিসমিস বেশি স্বাস্থ্যকর।
- পর ভালো ও খারাপ কিসমিস আলাদা করা হয়। তারপর পরিষ্কার ও শুকানো প্যাকেট ভরে বাজারজাত করা হয়।
- এখন ভাবছেন তাহলে কোন আঙ্গুর শুকিয়ে কিসমিস তৈরি করা যায়। এর জন্য আপনাকে কিসমিস বাছাই করার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যাতে আঙ্গুর দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়। পুষ্টিগুণ বেশি ঘনীভূত হয়। সহজে বহন ও ব্যবহার করা যায় এবং অল্প পরিমাণে বেশি শক্তি পাওয়া যায়।
কিসমিসের পুষ্টিগুণ
কিসমিস একটি প্রাকৃতিক শক্তির উৎস। কিসমিস স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকার ওপরের তা
আলোচনা করেছি। আশা করি উপরের আলোচনা করলে বুঝতে পারবেন কিসমিস আমাদের স্বাস্থ্যের
জন্য কতটা উপকার। জানালেন কিন্তু কিসমিসের যে পুষ্টিগুণগুলো রয়েছে সে সম্পর্কে
আমরা কতজনই বা জানি। আসুন কিসমিসের পুষ্টিগুণ গুলো সম্পর্কে নিজে জেনে নিন বা
কিসমিসে কি কি পুষ্টিগুণ রয়েছে।
- আয়রন
- পটাশিয়াম
- ক্যালসিয়াম
- ম্যাগনেসিয়াম
- ফসফরাস
- ডাইটারি ফাইবার
- প্রাকৃতিক শর্করা
- অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
- ভিটামিন বি কমপ্লেক্স
- এসব উপাদান শরীরে বিভিন্ন কার্যক্রম ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অতিরিক্ত কিসমিস খাওয়ার অপকারিতা
কিসমিস ছোট ও পুষ্টিকর একটি শুকানো ফল। এটি পরিমিতি পরিমাণ ছিল অনেক উপকার দেই।
কিন্তু অতিরিক্ত কিসমিস খাওয়া বিপরীত প্রভাব ফেলতেও পারে। তাই অবশ্যই কিসমিস
খাওয়ার সময় পরিমাণ মত এবং সঠিক নিয়মে খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
অতিরিক্ত কিসমিস খাওয়া হলে আমাদের স্বাস্থ্যের কি কি ক্ষতি হয় চলুন তা
জেনে নিন।
- ওজন বৃদ্ধিঃ কিসমিসে প্রাকৃতিক চিনি ও ক্যালরি বেশি থাকে। অতিরিক্ত খেলে শরীরে চর্বি জমতে শুরু করে এবং ওজন বৃদ্ধি পায়। যারা ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখতে চান বা ওভার ওয়েট তাদের জন্য এটি ক্ষতিকর। যেমন ১০-১৫টি কিসমিসের প্রায় ২০-৩০ ক্যালোরি থাকে। ৫০-৬০টি কিসমিস খেলে প্রায় ১০০-১৫০ ক্যালোরি অতিরিক্ত যোগ হয়। যা দৈনন্দিন ব্যায়ামের মাধ্যমে সহজে ক্ষয় হয় না।
- রক্তে শর্করার মাত্রাবৃদ্ধিঃ কিসমিসে প্রাকৃতিক শর্করা থাকে। অতিরিক্ত খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যায়। যা ডায়বেটিস রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
- দাঁতের ক্ষয়ঃ কিসমিস মিষ্টি এবং আঠালো হয় তাই দাঁতে লেগে থাকে। অতিরিক্ত খেলে ক্যাভিটি, দাঁতের ক্ষয় ও দাঁতের ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। কিসমিসের চিনি যদি দাঁতে লেগে থাকে এবং পরে ব্রাশ করা না হয় তবে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং দাঁত ক্ষয় করে।
- গ্যাস ও পেট ফাঁপাঃ কিসমিসে প্রচুর ফাইবার থাকে। বেশি খেলে পেটের গ্যাস, ফাঁপা বা হজমজনিত অসুবিধা হতে পারে।
- এলার্জি সমস্যাঃ কিছু মানুষের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত কিসমিস খেলে অ্যালার্জি যেমন চুলকানি, ত্বকে র্যাশ বা শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। কারণ কিসমিসের সালফার ডাই অক্সাইড বা সংরক্ষণকারী রাসায়নিক থাকলে সংবেদনশীল মানুষের জন্য এলার্জি সৃষ্টি হতে পারে।
কারা কিসমিস খাওয়া থেকে বিরত থাকবে
কিসমিস সাধারণভাবে পুষ্টিকর হলো কিছু মানুষের শরীরের জন্য এটি উপযুক্ত নাও হতে
পারে। যাদের শরীরের রক্তের শর্করা উঠানামা দ্রুত হয়, তাদের ক্ষেত্রে কিসমিস
খেলে সুগারের মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। কারণ কিসমিসে প্রাকৃতিক
চিনি ঘন ভূত অবস্থায় থাকে। যা অল্প পরিমাণে শরীরের দ্রুত প্রভাব ফেলে। একইভাবে
যারা নিয়মিত ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণ রাখেন বা শরীরের ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন তাদের
জন্য কিসমিস বাধা সৃষ্টি করতে পারে। কারণ অল্প কয়েকটি কিসমিসে তুলনামূলক বেশি
ক্যালরি শরীরে প্রবেশ করে যা দীর্ঘমেয়াদী ওজন বাড়ানোর কারণ হতে পারে।
আরো পড়ুনঃ লেবু খাওয়ার উপকারিতা
কিসমিসে থাকা ফাইবার ও চিনি একসঙ্গে পাকস্থলীতে অতিরক্ত চাপ সৃষ্টি করে। ফলে হজমে
অস্বস্তি দেখা দেয়। বিশেষ করে খালি পেটে বেশি কিসমিস খেলে অনেকের ক্ষেত্রে বুক
জ্বালা বা পেটের ব্যাথা শুরু হয়। তাছাড়া বাজারে পাওয়া কিছু কিসমিস সংরক্ষণের
জন্য রাজধানীর ব্যবহার করা হয় যা সংবেদনশীল ত্বক ও শ্বাস প্রশ্বাস জনিত সমস্যা
ভোগার মানুষের জন্য এলার্জির কারণ হতে পারে।
কিসমিস স্বাস্থ্যকর হলো এটি সবার জন্য সমান উপযোগী নয়। শরীরের অবস্থা হজম
শক্তি ও দৈনন্দিন খাদ্যভাস বিবেচনা না করে নিয়মিত কিসমিস খেলে উপকারের বদলে
ক্ষতির সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই যাদের শরীরের সংবেদনশীল বা নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যগত
সীমাবদ্ধতা রয়েছে তাদের জন্য কিসমিস খাওয়ার আগে সতর্ক হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
যারা কিসমিস খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন যেমন
- ডায়াবেটিস রোগী
- ওজন কমাতে ইচ্ছুক ব্যক্তি
- গ্যাস্টিক ও পেটের সমস্যায় ভোগা মানুষ
- এলার্জি আছে এমন ব্যক্তি
- দাঁতের সমস্যা আছে যাদের
- ছোট শিশু
- লিভার সমস্যা আক্রান্ত ব্যক্তি
FAQ: প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্নঃ কিসমিস ভিজিয়ে খেলে কি হয়?
উত্তরঃ কিসমিস ভিজিয়ে খেলে পেট হালকা থাকে এবং সকালে মলত্যাগের সহজ হয়। এতে
শরীরের দ্রুত শক্তি আছে এবং সারাদিন ক্লান্ত কম লাগে।
প্রশ্নঃ প্রতিদিন কতটুকু কিসমিস খাওয়া উচিত?
উত্তরঃ প্রতিদিন কিসমিস খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিমাণ কম রাখার সবচেয়ে নিরাপদ।
সাধারণ এক মুঠো চার ভাগের এক ভাগের বেশি নয়। এতোটুকু কিসমিস শরীরের জন্য যথেষ্ট।
এতে শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তি ও পুষ্টি পায় আবার অতিরিক্ত চিনি বা ক্যালরি
ঝুঁকিও থাকে না। তাই কিসমিসকে প্রতিদিন হালকা পুষ্টিকর সাপোর্ট খাবার হিসাবে অল্প
পরিমাণে খাওয়া ভালো।
প্রশ্নঃ শুখনো কিসমিস না ভেজানো কিসমিস কোনটা ভালো?
উত্তরঃ ভেজানো কিসমিস শুকনো কিসমিস এর চেয়ে ভালো। কারণ এটি সহজে হজম হয়
এবং শরীরের পুষ্টির দ্রুত গ্রহণ করতে পারে। সো কোন কিসমিস তুলনামূলক ভারি বেশি
খেলে পেটের অস্বস্তি হতে পারে।
উপসংহার কিসমিস খাওয়ার ১০টি উপকারিতা এবং সঠিক নিয়ম
কিসমিস একটি স্বাস্থ্যকর ফল। এবং ১২ মাস বাজারে পাওয়া যায়। তবে দামটা
তুলনামূলকভাবে বেশি। কিসমিস খেলে আমাদের স্বাস্থ্যের উপকারিতা হয় সেরকমই
অতিরিক্ত খেলে আমাদের শরীরের ক্ষতির ও কারণ হয়। তাই আমাদের স্বাস্থ্য সচেতন দিক
থেকে ফল খাওয়ার সময় অবশ্যই সঠিক নিয়ম এবং পরিমাণ মত খাব। এতে করে আমাদের
স্বাস্থ্য ভালো থাকবে এবং কাজও করতে পারব সঠিকভাবে।
উপরে কিসমিস খাওয়ার ১০টি উপকারিতা এবং সঠিক নিয়ম সব বিষয়ে আলোচনা করেছি। আসুন
সকলে স্বাস্থ্যের দিকে সচেতন হয় এবং খাদ্যের তালিকায় পুষ্টিকর খাবার গুলো রাখার
চেষ্টা করি। যাতে করে শরীর ও স্বাস্থ্য এর পাশাপাশি মনও ভালো থাকে। আর্টিকেল পড়ে
আপনার যদি কোন মতামত থাকে তাহলে কমেন্ট বক্সে জানান ধন্যবাদ।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url