থানকুনি পাতা খাওয়ার উপকারিতা এবং অপকারিতা

আমরা সবাই সুস্থ থাকতে চাই। আর সুস্থ থাকার জন্য আমরা কমবেশি চেষ্টা করি। এমনকি সকালে ব্যায়াম করা খাদ্য অভ্যাস নিয়ম করে খাওয়া এবং বিভিন্ন অসুখ থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে থাকে। তারপরও আমাদের শরীরে বিভিন্ন রকমের অশোক বাসা বাঁধে।তাই নিজেকে সুস্থ রাখার জন্য কৃত্রিম সেবার পাশাপাশি প্রাকৃতিক সেবাও প্রয়োজন।

থানকুনি-পাতা-খাওয়ার-উপকারিতা

সেরকম একটি প্রাকৃতিক ভেষজ উদ্ভিদের নাম হচ্ছে থানকুনি পাতা। থানকুনি পাতা খেলে আমাদের স্বাস্থ্য কে বিভিন্ন দিক থেকে নিরাপদ রাখে। থানকুনি পাতা খাওয়ার উপকারিতা অনেক রয়েছে। এবং অতিরিক্ত খেলে এর অপকারিতা রয়েছে চলুন সেগুলো বিস্তারিত জানি।

থানকুনি পাতা কি এবং থানকুনি পাতার পুষ্টি গুণ সম্পর্কে

থানকুনি পাতা যা বৈজ্ঞানিক নাম Centella asiatica নামে পরিচিতি। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উষ্ণম মন্ডলের অঞ্চলের জন্ম। বাংলাদেশের এটি সাধারণত স্যাঁৎসাতে জমিতে নদীর পাড়ে বা খোলা মাঠে সহজে পাওয়া যায়। আবার বাড়ির আঙিনায় ঝোপঝাড়ের ধানের ক্ষেতে বা আইলে এই গাছ জন্মাতে দেখা যায়। পাতাটি ছোট ও সবুজ মসৃণ এবং তাজা থাকলে ঘরোয়া চিকিৎসা সালাদ বা জুসে ব্যবহার করা হয়। বহু প্রাচীন চিকিৎসার পদ্ধতিতে থানকুনি পাতা ব্যবহার দেখা যায় যা বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত সমস্যা প্রতিরোধে সহায়ক হিসেবে পরিচিতি।

গুণের দিক থেকে থানকুনি পাতা একটি প্রাকৃতিক উপহার। এতে রয়েছে ভিটামিন এ যা চোখের স্বাস্থ্য এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ভিটামিন বি ও সি সমৃদ্ধ এই পাতা দেহের কোষকে শক্তিশালী রাখে এবং ত্বককে স্বাভাবিকভাবে সুস্থ রাখে। এছাড়াও থানকুনি পাতায় ক্যালসিয়াম ম্যাগনেসিয়াম লৌহ এবং পটাশিয়ামের মত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ রয়েছে যাহার ও দাঁতের মজবুত করতে রক্ত তৈরি করতে কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

সামগ্রিকভাবে থানকুনি পাতা একটি প্রাকৃতিক ওষুধ উদ্ভিদ যা শারীরিক সুস্থতা ত্বক ও চুলের যত্ন এবরক প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত এবং সঠিকভাবে খেলে এটি দেহকে সুস্থ প্রানবন্ত এবং রোগমুক্ত রাখতে সাহায্য করে। আসুন প্রতিদিন নিয়ম করে থানকুনি পাতা খাওয়ার উপকারিতা গুলো নিচে জানি। আর সেই সাথে অতিরিক্ত থানকুনি পাতা খাওয়ার ফলে স্বাস্থ্যের কি কি ক্ষতি হয় তা জানি।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে

আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য রক্ত স্বাভাবিক রাখা প্রয়োজন। শরীরের রক্তনালী আছে তার ভিতরে রক্ত যদি স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে না পারে তাহলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হবে। এমনকি উচ্চ রক্তচাপের কারণে বড় ধরনের থাকে। বেশি বা কম রক্ত থাকলে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই আমাদের সুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। এজন্য আপনি থানকুনি পাতা খেতে পারেন। উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন আধুনিক সময়ের একটি সাধারণ সমস্যা।

যা হৃদয় ও রক্তনালী স্বাস্থ্যের উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। থানকুনি পাতা নিয়ম করে ব্যবহার করলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের সাহায্য করতে পারে। এতে থাকা প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও খনিজ উপাদান বিশেষ করে পটাশিয়াম রক্তনালী সুস্থতা বজায় রাখতে এবং রক্ত প্রহাবকে সহজ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আরো পড়ুনঃ কিসমিস খাওয়ার ১০ টি উপকারিতা

থানকুনি পাতা উপাদান রক্তনালীর পেশি সিথিল করতে সাহায্য করে যার ফলে রক্তচাপ স্বাভাবিক মাত্রায় পৌঁছায়। এ ছাড়া এটি দেহের ব্যথা কমাতে এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক যা দীর্ঘ মিয়াদি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। নিয়ম করে পরিমাণ মতো থানকুনি পাতা খেলে খাদ্য ভাস ও জীবনধারার সাথে এটি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের একটি প্রাকৃতিক সমাধান হিসেবে কাজ করতে পারে।

হরমোন স্বাভাবিক রাখে

আমাদের সুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই আমাদের হরমোন স্বাভাবিক রাখা প্রয়োজন। কারণ হরমোন যদি স্বাভাবিক না থাকে তাহলে সুস্থ ভাবে বাঁচা সম্ভব নয়। যার কারণে আমাদের বিভিন্ন রোগের সম্মুখন করতে হয়। এজন্য আপনি নিয়ম করে থানকুনি পাতা খেতে পারেন। থানকুনি পাতা দের হরমোন ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে যা সামগ্রিক শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে থাকা প্রাকৃতিক ফাইটোকেমিক্যাল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান শরীরের হরমোন উৎপাদন প্রক্রিয়াকে সহজ করে এবং হরমোনের অপ্রতিসমতা কমায়।

বিশেষ করে থাইরয়েডের প্রজনন ও স্ট্রেস হরমোনের ভারসাম্য রক্ষায় থানকুনির পাতার ভূমিকা লক্ষণীয়। নিয়ম করে এবং সঠিক পরিমাণে থানকুনি পাতা ব্যবহার করলে হরমোন জনিত সমস্যা যেমন মুড সুইং ক্লান্তি অনিয়মিত মাসিক চক্র বা স্ট্রেস বৃদ্ধি কিছুটা নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব।এছাড়া এটি রক্তের শর্করার নিয়ন্ত্রণে অবদান রাখে যা হরমোনের কার্যকারিতা সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে থানকুনি পাতা প্রাকৃতিকভাবে দেহকে ভারসাম্যপূর্ণ রাখার পাশাপাশি মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য ও সমর্থন করেন।

শারীরিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত উপকারিতা

থানকুনি পাতা খাওয়ার উপকারিতা হলো শারীরিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান করা। থানকুনি পাতা শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি প্রাকৃতিক উদ্ভিদ। এটি নিয়ম মতন খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় কারণ পাতায় থাকা ভিটামিন সি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট দেহের কোষকে ক্ষয় ও সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। সাহায্য করে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য বজায় রাখে যা পুরো দেহের পুষ্টি শোষণ প্রক্রিয়াকে উন্নত করে।

থানকুনি পাতা দেহের প্রদাহ কমাতে কার্যকর। শরীরের প্রদাহ কমলে জয়েন্টের ব্যথা সংক্রমণ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ জনিত রোগের ঝুঁকি কমে যায়। এছাড়া এটি লিভার ও কিডনির কার্যক্ষমতা উন্নত করে এবং দেহের ডিটক্সিফিকেশন প্রক্রিয়াকে সহায়তা করে যার ফলে শরীরের টক্সিন দূর হয় এবং সার্বিক শরীরকে স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে। শরীরকে স্বাভাবিকভাবে সুস্থ রাখতে হলে থানকুনি পাতার খাওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাবার এবং হালকা ব্যায়াম আর সেই সাথে জীবন চলার কিছু নিয়ম পরিবর্তন করতে হবে। তাহলে আমাদের জীবনটা আনন্দময় ও স্বাভাবিক।

থানকুনি পাতা আমাদের শরীরের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ও বিভিন্ন ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে। এজন্য থানকুনি পাতা নিয়ম করে এবং ব্যবহারগুলো জেনে খাওয়া উচিত। তবে যাদের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা আছে তারা ডাক্তারের পরামর্শ অবশ্যই নিবেন। থানকুনি পাতা হচ্ছে একটি ভেষজ উদ্ভিদ যা ওষুধে কাজ হিসেবে পরিচিতি। এই থানকুনি পাতা ওষুধ খেলে আমাদের কোন খরচ হবে না। এটা বিনা পয়সা খরচ করে একটি ওষুধ যা আমাদের শারীরিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারবে।

চর্ম ও সৌন্দর্য সংক্রান্ত উপকারিতা

বর্তমানে মেয়েরা ত্বককে সুন্দর করার জন্য কৃত্রিম প্রসাধনী ব্যবহার করে। এবং নিজেকে লাবণ্যময় করার জন্য বাজার থেকে কেমিকালযুক্ত প্রোডাক্ট নিয়ে এসে স্কিনে ব্যবহার করছে। যেটা ব্যবহারের ফলে স্কিনের সমস্যা হচ্ছে। এমনকি স্কিন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই প্রোডাক্ট গুলো ব্যবহার করে ত্বকের দীর্ঘমেয়াদি লাবণ্য থাকে না। তাই চর্ম ও সৌন্দর্য ধরে রাখার জন্য থানকুনি পাতা হচ্ছে নিরাপদ। থানকুনি পাতা ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য প্রাকৃতিক এক ছোট উপহার। এটি নিয়ম করে ব্যবহার করলে ত্বক শুধু সুন্দর করে না বরং প্রাকৃতিকভাবে সজীব ও মসৃণ রাখে।

থানকুনি পাতায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং জীবানু নাশক উপাদান ত্বকের কোষ পুনঃনির্মাণে সাহায্য করে। যার ফলে ত্বক হবে দাগ ব্রণ ও ব্যথা কমায়। নিয়ম করে থানকুনি পাতা রস বা বেস্ট ব্যবহার করলে ত্বক হালকা ও উজ্জ্বল দেখায় আর এটি প্রাকৃতিক আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ত্বকের পাশাপাশি থানকুনি পাতা চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চুলের গোড়া শক্ত করতে চুল ঘন করতে এবং স্বাস্থ্যবান রাখতে থানকুনি পাতা হবে নিরাপদ সমাধান। অনেকে আছে যারা থানকুনি পাতা জুস বা পেস্ট ব্যবহার করে প্রাকৃতিক চুলের কন্ডিশন হিসেবে ব্যবহার করে চুলের উপকার পায়।

নিয়মিত ব্যবহারে মানসিক ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে সহায়ক। মানুষকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে সুন্দর ও সুস্থ ত্বক। থানকুনি পাতা এ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এটি একটি সহজ প্রাকৃতিক এবং নিরাপদ উপায় যা কোন কৃত্রিম না রাসায়নিক ছাড়া ত্বক ও চুলের যত্ন নেই। তাই আমাদের সকলের উচিত কৃত্রিম প্রসাধনী ব্যবহার না করে যেগুলো প্রাকৃতিক উপায় বা ভেষজ উদ্ভিদ সেগুলো ব্যবহার করে চর্ম ও সৌন্দর্য দুটোই ভালো রাখার চেষ্টা করি।

অন্যান্য স্বাস্থ্যের উপকারিতা

থানকুনি পাতা খাওয়ার উপকারিতা উপরে জানলাম। এখন আমরা জানবো থানকুনি পাতা খাওয়ার অন্যান্য স্বাস্থ্য উপকারিতা গুলো। হুম থানকুনি পাতা শুধু ত্বক চুল বা শারীরিক শক্তি বাড়াতে সীমাবদ্ধ নয় বরং এটি শরীরের বিভিন্ন ভেতরের প্রক্রিয়াকে সহায়ক করে। এটি লিভারের কার্যক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করে ফলে শরীরে বিষাক্ত পদার্থ দ্রুত দূর হয় বিভিন্ন প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করে। এছাড়াও থানকুনি পাতায় থাকায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান শরীরের প্রদাহ কমাতে কার্যকর। নিয়মিত ব্যবহার করলে জয়েন্টের ব্যথা মাংসপেশির জ্বালা এবং দীর্ঘমেয়াদী ব্যথার সমস্যা কমাতে পারে।

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় থানকুনি পাতার বিশেষ ভূমিকা লক্ষণীয়। থানকুনি পাতা খাওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাবার পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত ব্যায়াম অধিক কার্যকর। আর আমাদের সুস্থ রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে পর্যাপ্ত পানি পান করা। এগুলো যদি সঠিকভাবে করা যায় তাহলে আমরা সুস্থ থাকতে পারবো। তাই আমাদের সকলের অনিয়মিত চলাফেরা এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম সুস্থ থাকতে হলে প্রয়োজন। তাই থানকুনি পাতা খাওয়ার পাশাপাশি এগুলো করাও গুরুত্বপূর্ণ।

থানকুনি পাতা শারীরিক সুস্থতা রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা হরমোনের ভারসাম্য এবং ভেতরের অঙ্গ পতঙ্গর কার্যক্ষমতা উন্নত করার জন্য এটি প্রাকৃতিক ও নিরাপদ উপায় হিসেবে কাজ করে। তাই নিয়ম করে এবং পরিমাণ মতো ব্যবহার মানুষের জীবনযাত্রাকে স্বাস্থ্যসম্মত ও সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। তাই ভালো থাকতে হলে অবশ্যই আমাদের জীবন যাপনের নিয়ম এবং স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়া প্রয়োজন।

অতিরিক্ত থানকুনি পাতা খাওয়ার অপকারিতা

যদিও থানকুনি পাতা স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তবুও অতিরক্ত খেলে কিছু সমস্যা সম্মুখীন হতে হয়। বেশি পরিমাণে থানকুনি পাতা খেলে পেটে গ্যাস পেট ফোলা বদহজম বা হালকা পেটের ব্যথার মত সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে সংবেদনশীল পেটের মানুষ বা শিশুদের ক্ষেত্রে এটি আরো বেশি সমস্যা তৈরি করতে পারে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে থানকুনি পাতা খেলে এলার্জি বা ত্বকের র‍্যাশের মতো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। প্রথমবার বা অতিরক্ত ব্যবহার করলে এই ধরনের সংবেদনশীলতা দেখা দিতে পারে তাই শুরুতে সতর্কভাবে খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

এছাড়াও যাদের ডায়াবেটিস উচ্চ রক্তচাপ কিডনি বা লিভারের সমস্যা আছে তাদের জন্য অতিরিক্ত থানকুনি পাতা স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এই ক্ষেত্রে ডাক্তার বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেয়া জরুরী। থানকুনি পাতা খাওয়া নিরাপদ হলো পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ এবং সঠিক ব্যবহারের নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন। নিয়মিত ও পরিমাণমতো খেলে এটি শরীরকে সুস্থ ও সতেজ রাখে আর অতিরিক্ত ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব এড়ানো যায়। 

থানকুনি পাতা সঠিকভাবে খাওয়ার নিয়ম

থানকুনি পাতা সঠিক ব্যবহার স্বাস্থ্যের উপকারিতা সর্বাধিক থেকে সাহায্য করে। সাধারণত দিনে ৫-১০ স্থির ছোট পাতার পরিমাণ যথেষ্ট যা কাঁচা খাওয়া যায় বা পানির সঙ্গে মিশিয়ে নেওয়া যায়। পাতার রস বের করে পানি দুধ বা হালকা জুসের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া হলে শরীরের দ্রুত শোষিত হয়। রান্না ব্যবহার করলে বেশি তেল বা লবণ ছাড়া ব্যবহার করা স্বাস্থ্যসম্মত। পাতার পেস্ট তৈরি করে মুখ মন্ডল বা ত্বকে লাগানো উপকারী তবে খাওয়ার সময় তার পরিমাণ সীমিত রাখা জরুরী।

থানকুনি পাতা সংরক্ষণের কিছু সতর্কতা প্রয়োজন। কাঁচা পাতা ফ্রিজে রাখলে ১-২ দিন পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। রস বা পেস্ট তৈরি করলে সেগুলো ফ্রিজের সংরক্ষণ করতে হবে এবং দীর্ঘ সময় ফ্রিজে রাখা ঠিক নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো যদি কারো কোন বিশেষ স্বাস্থ্য সমস্যা থাকে যেমন কিডনি লিভার উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস তাহলে ডাক্তার বা পুষ্টিবিদদের পরামর্শ নিয়ে থানকুনি পাতা খাওয়া উচিত। সঠিক পরিমাণ এবং নিয়মিতভাবে থানকুনি পাতা খেলে এটি দেহে স্বাস্থ্য রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা এবং সামগ্রী সুস্থতা বজায় রাখতে কার্যকর।

সতর্কতা ও পরামর্শ

থানকুনি পাতা খাওয়ার উপকারিতা এবং অপকারিতা রয়েছে। তেমনি থানকুনি পাতা খাওয়ার কিছু সতর্কতা ও পরামর্শ জানাও প্রয়োজন। থানকুনি পাতা স্বাস্থ্যসম্মত হল সঠিকভাবে ব্যবহারের জন্য কিছু সতর্কতা মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ। গর্ভবতী বা স্তনদানকারী মহিলাদের ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া থানকুনি পাতা খাওয়া উচিত নয়। কারণ অতিরিক্ত কিছু উপাদান মা এবং শিশু জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে পাতার ব্যবহার সীমিত পরিমাণে হওয়া উচিত যাতে তাদের সংবেদনশীল শরীরে কোন ক্ষতিকর প্রভাব না পড়ে।

আরো পড়ুনঃ কাঠবাদাম ভিজিয়ে খাওয়ার উপকারিতা

অতিরিক্ত থানকুনি পাতা খাওয়া এড়ানো জরুরী কারণ এটি হজমজনিত সমস্যার গ্যাস পেট ফোলা বা অ্যালার্জি সৃষ্টি করতে পারে। নিয়মিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিমাণ এবং সময়সূচী মেনে চললে থানকুনি পাতা শরীরের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য এবং সার্বিক সুস্থতা বজায় রাখতে কার্যকর হয়। তাই সুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই এর সতর্কতা ও পরামর্শ চলা উচিত।

উপসংহার থানকুনি পাতা খাওয়ার উপকারিতা এবং অপকারিতা

থানকুনি পাতা একটি প্রাকৃতিক ঔষধি উদ্ভিদ যা শরীরের স্বাস্থ্য চর্ম ও চুলের যত্ন এবং দেহের বিভিন্ন অঙ্গ পতঙ্গের সুস্থতায় সাহায্য করে। তবে এর সম্ভবত অপকারিতা এর হাতে সঠিক পরিমাণ ও নিয়মিত খায় এবং প্রয়োজনের চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। থানকুনি পাতা খাওয়ার উপকারিতা গুলো উপরে আলোচনা করেছি। তাই আসলে আজ থেকে সুস্থ থাকার জন্য আমরা চেষ্টা করব প্রাকৃতিক উপাদান স্বাস্থ্যসম্মত খাবার নিয়মিত ব্যায়াম এবং ভেষজ উদ্ভিদ গুলো ব্যবহার করা। আর সেই সাথে দৈনন্দিন জীবনের অভ্যাসগুলো চেঞ্জ করা ধন্যবাদ।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪